📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বিশ্বাস ও মূল্যবোধ

📄 বিশ্বাস ও মূল্যবোধ


আমরা দেখেছি রাসূল তাঁর সমাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সংঘাত সমাধানে চমৎকার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণির লোকদের সাথে তিনি বন্ধুত্ব করেছেন। আমরা দেখেছি তিনি ঘরে কেমন ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সাথে। সমাজের চাপে নিজের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেননি। নিজের বিশ্বাস নিয়ে তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা। শক্তিশালী মানুষ।

রাসূল তাঁর সমাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তাই বলে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মবিশ্বাস অন্ধের মতো গ্রহণ করেননি। এমন কোনো প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি মদ খাননি। জুয়া খেলেননি। কুরআন যেমনটা বলেছে তিনি ছিলেন 'উত্তম চরিত্রের পরাকাষ্ঠা'। এর ব্যত্যয় ঘটে এমন কিছু করেননি।

আসলে, তাঁর ধর্মবিশ্বাস সেসব সংখ্যালঘু ধার্মিকদের কাছাকাছি ছিল যারা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করত। আবার এটাও কিন্তু অন্ধঅনুকরণের কারণে না। যেমন কিছু মানুষ কৌতূহলবশে অন্যান্য ধর্ম পরখ করে দেখে; বরং কিশোর বয়সে বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে তাঁর সেই কথোপকথন থেকে বুঝা যায়, তখনকার সেই বিশ্বাস বাড়তে বাড়তে এই অবস্থায় এসেছে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 ধর্মচর্চা

📄 ধর্মচর্চা


নবি হওয়ার আগে রাসূল কোনো ধরনের ইবাদত করতেন কিনা সে ব্যাপারে তেমন জানা যায় না। মক্কার একেশ্বরবাদী ও বহুঈশ্বরবাদীরা যেসব উপাসনা করত, তার মধ্যে কিছু ছিল এক। যুগ যুগ ধরে নবি ইবরাহীম (আ) যেসব উপাসনা করতেন সেগুলোরই কিছু রূপ অবশিষ্ট ছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল-

প্রার্থনা: হাঁটুগেড়ে বসা এবং সিজদা করা। একেশ্বরবাদী যাইদ ইব্‌ন্ আমর এ ধরনের সিজদা করতেন বলে জানা যায়। সিজদায় তিনি বলতেন, 'ইবরাহীম যার কাছে আশ্রয় চাইতেন, আমিও তাঁর কাছে আশ্রয় চাই'।

• উপবাস: কুরাইশরা মুহাররাম মাসের দশ তারিখ উপবাস থাকত।
• হজ্জ: রাসূল কাবা তাওয়াফ করেছেন। সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে হেঁটেছেন। আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েছেন। এগুলো সবই হজ্জের অংশ। তবে যেসর ধর্মীয় রীতিগুলো স্পষ্টভাবে কুরাইশদের ছিল, তিনি সেগুলো করেননি।
• নির্জন সময় কাটানো: কুরাইশরা কখনো কখনো নির্জনতায় যেত প্রার্থনা করার জন্য। ইসলামে আসার আগে ওমর ইবনুল খাত্তাব কাবায় যেয়ে নির্জনে সময় কাটাতেন।

যেগুলোকে তিনি ইবরাহীম (আ)-এর ধর্মের অংশ দেখেছেন, সেগুলো নিয়েছেন। এগুলো পরে ইসলামে নিয়ে নেওয়া হয়।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন

📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন


রাসূল নিজের জন্য কিছু সময় আলাদা করতেন। পরিবার ও সবার থেকে দূরে, মক্কার প্রান্ত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এক পর্বত গুহায়। সাথে থাকত শুধু খাবার। সেখানে তিনি প্রতিদিন কী করতেন, তা নিয়ে কোনো রোজনামচা বা ডাইরি নেই। তবে তিনি নিজের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, অনুভূতি নিয়ে ভাবতেন। কখনো কখনো স্থিরদৃষ্টিতে কাবার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কারণ, অত উঁচু পাহাড় থেকে সহজেই কাবা দেখা যেত। পর্বতগুহাটি হেরা অথবা আলোর পাহাড় নামে পরিচিত। সাগরপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬২০ মিটার। ছোট একটা ফাটলমুখ দিয়ে গুহায় ঢুকতে হতো। ভেতরে একজন মানুষ দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কোনোমতে শুতে পারবে এমন জায়গা। অথচ এমন জায়গাতেই রাসূল একমাস নাগাদ কাটিয়েছেন। জায়গাটি ছিল নিস্তব্ধ। রাতে আরও বেশি।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের জন্য সময়

📄 নিজের জন্য সময়


ঘুপচি এক গুহায় একাকী দুনিয়া থেকে আলাদা হয়ে থাকা কোনো মজার কাজ বলে বেশিরভাগ লোকেরই মনে হবে না। ঘরে কিংবা মসজিদে নির্জন সময় তা-ও কাটানো যায়। কিন্তু লোকালোয় থেকে এমন জনমানবহীন জায়গায় ভাবাই যায় না এখন। কিন্তু রাসূল নিয়মিত তা করেছেন।

একসময় বছরে পুরো এক মাস। ভয় পাননি। একঘেয়ে লাগেনি। কারণ তাঁর মধ্যে গভীর ভাবনায় ডুবে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল।

আজকের যুগে এমন মানুষ পাওয়া দুর্লভ। গোটা দুনিয়া আজ নেটওয়ার্কের আওতায়। এখন একা থাকা মানে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ধাঁধানো স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা। চিন্তাভাবনার উদ্দেশ্যে নির্জনে থাকা এর থেকে পুরো আলাদা।

কেউ আবার ভুল বুঝবেন না যে, আপনাদেরকে সমাজ ছেড়ে একঘরে হয়ে যেতে বলা হচ্ছে। রাসূল বেশ ভালোভাবেই তাঁর সমাজের অংশ ছিলেন। আমরা আগে দেখেছি; বরং, নিজের জন্য নির্জনে কাটানোর সময় বের করুন ভাবনাচিন্তা করার জন্য।

মোবাইল ফোন আমাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে গিলে ফেলেছে। কোথায় নেই সে। গাড়ি দুর্ঘটনার কারণ থেকে শুরু করে মসজিদে সালাতরত অবস্থায় টাং করে বেজে ওঠা। সবজায়গায় সে। গোটা পরিবার এক ছাদের নিচে, কিন্তু সবাই যে যার মতো মুঠোফোন নিয়ে মশগুল।

রাসূল -এর উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হোন। কীভাবে তিনি একাকী বা একঘেয়ে না-হয়েও নির্জনতা উপভোগ করেছিলেন। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের মতো সবধরনের বাগড়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর কমপক্ষে এক ঘণ্টা ভাবনাচিন্তা করুন। নিজের ভেতরটাকে জানুন।

আমরা এই অধ্যায়ের শেষে চলে এসেছি। আমরা বলেছি কীভাবে তিনি গভীরভাবে সমাজের সাথে জড়িত ছিলেন সমস্যার সমাধানে। খাদিজা (রা)-এর সাথে বিয়ের মূল প্রেরণা ছিল মমতা ও দয়া। বলেছি তিনি কেমন স্বাধীনচেতা ও চিন্তাপ্রবণ মানুষ ছিলেন।

নিচের টেবিল আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে রাসূল -এর তরুণ ও যুবক বয়স থেকে আপনি কী কী গুরুত্বপূর্ণ উপকার পেতে পারেন-

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00