📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের সমাজের সাথে মিশুন

📄 নিজের সমাজের সাথে মিশুন


সমাজের সুযোগ সুবিধাগুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। মানুষের সাথে মিশুন। পরিবেশ ভালো না, এমন অভিযোগ করে দূরে পড়ে থাকবেন না। আপনি আপনার নিজের উন্নতির জন্য উদ্ভাবনীমূলক উপায় খুঁজুন। নিজের উদ্যোগে যতটুকু পারুন আশপাশ বদলে দিন। রাসূল বাজার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হননি। আবার তাতে ডুবেও যাননি; বরং তিনি তাঁর আদর্শ বজায় রেখেছেন। চলাফেরার জন্য তাঁর মতো মানুষ পেয়েছেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বন্ধুবান্ধব

📄 বন্ধুবান্ধব


খুব সতর্কতার সাথে রাসূল তাঁর বন্ধুদের বাছাই করেছেন। সুশিক্ষিত শ্রদ্ধাবান লোকদের বন্ধু হয়েছেন। আমরা এখন রাসূল-এর কিছু বন্ধুবান্ধবদের নিচে তুলে ধরব-

* আবু বকর আস-সিদ্দীক: তিনি কখনো মদ খাননি। মূর্তিপূজা করেননি। তারপরও তিনি সামাজিক ছিলেন। সমাজে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
* হাকিম ইব্‌ন্ হিযام: বুদ্ধিমান ও দানশীল নেতা যিনি হাজিদের মেহমানদারি করতেন।
* জাব্রা আর-রুমি: সুশিক্ষিত, বহুভাষী খ্রিষ্টান, ধর্মগ্রন্থের প্রতি জ্ঞানের ব্যাপারে যিনি জ্ঞানী ছিলেন। আগেই বলেছি, আল্লাহ তায়ালা তার ব্যাপারে বলেন, 'তারা বলে, 'নবিকে তো কেবল একটা লোক এসব শেখায়'। আন নাহল: ১০৩

রাসূল আরব, বিদেশি, মূর্তিপূজারি ও খ্রিষ্টানদের সাথে মিশেছেন। বিভিন্ন বয়সী বন্ধু ছিল তাঁর। যেমন হাকিম তাঁর চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিল। আবু বকর ছিল দুবছর ছোট। তাঁর বন্ধুবান্ধব সবাই ছিল সম্মানিত ও ভালো মানুষ।

কাদেরকে বন্ধু বানাবেন সে ব্যাপারে বিচক্ষণ হোন। ভালো লোকদের ভালোভাবে চিনুন। আজকাল বন্ধুবান্ধব বানানোর বিষয়টা বদলে গেছে। মূল আকর্ষণ একই আগ্রহের লোকদের সাথে বন্ধুত্ব পাতানোর আইভিয়ার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি ফেইসবুক, টুইটার আর লিঙ্কড ইনের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো। একজনকে বন্ধু বানালে আরও দশজন বন্ধু হওয়ার দরজা খুলে যায় এখানে। কার সাথে প্রথম দেখা হচ্ছে- শুধু এটাই চ্যালেঞ্জ না। সে যে তার সাথে করে আরও বড় নেটওয়ার্ক নিয়ে আসছে সেটাও চ্যালেঞ্জ। সুতরাং সতর্কতার সাথে আপনার নেটওয়ার্ক বাছাই করুন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বন্ধু নির্বাচনের সময় যা খেয়াল রাখবেন

📄 বন্ধু নির্বাচনের সময় যা খেয়াল রাখবেন


* বৈচিত্র্য আনুন। শুধু নিজের বলয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেন না।
* সম্পর্ক বাড়ান। প্রতিটা সম্পর্কের মধ্যে ভালো-খারাপ সময় যায়। সম্পর্ক বেশি হলে খারাপ সময়ে একাকী মনে হবে না নিজেকে।
* কারও সাথে বন্ধুত্ব রিভিউ করুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন এই বন্ধুত্বের কারণে আমি কি আগের চেয়ে ভালো হচ্ছি?

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বিয়ে ও পরিবার

📄 বিয়ে ও পরিবার


আমরা এখন রাসূল -এর বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলব। মুসলিম পাঠকদের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরব। তবে আমরা এখানে দেখব তাঁর বিবাহিত জীবনের কোন কোন দিকগুলো আমাদের বৈবাহিক জীবনে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। সম্পর্কে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের বিয়েতে স্পার্ক আনতে পারি।

বিয়ের সময় রাসূল -এর বয়স ছিল ২৫। খাদিজা (রা)-এর বয়স প্রায় ৪০। এরপরও তিনি আকর্ষণীয় ছিলেন। সমাজে সম্মানিত ছিলেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সফল নারী ব্যবসায়ী ছিলেন।

দাদার বাড়িতে রাসূল দুবছর কাটিয়েছিলেন। ১৭ বছর কাটিয়েছেন চাচার বাসায়। আর বিয়ের পর ২৮ বছর তিনি তাঁর স্ত্রীর বাড়িতে ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সে যখন তিনি হিজরত করেন তখন এই বাসা ছাড়েন। খাদিজা (রা) তাঁর জীবনে যে কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এ থেকে তা বুঝা যায়।

১৯৮৯ সালে খনন করার কারণে, আমরা এখন খাদিজার বাড়ির বিস্তারিত জানি। এক তলা বাড়ি। দুটো বেডরুম। রাসূল আর তাঁর স্ত্রীর জন্য ২০ ফুট বাই ১৩ ফুট মাস্টার বেডরুম। ২৩ ফুট বাই ১৩ ফুটের আরেকটা বাচ্চাকাচ্চাদের জন্য। ৩০ ফুট বাই ১৩ ফুটের আরেকটা রুম ছিল অতিথিদের জন্য। সবচেয়ে বড় রুমটা ছিল ৫২ ফুট বাই ২৩ ফুট। ওটা ছিল খাদিজার ব্যবসায়িক মালামাল রাখার জায়গা। রাসূল -ও সেখানে তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র রাখতেন হয়ত।

