📄 সৃজনশীলতা
সমাজের সমস্যা নিরসনে তিনি সৃজনশীল সমাধান নিয়ে এসেছিলেন। মক্কার গোত্রপতিরা মিলে ঠিক করল কাবাঘর পুননির্মাণ করবে। কিন্তু কালোপাথরটা জায়গামতো রাখা নিয়ে সবার মধ্যে লেগে গেল। কারণ, সবাই এই দুর্লভ সম্মান অর্জন করতে চাচ্ছিলেন। পাথরটি জান্নাত থেকে এসেছে। সেই সময়ের আরবের অনেকে এটাকেও পূজো করত। এখান থেকে তাদের তাওয়াফ শুরু করত। ৬০৫ সালের প্রবল বন্যায় কাবাঘরের কাঠামো নষ্ট হয়ে যায়।
উপায়ন্তর না-পেয়ে তারা রাজি হলো যে, আগামীকাল প্রথম যে লোক পবিত্র হারামে প্রবেশ করবে সে-ই বিচারক হবেন এবং সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। রাসূল প্রবেশ করলেন প্রথমে। সে সময়ে রাসূল -এর বয়স ছিল ৩৫ বছর। সমস্যা সমাধানের জন্য আরবদের কাছে এই বয়স যথেষ্টই কম। এর একচেটিয়া দায়িত্ব ছিল গোত্রনেতাদের। যা হোক, যেহেতু সেই প্রথম হারামে এসেছে তাই তারা রাজি হলেন যে, মুহাম্মাদই সমাধান দিক।
রাসূল দ্রুত সমাধান করলেন। কালো পাথরটাকে একটা কাপড়ের উপর রাখলেন। এরপর প্রত্যেক গোত্রের একজন প্রতিনিধি কাপড়ের একটা অংশ ধরলেন; মাটি থেকে এক মিটার উঁচুতে। সবাই মিলে কালোপাথরটিকে জায়গায় বসালেন। কন্সট্যানটিন গোর্গুয়ের মতে,
'মুহাম্মাদ যেভাবে চিন্তা করেছে সেটা তার সৃজনী ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। তার মধ্যে যদি এ ধরনের ক্ষমতা না থাকত, তাহলে সে নবি হতে পারত না'।'
রাসূল-এর সমাধান ছিল সৃজনশীল ও তাৎক্ষণিক। এমন সমস্যা আগে কখনো হয়নি, কারণ এবারই প্রথম মক্কাবাসীরা কাবাঘর সংস্কার করছিল। আর এই বিতণ্ডা পাঁচদিন ধরে চলছিল। রাসূল যদিও কল্পনা করেননি যে, তিনি এতে জড়িয়ে যাবেন, কিন্তু সৃষ্টিশীল চিন্তার মাধ্যমে জায়গায় দাঁড়িয়েই তিনি সেই সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলেন। এখানেই রাসূল-এর প্রতিভার পরিচয়।
কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে সৃজনশীলতা আর বাক্সের বাইরে চিন্তাভাবনা করতে পারে এমন লোকদের কদর ভীষণ। নিয়ত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় যারা কেবল রুটিন কাজে দক্ষ তারা যে টিকে থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ভালো, অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে যারা নতুন করে ভাবতে পারে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বর্তমান পৃথিবী তাদের জন্যই।
এ কারণে উদ্ভাবনের ওপর বই ও শিক্ষামূলক ম্যাটেরিয়ালের সংখ্যার বান ছুটেছে। বেশিরভাগ আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির অংশ হয়েছে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ, ক্রিটিকাল থিংকিং ও উদ্ভাবন।
📄 কীভাবে সৃজনশীল হবেন?
* প্রতিটি বিষয়ের মাঝে নতুন সংযোগ খুঁজুন।
* যা শিখেছেন তা যদি আর না-চলে তাহলে তা রেখে দিন। নতুন কিছু শিখতে তৈরি থাকুন।
* দেখা সাক্ষাতের মাধ্যমে নিজেকে অন্যান্য উদ্ভাভবকদের কাতারে রাখুন। তাদের অর্জনগুলো শিখুন।
📄 সংঘাত নিরসন
এ ঘটনায় রাসূল যা করেছেন, তা সহজ ছিল না। যেকোনো সময়ে এখানে একটা সংঘাত বেধে যেতে পারত। তিনি সেটা থামিয়েছেন। পাঁচদিন ধরে এই বিতণ্ডা চলছিল। যেকোনো মুহূর্তে তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারত। (অধ্যায় তিন থেকে স্মরণ করুন, কাবাঘরের নিয়ন্ত্রণ কে নেবে এটা নিয়ে কুসাই গোষ্ঠী কিন্তু যুদ্ধে লাগার অবস্থায় চলে গিয়েছিল। অনুরূপভাবে, অতীতে গোষ্ঠী লড়াই প্রায়ই হতো। তবে যারা স্মার্ট সমাধান দিতে পারতেন, তারা চাইলে এগুলো বন্ধ করতে পারতেন)। রাসূল সেই সংঘাতের স্মার্ট সমাধান দিয়েছিলেন।
📄 কীভাবে সংঘাত নিরসন করবেন?
* সহযোগিতা: এমন সমাধান দিতে হবে যা সবাই মেনে নেয় (যেমন কাবাঘরে কালো পাথর রাখা নিয়ে রাসূল সমাধান দিয়েছিলেন)।
* ছাড় দেওয়া: মীমাংসায় পৌঁছানোর জন্য সব পক্ষকে কিছু না কিছু ছাড় দেওয়াতে রাজি করাতে হবে।
* পারস্পরিক অর্জন: কোনোকিছুতে লাভ হবে। এটা আপনি যেভাবে বুঝেছেন বা দেখেছেন সেভাবে অন্যদেরকে বুঝিয়ে আশ্বস্ত করুন।
* স্বীকার করা: হাতের সমস্যাটা উপেক্ষা করবেন না বা ফেলে রাখবেন না। খুব তুচ্ছ বা সামান্য বিতণ্ডা হলে ভিন্ন কথা।
কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে সংঘাত নিরসন এখন এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক খরচ অনেক অনেক বেশি। কিন্তু মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। কাজেই অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে যেসব লোক সংঘাত নিরসনে দক্ষ তাদের কদর আজ অনেক।