📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বিয়ে ও পরিবার

📄 বিয়ে ও পরিবার


আমরা এখন রাসূল -এর বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলব। মুসলিম পাঠকদের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরব। তবে আমরা এখানে দেখব তাঁর বিবাহিত জীবনের কোন কোন দিকগুলো আমাদের বৈবাহিক জীবনে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। সম্পর্কে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের বিয়েতে স্পার্ক আনতে পারি।

বিয়ের সময় রাসূল -এর বয়স ছিল ২৫। খাদিজা (রা)-এর বয়স প্রায় ৪০। এরপরও তিনি আকর্ষণীয় ছিলেন। সমাজে সম্মানিত ছিলেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সফল নারী ব্যবসায়ী ছিলেন।

দাদার বাড়িতে রাসূল দুবছর কাটিয়েছিলেন। ১৭ বছর কাটিয়েছেন চাচার বাসায়। আর বিয়ের পর ২৮ বছর তিনি তাঁর স্ত্রীর বাড়িতে ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সে যখন তিনি হিজরত করেন তখন এই বাসা ছাড়েন। খাদিজা (রা) তাঁর জীবনে যে কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এ থেকে তা বুঝা যায়।

১৯৮৯ সালে খনন করার কারণে, আমরা এখন খাদিজার বাড়ির বিস্তারিত জানি। এক তলা বাড়ি। দুটো বেডরুম। রাসূল আর তাঁর স্ত্রীর জন্য ২০ ফুট বাই ১৩ ফুট মাস্টার বেডরুম। ২৩ ফুট বাই ১৩ ফুটের আরেকটা বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য। ৩০ ফুট বাই ১৩ ফুটের আরেকটা রুম ছিল অতিথিদের জন্য। সবচেয়ে বড় রুমটা ছিল ৫২ ফুট বাই ২৩ ফুট। ওটা ছিল খাদিজার ব্যবসায়িক মালামাল রাখার জায়গা। রাসূল -ও সেখানে তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র রাখতেন হয়ত।

খাদিজা (রা)-এর বাসায় ২৮ বছর থাকা অবস্থাতেই তাঁর বেশিরভাগ সন্তানের জন্ম হয়। প্রথম অহী তিনি এখানেই পান।

তবে নিজের সন্তান হওয়ার আগেই রাসূল -কে কিন্তু সন্তান পালনের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এর আগে খাদিজার দুবার বিয়ে হয়েছিল। এবং সেখানে তার দুজন ছেলে ছিল। নিজের ছেলের মতো রাসূল হিন্দকে মানুষ করেছেন। সৎবাবা শুনলে আমাদের সময়ে বাবা নিয়ে যে নেতিবাচক চিত্র মাথায় আসে, তিনি অমনটা ছিলেন না।

স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব আর স্ত্রীর অধিকার থেকে তিনি খাদিজার সাথে আচরণ করেননি; বরং ব্যবহার ছিল নিজের পুণ্যগুণে। বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

'তোমাদের মধ্যকার দয়ামমতা ভুলে যেয়ো না'। বাকারা: ২৩৭

দয়াপরবশ হয়েই খাদিজা (রা) রাসূল-এর চাচাতো ভাই আলীকে তাদের সাথে রাখতে রাজি হয়েছিলেন। তিনিও তাকে নিজের ছেলের মতো দেখেছেন। এমনকি ফাতিমার সাথে তার বিয়ে হওয়ার পরও। আলীও তাকে মায়ের মতো দেখেছেন। শাশুড়ির মতো না। শাশুড়ি শব্দটাও আজকাল বেশিরভাগ জায়গায় নেতিবাচক চিত্র দেয়। সুখী বিবাহিত জীবনের রেসিপি হলো ভালোবাসা, সম্মান, পারস্পরিক বুঝাপড়া আর দয়ামায়া।

