📄 সফর
সাধারণভাবে টিনএজরা রুটিন অপছন্দ করে। সফর ও পরিবর্তন পছন্দ করে। ১৩ বছর বয়সে আবু তালিব যখন সিরিয়া সফরে গেলেন, তখন রাসূল তাঁর সাথে যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন। این বয়সে মক্কা থেকে সিরিয়া সফর খুব কষ্টকর। এর দূরত্ব প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার। ২০-৩০ দিনের সফর। পিচঢালা পথে গাড়িতে করে যারা মক্কা থেকে দামাস্কাস গিয়েছেন তাদেরই অনেকে সফরের ক্লান্তি নিয়ে অভিযোগ করেন। তাহলে উটে চড়ে সেখানে যাওয়া কেমন ছিল ভেবে দেখেন।
কিশোর-কিশোরীরা যদিও প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং তারা রোমাঞ্চ পছন্দ করে, কিন্তু রাসূল -এর জন্য এ যাত্রা খুব কঠিন হওয়ার কথা। একে তো এত লম্বা দূরত্ব সফরের অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। অন্যদিকে বাণিজ্য কাফেলায় তার সমবয়সী আর কেউ না-থাকায় তার মধ্যে বিরক্তি চলে আসাটা স্বাভাবিক ছিল।
আমি জানি না এই সফরে সফরকারীরা কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন। কী কী দর্শনীয় স্থান তারা দেখেছিলেন, তবে নিচের জিনিসগুলো দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে:
• ঐতিহাসিক স্থান: মাদাইন সালিহ। আজকের দিনে উত্তরপশ্চিম সাউদি আরাবিয়া। নাবাতি সভ্যতা পাথরে কেটে এই শহর বানিয়েছিল। আধুনিক জর্দানের পেত্রা শহরের মতো। অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে আছে সোডোম ও গোমরাহ। রোমানদের তৈরি মসৃণ রাস্তা।
• বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লীলা ও আবহাওয়া: মক্কার আশেপাশের পাহাড় ও সমভূমি; ওয়াদি সারহানের জলাভূমি, বর্তমানে এটা জর্দান-সাউদির সীমান্তের কাছে; নেফুদ, প্রচুর উপবৃত্তাকার নিচু জায়গা ও মরুভূমি; জর্দানে সাত ঘুমন্ত যুবকের গুহা। উত্তর আরব উপদ্বীপ দিয়ে লোহিত সাগরের পাশ ঘেঁষে কাফেলা দক্ষিণ সিরিয়ায় বসরায় নেফুদ মরুভূমি পার করেছে।
• বিভিন্ন সমাজ ও ধর্ম: হিজাজের মূর্তিপূজারি, মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী, লাখমিদ, বানু জুদহাম ও গাস্সানিদ গোত্রের খ্রিষ্টান আরব, ও সন্ন্যাসীরা, যার মধ্যে একজন ছিল বাহিরা।
সফর করা আজকাল অনেকের সামর্থ্যের মধ্যে। সহজও। তাই টিনএজ বয়সীদের জন্য সফর আসল চ্যালেঞ্জ না; বরং, সেই সফরকে তারা নিজেদের ও নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য বিকাশে কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা চ্যালেঞ্জ। এটা যেকোনো বয়সী মানুষদের জন্যও খাটে।
সিরিয়া সফরের মাধ্যমে রাসূল নিজে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো দেখেছেন। তাঁর চাচার সাথে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে নানান সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রথার মুখোমুখী হয়েছেন। বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়েছে।
নিজের থেকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের সাথে মেশা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিশোর-কিশোরীদের উন্মুখ হয়ে থাকা দরকার। যেগুলো তাদের অভিজ্ঞতাক সমৃদ্ধ করবে সবসময় সেসব খুঁজা উচিত তাদের।
নিচের টেবিল আপনাকে মনে করাবে কীভাবে একজন টিনএজ বয়সী তার টিনএজ বয়সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে, আর কীভাবে রাসূল কিশোর বয়সের কঠিন সময় নিরাপদে পার করেছিলেন।