খাদিজা (রা)-এর বাসায় ২৮ বছর থাকা অবস্থাতেই তাঁর বেশিরভাগ সন্তানের জন্ম হয়। প্রথম অহী তিনি এখানেই পান।

তবে নিজের সন্তান হওয়ার আগেই রাসূল -কে কিন্তু সন্তান পালনের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এর আগে খাদিজার দুবার বিয়ে হয়েছিল। এবং সেখানে তার দুজন ছেলে ছিল। নিজের ছেলের মতো রাসূল হিন্দকে মানুষ করেছেন। সৎবাবা শুনলে আমাদের সময়ে বাবা নিয়ে যে নেতিবাচক চিত্র মাথায় আসে, তিনি অমনটা ছিলেন না।

স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব আর স্ত্রীর অধিকার থেকে তিনি খাদিজার সাথে আচরণ করেননি; বরং ব্যবহার ছিল নিজের পুণ্যগুণে। বৈবাহিক সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

'তোমাদের মধ্যকার দয়ামমতা ভুলে যেয়ো না'। বাকারা: ২৩৭

দয়াপরবশ হয়েই খাদিজা (রা) রাসূল-এর চাচাতো ভাই আলীকে তাদের সাথে রাখতে রাজি হয়েছিলেন। তিনিও তাকে নিজের ছেলের মতো দেখেছেন। এমনকি ফাতিমার সাথে তার বিয়ে হওয়ার পরও। আলীও তাকে মায়ের মতো দেখেছেন। শাশুড়ির মতো না। শাশুড়ি শব্দটাও আজকাল বেশিরভাগ জায়গায় নেতিবাচক চিত্র দেয়। সুখী বিবাহিত জীবনের রেসিপি হলো ভালোবাসা, সম্মান, পারস্পরিক বুঝাপড়া আর দয়ামায়া।

দম্পত্তিদের মধ্যে ভালো পারস্পরিক বুঝাপড়া সন্তানদের মাঝেও ছড়িয়ে যায়। যখন তারা বিয়ে করে তাদের মধ্যেও এটা কাজ করে। রাসূল ও তাঁর স্ত্রী যে-পরিবারে ছিলেন, আলী (রা) ও ফাতিমা (রা) তো সে পরিবারেই বড় হয়েছেন। তাদের পরিবারেও ছিল নবি-পরিবারের মতো স্থিতিশীল পরিবেশ। বুঝাপড়া। হাসান ও হুসাইন এমন সুন্দর পরিবেশেই মানুষ হয়েছেন।

হাসান ও হুসাইন (রা) যখন বিয়ে করেছেন, তাদের পরিবারেও ছিল একই চিত্রের প্রতিফলন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক বুঝাপড়া কেবল বারাকাই না, এক অমূল্য উপহার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, সন্তান থেকে নাতিপুতির মাঝে এই উপহার ছড়িয়ে যায়।

নিচের টেবিল থেকে দেখব কীভাবে আজকালকার দম্পত্তিরা রাসূল ও খাদিজার বিবাহিত জীবন থেকে শিখতে পারেন, কীভাবে তারা একে অপরের সাথে আচরণ করবেন।

| রাসূল স্বামী | |
| :--- | :--- |
| রাসূল ঘরের কাজকর্মে সহযোগিতা করতেন। | স্বামী ঘরের কাজে সাহায্য করুন। এমনটা ভাববেন না যে এতে আপনার পুরুষ পুরুষ ভাব চলে যাবে। |
| আপনার চাকরি যত চাপেরই হোক না কেন, সন্তানদের সময় দিন। তাদের দেখভালের দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেবেন না। | রাসূল কিন্তু প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তারপরও সন্তানদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করার জন্য অনেক সময় কাটিয়েছেন। |
| খাদিজা (রা)-এর পরিবার ও আত্মীয়ের প্রতি রাসূল অনেক সহৃদয় ছিলেন। তিনি তার আগের ঘরের সন্তান হিন্দ ও তার বোন হালার দেখভাল করেছেন। খাদিজা (রা)-এর ভাগ্নে হাকিমের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। | খাদিজা (রা) শ্বশুড় বাড়ির আত্মীয়দের সাথে দয়ামায়া রাখুন। আপনি তাদের বাড়িতে বেড়াতে যেতে পারেন, উপহার দিতে পারেন। ভালো আচরণ করতে পারেন। ইত্যাদি। |
| **স্ত্রী** | |
| ঘরে তিনি শান্ত ও ভালোবাসাময় পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। আর তাই তো আল্লাহ তাকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, জান্নাতে তার জন্য বিশেষ জায়গা থাকবে। | ঘরে স্বস্তিজনক পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করুন। এটা সবার মধ্যকার সম্পর্ক, মনমানসিকতা আর মেজাজের ওপর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। |
| বাসার বাইরে রাসূল একাকী সময় কাটাতেন, এটা নিয়ে তিনি সংশয়ী হননি; বরং তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। | আপনার স্বামীর প্রয়োজন বুঝুন। তাকে আরও ভালো হতে সাহায্য করুন। স্বামীরও এমন করা উচিত। |
| রাসূল-এর পরিবার ও আত্মীয়ের ব্যাপারে তিনিও সহৃদয় ছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইব্‌ন্ আবী তালিবকে নিজের ছেলের মতোই দেখেছেন। | যতটা সম্ভব তার পরিবারের প্রতি সদয় হোন। তার বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করুন। ভালো আচরণ করুন। |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00