দম্পত্তিদের মধ্যে ভালো পারস্পরিক বুঝাপড়া সন্তানদের মাঝেও ছড়িয়ে যায়। যখন তারা বিয়ে করে তাদের মধ্যেও এটা কাজ করে। রাসূল ও তাঁর স্ত্রী যে-পরিবারে ছিলেন, আলী (রা) ও ফাতিমা (রা) তো সে পরিবারেই বড় হয়েছেন। তাদের পরিবারেও ছিল নবি-পরিবারের মতো স্থিতিশীল পরিবেশ। বুঝাপড়া। হাসান ও হুসাইন এমন সুন্দর পরিবেশেই মানুষ হয়েছেন।

হাসান ও হুসাইন (রা) যখন বিয়ে করেছেন, তাদের পরিবারেও ছিল একই চিত্রের প্রতিফলন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক বুঝাপড়া কেবল বারাকাই না, এক অমূল্য উপহার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, সন্তান থেকে নাতিপুতির মাঝে এই উপহার ছড়িয়ে যায়।

নিচের টেবিল থেকে দেখব কীভাবে আজকালকার দম্পত্তিরা রাসূল ও খাদিজার বিবাহিত জীবন থেকে শিখতে পারেন, কীভাবে তারা একে অপরের সাথে আচরণ করবেন।

| রাসূল স্বামী | |
| :--- | :--- |
| রাসূল ঘরের কাজকর্মে সহযোগিতা করতেন। | স্বামী ঘরের কাজে সাহায্য করুন। এমনটা ভাববেন না যে এতে আপনার পুরুষ পুরুষ ভাব চলে যাবে। |
| আপনার চাকরি যত চাপেরই হোক না কেন, সন্তানদের সময় দিন। তাদের দেখভালের দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেবেন না। | রাসূল কিন্তু প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তারপরও সন্তানদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার জন্য অনেক সময় কাটিয়েছেন। |
| খাদিজা (রা)-এর পরিবার ও আত্মীয়ের প্রতি রাসূল অনেক সহৃদয় ছিলেন। তিনি তার আগের ঘরের সন্তান হিন্দ ও তার বোন হালার দেখভাল করেছেন। খাদিজা (রা)-এর ভাগ্নে হাকিমের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। | খাদিজা (রা) শ্বশুড় বাড়ির আত্মীয়দের সাথে দয়ামায়া রাখুন। আপনি তাদের বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারেন, উপহার দিতে পারেন। ভালো আচরণ করতে পারেন। ইত্যাদি। |
| **স্ত্রী** | |
| ঘরে তিনি শান্ত ও ভালোবাসাময় পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। আর তাই তো আল্লাহ তাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, জান্নাতে তার জন্য বিশেষ জায়গা থাকবে। | ঘরে স্বস্তিজনক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করুন। এটা সবার মধ্যকার সম্পর্ক, মনমানসিকতা আর মেজাজের ওপর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। |
| বাসার বাইরে রাসূল একাকী সময় কাটাতেন, এটা নিয়ে তিনি সংশয়ী হননি; বরং তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। | আপনার স্বামীর প্রয়োজন বুঝুন। তাকে আরও ভালো হতে সাহায্য করুন। স্বামীরও এমন করা উচিত। |
| রাসূল-এর পরিবার ও আত্মীয়ের ব্যাপারে তিনিও সহৃদয় ছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইব্‌ন্ আবী তালিবকে নিজের ছেলের মতোই দেখেছেন। | যতটা সম্ভব তার পরিবারের প্রতি সদয় হোন। তার বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করুন। ভালো আচরণ করুন। |

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বিশ্বাস ও মূল্যবোধ

📄 বিশ্বাস ও মূল্যবোধ


আমরা দেখেছি রাসূল তাঁর সমাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সংঘাত সমাধানে চমৎকার প্রস্তাব দিয়েছেন। বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণির লোকদের সাথে তিনি বন্ধুত্ব করেছেন। আমরা দেখেছি তিনি ঘরে কেমন ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সাথে। সমাজের চাপে নিজের আদর্শকে জলাঞ্জলি দেননি। নিজের বিশ্বাস নিয়ে তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা। শক্তিশালী মানুষ।