সাধারণভাবে টিনএজরা রুটিন অপছন্দ করে। সফর ও পরিবর্তন পছন্দ করে। ১৩ বছর বয়সে আবু তালিব যখন সিরিয়া সফরে গেলেন, তখন রাসূল তাঁর সাথে যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন। این বয়সে মক্কা থেকে সিরিয়া সফর খুব কষ্টকর। এর দূরত্ব প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার। ২০-৩০ দিনের সফর। পিচঢালা পথে গাড়িতে করে যারা মক্কা থেকে দামাস্কাস গিয়েছেন তাদেরই অনেকে সফরের ক্লান্তি নিয়ে অভিযোগ করেন। তাহলে উটে চড়ে সেখানে যাওয়া কেমন ছিল ভেবে দেখেন।
কিশোর-কিশোরীরা যদিও প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং তারা রোমাঞ্চ পছন্দ করে, কিন্তু রাসূল -এর জন্য এ যাত্রা খুব কঠিন হওয়ার কথা। একে তো এত লম্বা দূরত্ব সফরের অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। অন্যদিকে বাণিজ্য কাফেলায় তার সমবয়সী আর কেউ না-থাকায় তার মধ্যে বিরক্তি চলে আসাটা স্বাভাবিক ছিল।
আমি জানি না এই সফরে সফরকারীরা কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন। কী কী দর্শনীয় স্থান তারা দেখেছিলেন, তবে নিচের জিনিসগুলো দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে:
• ঐতিহাসিক স্থান: মাদাইন সালিহ। আজকের দিনে উত্তরপশ্চিম সাউদি আরাবিয়া। নাবাতি সভ্যতা পাথরে কেটে এই শহর বানিয়েছিল। আধুনিক জর্দানের পেত্রা শহরের মতো। অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে আছে সোডোম ও গোমরাহ। রোমানদের তৈরি মসৃণ রাস্তা।
• বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লীলা ও আবহাওয়া: মক্কার আশেপাশের পাহাড় ও সমভূমি; ওয়াদি সারহানের জলাভূমি, বর্তমানে এটা জর্দান-সাউদির সীমান্তের কাছে; নেফুদ, প্রচুর উপবৃত্তাকার নিচু জায়গা ও মরুভূমি; জর্দানে সাত ঘুমন্ত যুবকের গুহা। উত্তর আরব উপদ্বীপ দিয়ে লোহিত সাগরের পাশ ঘেঁষে কাফেলা দক্ষিণ সিরিয়ায় বসরায় নেফুদ মরুভূমি পার করেছে।
• বিভিন্ন সমাজ ও ধর্ম: হিজাজের মূর্তিপূজারি, মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী, লাখমিদ, বানু জুদহাম ও গাস্সানিদ গোত্রের খ্রিষ্টান আরব, ও সন্ন্যাসীরা, যার মধ্যে একজন ছিল বাহিরা।
সফর করা আজকাল অনেকের সামর্থ্যের মধ্যে। সহজও। তাই টিনএজ বয়সীদের জন্য সফর আসল চ্যালেঞ্জ না; বরং, সেই সফরকে তারা নিজেদের ও নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য বিকাশে কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা চ্যালেঞ্জ। এটা যেকোনো বয়সী মানুষদের জন্যও খাটে।
সিরিয়া সফরের মাধ্যমে রাসূল নিজে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো দেখেছেন। তাঁর চাচার সাথে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে নানান সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রথার মুখোমুখী হয়েছেন। বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়েছে।
নিজের থেকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের সাথে মেশা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিশোর-কিশোরীদের উন্মুখ হয়ে থাকা দরকার। যেগুলো তাদের অভিজ্ঞতাক সমৃদ্ধ করবে সবসময় সেসব খুঁজা উচিত তাদের।
নিচের টেবিল আপনাকে মনে করাবে কীভাবে একজন টিনএজ বয়সী তার টিনএজ বয়সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে, আর কীভাবে রাসূল কিশোর বয়সের কঠিন সময় নিরাপদে পার করেছিলেন।
📄 রাসূল ﷺ-এর কিশোর বয়স থেকে ফায়দা
