📄 বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ
কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা দমানো চ্যালেঞ্জ না। কারণ, এটা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, একে গাইড করা।
নবি নিজে এ ব্যাপারে বলেন, 'ইসলামপূর্ব যুগে মানুষরা যেভাবে নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিল, আমি তেমন ছিলাম না। তবে দুরাত বাদে। সেই দুরাতে আল্লাহ আমাকে সুরক্ষা করেছিলেন। এক রাতে আমি মক্কার কিছু ছেলেপুলের সাথে ছিলাম। আমরা পশুর পাল তদারকি করছিলাম। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, 'আমার ভেড়াগুলোকে দেখো, যাতে আমি মক্কার অন্যান্য ছেলেদের মতো মক্কায় কাটাতে পারি'। সে বলল ঠিক আছে। তো আমি গেলাম। আমি যখন মক্কার প্রথম বাসায় পৌছালাম, তখন আমি তাম্বুরিন ও বাঁশিসহ বাজনা শুনতে পেলাম। আমি দেখার জন্য বসলাম। আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন। আমি শপথ করছি, সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি আমাকে ঘুম থেকে ওঠাননি।
অন্য একরাত। আমি তাকে বললাম, 'আমার ভেড়াগুলোকে দেখো, যাতে আমি মক্কায় রাত কাটাতে যেতে পারি'। যখন মক্কায় এলাম, গতবার যেমন আওয়াজ শুনেছিলাম, এবারও শুনলাম। আমি দেখার জন্য বসলাম। আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন। আমি শপথ করছি, সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি আমাকে ঘুম থেকে ওঠাননি। ঐ দুই রাতের পর আমি কসম করে বলছি, আর ওসবের ধারে কাছে যাইনি'।
রাসূল দুবার চেষ্টা করেছিলেন পার্টিতে যোগ দিতে। কিন্তু দুবারই আল্লাহ তাঁকে বাধা দিয়েছেন তাঁকে অজ্ঞান করে দিয়ে। ভবিষ্যৎ নবির জন্য এটা ছিল মহান আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষা। এই ঘটনা থেকে আপনার টিনএজ বয়সী ছেলেমেয়েরা কীভাবে ফায়দা নেবে?
রাসূল তার কিশোর বয়সে পার্টিতে যেতে চেয়েছিলেন, এমনকি দুবার চেষ্টা করেছিলেন, এটা এই কাহিনির মজার দিক না; বরং তিনি যে তৃতীয়বার আর চেষ্টা করেননি সেটাই এই ঘটনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। এটা আপনার কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েদের অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ সবসময় খারাপ থামাতে চান না। কখনো কখনো একে কঠিন করে তোলেন। খারাপ কাজ করার সময় টিনএজ বয়সী ছেলেমেয়ে প্রায়ই তার প্রথম চেষ্টায় হোঁচট খাবে। খারাপ পথ সোজা এমনটা যেন সে না-ভাবে সেটাই আল্লাহ চান। পথেঘাটে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখেন যা তাকে দু একবার বাধা দেয়।
যেমন, সে হয়ত প্ল্যান করেছে খারাপ কোনো জায়গায় যাবে। খারাপ জায়গা বলতে কনসার্ট, সিনেপ্লেক্স এ ধরনের জায়গাও হতে পারে, যেগুলোকে আজকাল ঠিক 'খারাপ' বলা হয় না। তো দেখা গেল যেদিন যাবে বলে ঠিক করেছে সেদিন অসুস্থ হয়ে গেল। ইন্টারনেটে খারাপ কিছু দেখতে চাওয়ার সময় হঠাৎ করে নেটের লাইন চলে গেল। অথবা প্রথমবার সিগারেট খাওয়ার সময় লাগাতার কাশি।
এখন বাধাগুলোকে সে স্বাভাবিকভাবে নেবে, না আল্লাহর তরফ থেকে সতর্কবাণী হিসেবে নেবে, সেটা নির্ভর করে ছোটবেলায় বাবা-মা তাকে কীভাবে বড় করেছেন তার ওপর। তারা ভাবতে পারে এগুলো দৈব কাকতাল, যে কারও বেলাতেই হতে পারে। অথবা তারা এমনও ভাবতে পারে যে, তাদের খারাপ পথ থেকে থামানোর জন্য এগুলো মহান আল্লাহর তরফ থেকে সতর্কবাণী। তো দেখা যাবে দুতিনবার চেষ্টায় বাধা পাওয়ার পর সে নিজেই তার আচরণ বদলে ফেলল।
মা-বাবার দায়িত্ব হলো ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই মানসিকতার বিকাশ ঘটানো। যাতে করে যদি সে পিছলে পড়ে, তার বিবেক তাকে উঠিয়ে আনবে। এটা যাতে অভ্যাসে পরিণত না-হয় তা থেকে বাধা দেবে। এটাই একজন টিনএজ ছেলেমেয়েকে আস্থাভাজন করে। নির্ভরযোগ্য করে।