রাসূল তাঁর সমাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তাই বলে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মবিশ্বাস অন্ধের মতো গ্রহণ করেননি। এমন কোনো প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি মদ খাননি। জুয়া খেলেননি। কুরআন যেমনটা বলেছে তিনি ছিলেন 'উত্তম চরিত্রের পরাকাষ্ঠা'। এর ব্যত্যয় ঘটে এমন কিছু করেননি।

আসলে, তাঁর ধর্মবিশ্বাস সেসব সংখ্যালঘু ধার্মিকদের কাছাকাছি ছিল যারা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করত। আবার এটাও কিন্তু অন্ধঅনুকরণের কারণে না। যেমন কিছু মানুষ কৌতূহলবশে অন্যান্য ধর্ম পরখ করে দেখে; বরং কিশোর বয়সে বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে তাঁর সেই কথোপকথন থেকে বুঝা যায়, তখনকার সেই বিশ্বাস বাড়তে বাড়তে এই অবস্থায় এসেছে।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 ধর্মচর্চা

📄 ধর্মচর্চা


নবি হওয়ার আগে রাসূল কোনো ধরনের ইবাদত করতেন কিনা সে ব্যাপারে তেমন জানা যায় না। মক্কার একেশ্বরবাদী ও বহুঈশ্বরবাদীরা যেসব উপাসনা করত, তার মধ্যে কিছু ছিল এক। যুগ যুগ ধরে নবি ইবরাহীম (আ) যেসব উপাসনা করতেন সেগুলোরই কিছু রূপ অবশিষ্ট ছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল-

প্রার্থনা: হাঁটুগেড়ে বসা এবং সিজদা করা। একেশ্বরবাদী যাইদ ইব্‌ন্ আমর এ ধরনের সিজদা করতেন বলে জানা যায়। সিজদায় তিনি বলতেন, 'ইবরাহীম যার কাছে আশ্রয় চাইতেন, আমিও তাঁর কাছে আশ্রয় চাই'।

• উপবাস: কুরাইশরা মুহাররাম মাসের দশ তারিখ উপবাস থাকত।
• হজ্জ: রাসূল কাবা তাওয়াফ করেছেন। সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে হেঁটেছেন। আরাফাতের ময়দানে দাঁড়িয়েছেন। এগুলো সবই হজ্জের অংশ। তবে যেসর ধর্মীয় রীতিগুলো স্পষ্টভাবে কুরাইশদের ছিল, তিনি সেগুলো করেননি।
• নির্জন সময় কাটানো: কুরাইশরা কখনো কখনো নির্জনতায় যেত প্রার্থনা করার জন্য। ইসলামে আসার আগে ওমর ইবনুল খাত্তাব কাবায় যেয়ে নির্জনে সময় কাটাতেন।

যেগুলোকে তিনি ইবরাহীম (আ)-এর ধর্মের অংশ দেখেছেন, সেগুলো নিয়েছেন। এগুলো পরে ইসলামে নিয়ে নেওয়া হয়।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন

📄 চিন্তাভাবন ও ব্যস্ত জীবন


রাসূল নিজের জন্য কিছু সময় আলাদা করতেন। পরিবার ও সবার থেকে দূরে, মক্কার প্রান্ত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে এক পর্বত গুহায়। সাথে থাকত শুধু খাবার। সেখানে তিনি প্রতিদিন কী করতেন, তা নিয়ে কোনো রোজনামচা বা ডাইরি নেই। তবে তিনি নিজের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, অনুভূতি নিয়ে ভাবতেন। কখনো কখনো স্থিরদৃষ্টিতে কাবার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কারণ, অত উঁচু পাহাড় থেকে সহজেই কাবা দেখা যেত। পর্বতগুহাটি হেরা অথবা আলোর পাহাড় নামে পরিচিত। সাগরপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৬২০ মিটার। ছোট একটা ফাটলমুখ দিয়ে গুহায় ঢুকতে হতো। ভেতরে একজন মানুষ দাঁড়ানো তো দূরের কথা, কোনোমতে শুতে পারবে এমন জায়গা। অথচ এমন জায়গাতেই রাসূল একমাস নাগাদ কাটিয়েছেন। জায়গাটি ছিল নিস্তব্ধ। রাতে আরও বেশি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00