| রাসূল-এর কৈশোর | আপনার কৈশোর |
| :--- | :--- |
| রাসূল তাঁর চাচাকে সাহায্য করার জন্য রাখালের দায়িত্ব পালন করেছেন। | আপনার বাবা-মাকে সাহায্য করুন। এমনকি যদি তারা সরাসরি সাহায্য না-ও চায়। |
| রাসূল তাড়াহুড়ো করে খেতেন না। বিশেষ করে যখন অনেকের সাথে বসে একসঙ্গে খেতেন। | কিছু চাওয়ার সময় ধৈর্য ধরুন, ভদ্র থাকুন। বন্ধুত্বপূর্ণ থাকুন। |
| রাসূল সবসময় চুল আঁচড়ে রাখতেন। ছিমছাম থাকতেন। | আপনার সামগ্রিক বাহ্যরূপের খেয়াল রাখুন, এমনকি যদি বাসায় পরিবারের সাথে থাকেন তবুও। |
| আল্লাহর রাসূল-কে সুরক্ষা করেছিলেন গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর কটিবস্ত্র পরতে বলে। | আপনার অভ্যন্তরীণ ভয়েস ও বিবেক আপনাকে বলে দিক কোনটা খারাপ কোনটা ভালো। আস্থাভাজন থাকুন। এমনকি যদি আপনি বাবা-মা বা অন্য জ্ঞানী কারও তত্ত্বাবধান থেকে দূরে থাকেন তবুও। |
| খারাপ পথে যাওয়া থেকে আল্লাহ রাসূল-কে নিরাপদ রেখেছিলেন। রাসূল শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। | আপনার বেলায় আল্লাহ হয়ত এমন প্রকাশ্য হবেন না। কাজেই আপনাকে তাঁর সুরক্ষার নিদর্শন খুঁজে নিতে হবে। |
| রাসূল বাহিরা সন্ন্যাসীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মূর্তিপূজারীদের দেবদেবীর নামে কসম কাটবেন না। | কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই অন্ধের মতো তাদের অনুকরণ করবেন না। নিজের বিশ্বাস ভদ্রোচিতভাবে জানিয়ে দিন। |
| রাসূল সিরিয়ায় সফর করেছিলেন। সেই কাফেলায় তিনি ছিলেন সবচেয়ে কমবয়স্ক। | নিজেকে নতুন রোমাঞ্চের সামনে উন্মোচিত করুন। যা দেখেন তা দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করুন। |
| রাসূল-এর কৈশোর | আপনার কৈশোর |
| :--- | :--- |
| রাসূল তাঁর চাচাকে সাহায্য করার জন্য রাখালের দায়িত্ব পালন করেছেন। | আপনার বাবা-মাকে সাহায্য করুন। এমনকি যদি তারা সরাসরি সাহায্য না-ও চায়। |
| রাসূল তাড়াহুড়ো করে খেতেন না। বিশেষ করে যখন অনেকের সাথে বসে একসঙ্গে খেতেন। | কিছু চাওয়ার সময় ধৈর্য ধরুন, ভদ্র থাকুন। বন্ধুত্বপূর্ণ থাকুন। |
| রাসূল সবসময় চুল আঁচড়ে রাখতেন। ছিমছাম থাকতেন। | আপনার সামগ্রিক বাহ্যরূপের খেয়াল রাখুন, এমনকি যদি বাসায় পরিবারের সাথে থাকেন তবুও। |
| আল্লাহর রাসূল-কে সুরক্ষা করেছিলেন গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর কটিবস্ত্র পরতে বলে। | আপনার অভ্যন্তরীণ ভয়েস ও বিবেক আপনাকে বলে দিক কোনটা খারাপ কোনটা ভালো। আস্থাভাজন থাকুন। এমনকি যদি আপনি বাবা-মা বা অন্য জ্ঞানী কারও তত্ত্বাবধান থেকে দূরে থাকেন তবুও। |
| খারাপ পথে যাওয়া থেকে আল্লাহ রাসূল-কে নিরাপদ রেখেছিলেন। রাসূল শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। | আপনার বেলায় আল্লাহ হয়ত এমন প্রকাশ্য হবেন না। কাজেই আপনাকে তাঁর সুরক্ষার নিদর্শন খুঁজে নিতে হবে। |
| রাসূল বাহিরা সন্ন্যাসীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মূর্তিপূজারীদের দেবদেবীর নামে কসম কাটবেন না। | কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই অন্ধের মতো তাদের অনুকরণ করবেন না। নিজের বিশ্বাস ভদ্রোচিতভাবে জানিয়ে দিন। |
| রাসূল সিরিয়ায় সফর করেছিলেন। সেই কাফেলায় তিনি ছিলেন সবচেয়ে কমবয়স্ক। | নিজেকে নতুন রোমাঞ্চের সামনে উন্মোচিত করুন। যা দেখেন তা দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করুন। |