📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 রাসূল ﷺ-এর ব্যক্তিত্ব

📄 রাসূল ﷺ-এর ব্যক্তিত্ব


রাসূল-এর ব্যক্তিত্বের যে দিকটা আপনাকে নাড়া দিতে পারে, তা হলো ভারসাম্য বজায় রেখে চলা। তিনি সহজে লোকজনদের সাথে মেলামেশা করতেন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, সমাজকে সাহায্য করার জন্য উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ নিতেন। কিন্তু একই সময়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যায় পুরোপুরি ডুবে যেতেন না। একাকী চিন্তাভাবনার প্রয়োজনের কথা ভুলে যেতেন না। প্রথমে আমরা দেখব রাসূল তাঁর স্থানীয় সমাজের সাথে কীভাবে মেলামেশা করেছেন। ৫৯১ সালে বাণিজ্য নগরী মক্কায় একটা ঘটনা বেশ তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। মক্কার এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আল আস ইব্‌ন্ ওয়াইল এক ইয়েমেনি ব্যবসায়ীর থেকে পণ্য নিয়েছিল টাকা শোধ না করে। সেই ইয়েমেনি মক্কার নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনায় আকুতি জানিয়েছিল।

সম্মানীয় নেতারা আল আসের কাছে যেয়ে তাকে টাকা দিতে বাধ্য করে। এরকম অবিচার যেন আবার না-হয় এবং মক্কার বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতে যেন বিরূপ প্রভাব না-আসে, নগর নেতারা সেজন্য একটা চুক্তি করেন। এর নাম হিলফুল ফুদূল (মর্যাদাপূর্ণদের মৈত্রী)। ন্যায্য লেনদেন নিশ্চিত করার জন্য এই চুক্তি। বহিরাগত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাসূল তখন যদিও মাত্র ২১ বছরের তরুণ, তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন চুক্তি করার জন্য। বিশিষ্ট গোষ্ঠীপ্রধান আবদুল্লাহ জুদআনের বাড়িতে তারা জড়ো হয়েছিলেন। তিনি সেখানে কেবল পর্যবেক্ষণকারী রূপে ছিলেন না; বরং সেই চুক্তির মুখর সমর্থক ছিলেন।

অনেক দশক পর রাসূল এ ঘটনার উল্লেখ করে বলেন,

'আবদুল্লাহ জুদআনের বাড়িতে একটি চুক্তিতে আমি সাক্ষী ছিলাম, ইসলামের সময়ও যদি আমাকে এই চুক্তিতে ডাকা হতো, তাহলে আমি সাড়া দিতাম।'

এই ঘটনা থেকে সমাজের ইস্যুগুলো নিয়ে আমরা চিন্তা করতে শিখি। এর আপনার বয়স বা ভূমিকা রাখার ধরন যা-ই হোক, সমাজ পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন। পরিবর্তনের জন্য আপনার বয়স অনেক কম-বেশী এসব সাতপাঁচ না-ভেবে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকশিত করুন। তখন আপনি নিজেই আপনাকে সমাজের উঁচুদের মাঝে খুঁজে পাবেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 সৃজনশীলতা

📄 সৃজনশীলতা


সমাজের সমস্যা নিরসনে তিনি সৃজনশীল সমাধান নিয়ে এসেছিলেন। মক্কার গোত্রপতিরা মিলে ঠিক করল কাবাঘর পুননির্মাণ করবে। কিন্তু কালোপাথরটা জায়গামতো রাখা নিয়ে সবার মধ্যে লেগে গেল। কারণ, সবাই এই দুর্লভ সম্মান অর্জন করতে চাচ্ছিলেন। পাথরটি জান্নাত থেকে এসেছে। সেই সময়ের আরবের অনেকে এটাকেও পূজো করত। এখান থেকে তাদের তাওয়াফ শুরু করত। ৬০৫ সালের প্রবল বন্যায় কাবাঘরের কাঠামো নষ্ট হয়ে যায়।

