📄 কীভাবে সংঘাত নিরসন করবেন?
* সহযোগিতা: এমন সমাধান দিতে হবে যা সবাই মেনে নেয় (যেমন কাবাঘরে কালো পাথর রাখা নিয়ে রাসূল সমাধান দিয়েছিলেন)।
* ছাড় দেওয়া: মীমাংসায় পৌঁছানোর জন্য সব পক্ষকে কিছু না কিছু ছাড় দেওয়াতে রাজি করাতে হবে।
* পারস্পরিক অর্জন: কোনোকিছুতে লাভ হবে। এটা আপনি যেভাবে বুঝেছেন বা দেখেছেন সেভাবে অন্যদেরকে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করুন।
* স্বীকার করা: হাতের সমস্যাটা উপেক্ষা করবেন না বা ফেলে রাখবেন না। খুব তুচ্ছ বা সামান্য বিতণ্ডা হলে ভিন্ন কথা।
কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে সংঘাত নিরসন এখন এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক খরচ অনেক অনেক বেশি। কিন্তু মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। কাজেই অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে যেসব লোক সংঘাত নিরসনে দক্ষ তাদের কদর আজ অনেক।
📄 কাজ
বহুদিন ধরে রাসূল ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করেছেন। রাখাল জীবনে সমাজের যেসব নোংরা জিনিস তাকে দেখতে হয়নি, ব্যবসায়ী জীবনে এসে তা প্রতিদিন দেখতে হয়েছে। প্রতারণা, লোক-ঠকানো, নিজের স্বার্থ উদ্ধারে অন্যকে ব্যবহার। এ রকম কত কী। কিন্তু তাই বলে রাসূল ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি। আবার সমাজের মূলধারার সাথে মিশেও যাননি। সমাজের বিবেকহীন চর্চায় লিপ্ত হননি; বরং তিনি ব্যবসার ভালো দিকটাতে নজর দিয়েছেন। খারাপ থেকে দূরে থেকেছেন। আল-সা'ইব নামক সৎ ব্যবসায়ীর সাথে সফল ব্যবসায়িক জুটি গড়ে তুলেছেন। নিজের পণ্যের খারাপ দিকে তিনি অবলীলায় বলে দিতেন। এ ব্যাপারে তাঁর সুনাম ছিল। দাম নিয়ে বাদানুবাদ করতেন না। রাসূল আল-সাইবের কাছ থেকে শিখেছেন দুর্নীতির হাতছানি যে-সমাজে সুলভ, সেখানেও কীভাবে সভাবে জীবিকা উপার্জন করা যায়।
ব্যবসায় রাসূল-এর বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে, সফল নারীব্যবসায়ী খাদিজা তাঁকে তার হয়ে ব্যবসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তাঁর মালামাল সিরিয়াতে বিক্রয় করতে হবে। রাসূল রাজি হয়েছিলেন। তিনি সিরিয়া থেকে ভালো লাভ করেন। যেটা তাঁর সততা এবং কেনাবেচায় তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেয়। যে-কারণে খাদিজা প্রতি কাফেলা যাত্রায় তাঁর কমিশন বাড়িয়ে দেন ১৬শ দিরহাম পর্যন্ত। ২০-২৫ বছর বয়সী কারও জন্য এটা খুবই আকর্ষণীয় কমিশন ছিল। সে সময়ে পরোটার দাম ছিল ৬ দিরহাম। উটের জিন ১৩ দিরহাম, ভেড়া ৪০ দিরহাম। উট ৪০০ দিরহাম। ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য ব্যবসায়ীর প্রয়োজন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া, দূরদৃষ্টি, অন্যকে আশ্বস্ত করার সামর্থ্য। এগুলো সবই রাসূল-এর ছিল।
📄 নিজের সমাজের সাথে মিশুন
সমাজের সুযোগ সুবিধাগুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। মানুষের সাথে মিশুন। পরিবেশ ভালো না, এমন অভিযোগ করে দূরে পড়ে থাকবেন না। আপনি আপনার নিজের উন্নতির জন্য উদ্ভাবনীমূলক উপায় খুঁজুন। নিজের উদ্যোগে যতটুকু পারুন আশপাশ বদলে দিন। রাসূল বাজার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হননি। আবার তাতে ডুবেও যাননি; বরং তিনি তাঁর আদর্শ বজায় রেখেছেন। চলাফেরার জন্য তাঁর মতো মানুষ পেয়েছেন।
📄 বন্ধুবান্ধব
খুব সতর্কতার সাথে রাসূল তাঁর বন্ধুদের বাছাই করেছেন। সুশিক্ষিত শ্রদ্ধাবান লোকদের বন্ধু হয়েছেন। আমরা এখন রাসূল-এর কিছু বন্ধুবান্ধবদের নিচে তুলে ধরব-
* আবু বকর আস-সিদ্দীক: তিনি কখনো মদ খাননি। মূর্তিপূজা করেননি। তারপরও তিনি সামাজিক ছিলেন। সমাজে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
* হাকিম ইব্ন্ হিযام: বুদ্ধিমান ও দানশীল নেতা যিনি হাজিদের মেহমানদারি করতেন।
* জাব্রা আর-রুমি: সুশিক্ষিত, বহুভাষী খ্রিষ্টান, ধর্মগ্রন্থের প্রতি জ্ঞানের ব্যাপারে যিনি জ্ঞানী ছিলেন। আগেই বলেছি, আল্লাহ তায়ালা তার ব্যাপারে বলেন, 'তারা বলে, 'নবিকে তো কেবল একটা লোক এসব শেখায়'। আন নাহল: ১০৩
রাসূল আরব, বিদেশি, মূর্তিপূজারি ও খ্রিষ্টানদের সাথে মিশেছেন। বিভিন্ন বয়সী বন্ধু ছিল তাঁর। যেমন হাকিম তাঁর চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিল। আবু বকর ছিল দুবছর ছোট। তাঁর বন্ধুবান্ধব সবাই ছিল সম্মানিত ও ভালো মানুষ।
কাদেরকে বন্ধু বানাবেন সে ব্যাপারে বিচক্ষণ হোন। ভালো লোকদের ভালোভাবে চিনুন। আজকাল বন্ধুবান্ধব বানানোর বিষয়টা বদলে গেছে। মূল আকর্ষণ একই আগ্রহের লোকদের সাথে বন্ধুত্ব পাতানোর আইভিয়ার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি ফেইসবুক, টুইটার আর লিঙ্কড ইনের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো। একজনকে বন্ধু বানালে আরও দশজন বন্ধু হওয়ার দরজা খুলে যায় এখানে। কার সাথে প্রথম দেখা হচ্ছে- শুধু এটাই চ্যালেঞ্জ না। সে যে তার সাথে করে আরও বড় নেটওয়ার্ক নিয়ে আসছে সেটাও চ্যালেঞ্জ। সুতরাং সতর্কতার সাথে আপনার নেটওয়ার্ক বাছাই করুন।