উপায়ন্তর না-পেয়ে তারা রাজি হলো যে, আগামীকাল প্রথম যে লোক পবিত্র হারামে প্রবেশ করবে সে-ই বিচারক হবেন এবং সমস্যা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। রাসূল প্রবেশ করলেন প্রথমে। সে সময়ে রাসূল -এর বয়স ছিল ৩৫ বছর। সমস্যা সমাধানের জন্য আরবদের কাছে এই বয়স যথেষ্টই কম। এর একচেটিয়া দায়িত্ব ছিল গোত্রনেতাদের। যা হোক, যেহেতু সেই প্রথম হারামে এসেছে তাই তারা রাজি হলেন যে, মুহাম্মাদই সমাধান দিক।

রাসূল দ্রুত সমাধান করলেন। কালো পাথরটাকে একটা কাপড়ের উপর রাখলেন। এরপর প্রত্যেক গোত্রের একজন প্রতিনিধি কাপড়ের একটা অংশ ধরলেন; মাটি থেকে এক মিটার উঁচুতে। সবাই মিলে কালোপাথরটিকে জায়গায় বসালেন। কন্সট্যানটিন গোর্গুয়ের মতে,

'মুহাম্মাদ যেভাবে চিন্তা করেছে সেটা তার সৃজনী ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। তার মধ্যে যদি এ ধরনের ক্ষমতা না থাকত, তাহলে সে নবি হতে পারত না'।'

রাসূল-এর সমাধান ছিল সৃজনশীল ও তাৎক্ষণিক। এমন সমস্যা আগে কখনো হয়নি, কারণ এবারই প্রথম মক্কাবাসীরা কাবাঘর সংস্কার করছিল। আর এই বিতণ্ডা পাঁচদিন ধরে চলছিল। রাসূল যদিও কল্পনা করেননি যে, তিনি এতে জড়িয়ে যাবেন, কিন্তু সৃষ্টিশীল চিন্তার মাধ্যমে জায়গায় দাঁড়িয়েই তিনি সেই সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলেন। এখানেই রাসূল-এর প্রতিভার পরিচয়।

কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে সৃজনশীলতা আর বাক্সের বাইরে চিন্তাভাবনা করতে পারে এমন লোকদের কদর ভীষণ। নিয়ত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় যারা কেবল রুটিন কাজে দক্ষ তারা যে টিকে থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ভালো, অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনে যারা নতুন করে ভাবতে পারে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে, বর্তমান পৃথিবী তাদের জন্যই।

এ কারণে উদ্ভাবনের ওপর বই ও শিক্ষামূলক ম্যাটেরিয়ালের সংখ্যার বান ছুটেছে। বেশিরভাগ আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির অংশ হয়েছে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ, ক্রিটিকাল থিংকিং ও উদ্ভাবন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 কীভাবে সৃজনশীল হবেন?

📄 কীভাবে সৃজনশীল হবেন?


* প্রতিটি বিষয়ের মাঝে নতুন সংযোগ খুঁজুন।
* যা শিখেছেন তা যদি আর না-চলে তাহলে তা রেখে দিন। নতুন কিছু শিখতে তৈরি থাকুন।
* দেখা সাক্ষাতের মাধ্যমে নিজেকে অন্যান্য উদ্ভাভবকদের কাতারে রাখুন। তাদের অর্জনগুলো শিখুন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 সংঘাত নিরসন

📄 সংঘাত নিরসন


এ ঘটনায় রাসূল যা করেছেন, তা সহজ ছিল না। যেকোনো সময়ে এখানে একটা সংঘাত বেধে যেতে পারত। তিনি সেটা থামিয়েছেন। পাঁচদিন ধরে এই বিতণ্ডা চলছিল। যেকোনো মুহূর্তে তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারত। (অধ্যায় তিন থেকে স্মরণ করুন, কাবাঘরের নিয়ন্ত্রণ কে নেবে এটা নিয়ে কুসাই গোষ্ঠী কিন্তু যুদ্ধে লাগার অবস্থায় চলে গিয়েছিল। অনুরূপভাবে, অতীতে গোষ্ঠী লড়াই প্রায়ই হতো। তবে যারা স্মার্ট সমাধান দিতে পারতেন, তারা চাইলে এগুলো বন্ধ করতে পারতেন)। রাসূল সেই সংঘাতের স্মার্ট সমাধান দিয়েছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00