আল্লাহ রাসূল -এর কানে আঘাত করে তাঁকে অচেতন করে দিয়েছিলেন পার্টিতে পৌঁছানোর আগেই। ভুল পথে যাওয়ার চেষ্টায় আপনি যেসব বাধা পান সেগুলো আসলে আপনার প্রতি মহান আল্লাহর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। তিনি চান না যে, আপনি অন্ধকারে যোগ দেন। প্রতিবন্ধকতার পেছনের মানে বুঝার চেষ্টা করুন। এগুলো এমন সাধারণ কিছু না, যা যে কারও ক্ষেত্রেই হতে পারে।
কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা দমানো চ্যালেঞ্জ না। কারণ, এটা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, একে গাইড করা।
নবি নিজে এ ব্যাপারে বলেন, 'ইসলামপূর্ব যুগে মানুষরা যেভাবে নারীদের প্রতি আকৃষ্ট ছিল, আমি তেমন ছিলাম না। তবে দুরাত বাদে। সেই দুরাতে আল্লাহ আমাকে সুরক্ষা করেছিলেন। এক রাতে আমি মক্কার কিছু ছেলেপুলের সাথে ছিলাম। আমরা পশুর পাল তদারকি করছিলাম। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, 'আমার ভেড়াগুলোকে দেখো, যাতে আমি মক্কার অন্যান্য ছেলেদের মতো মক্কায় কাটাতে পারি'। সে বলল ঠিক আছে। তো আমি গেলাম। আমি যখন মক্কার প্রথম বাসায় পৌছালাম, তখন আমি তাম্বুরিন ও বাঁশিসহ বাজনা শুনতে পেলাম। আমি দেখার জন্য বসলাম। আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন। আমি শপথ করছি, সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি আমাকে ঘুম থেকে ওঠাননি।
অন্য একরাত। আমি তাকে বললাম, 'আমার ভেড়াগুলোকে দেখো, যাতে আমি মক্কায় রাত কাটাতে যেতে পারি'। যখন মক্কায় এলাম, গতবার যেমন আওয়াজ শুনেছিলাম, এবারও শুনলাম। আমি দেখার জন্য বসলাম। আল্লাহ আমার কানে আঘাত করলেন। আমি শপথ করছি, সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি আমাকে ঘুম থেকে ওঠাননি। ঐ দুই রাতের পর আমি কসম করে বলছি, আর ওসবের ধারে কাছে যাইনি'।
রাসূল দুবার চেষ্টা করেছিলেন পার্টিতে যোগ দিতে। কিন্তু দুবারই আল্লাহ তাঁকে বাধা দিয়েছেন তাঁকে অজ্ঞান করে দিয়ে। ভবিষ্যৎ নবির জন্য এটা ছিল মহান আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষা। এই ঘটনা থেকে আপনার টিনএজ বয়সী ছেলেমেয়েরা কীভাবে ফায়দা নেবে?
রাসূল তার কিশোর বয়সে পার্টিতে যেতে চেয়েছিলেন, এমনকি দুবার চেষ্টা করেছিলেন, এটা এই কাহিনির মজার দিক না; বরং তিনি যে তৃতীয়বার আর চেষ্টা করেননি সেটাই এই ঘটনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। এটা আপনার কিশোর বয়সী ছেলেমেয়েদের অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
সর্বশক্তিমান আল্লাহ সবসময় খারাপ থামাতে চান না। কখনো কখনো একে কঠিন করে তোলেন। খারাপ কাজ করার সময় টিনএজ বয়সী ছেলেমেয়ে প্রায়ই তার প্রথম চেষ্টায় হোঁচট খাবে। খারাপ পথ সোজা এমনটা যেন সে না-ভাবে সেটাই আল্লাহ চান। পথেঘাটে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখেন যা তাকে দু একবার বাধা দেয়।
যেমন, সে হয়ত প্ল্যান করেছে খারাপ কোনো জায়গায় যাবে। খারাপ জায়গা বলতে কনসার্ট, সিনেপ্লেক্স এ ধরনের জায়গাও হতে পারে, যেগুলোকে আজকাল ঠিক 'খারাপ' বলা হয় না। তো দেখা গেল যেদিন যাবে বলে ঠিক করেছে সেদিন অসুস্থ হয়ে গেল। ইন্টারনেটে খারাপ কিছু দেখতে চাওয়ার সময় হঠাৎ করে নেটের লাইন চলে গেল। অথবা প্রথমবার সিগারেট খাওয়ার সময় লাগাতার কাশি।
এখন বাধাগুলোকে সে স্বাভাবিকভাবে নেবে, না আল্লাহর তরফ থেকে সতর্কবাণী হিসেবে নেবে, সেটা নির্ভর করে ছোটবেলায় বাবা-মা তাকে কীভাবে বড় করেছেন তার ওপর। তারা ভাবতে পারে এগুলো দৈব কাকতাল, যে কারও বেলাতেই হতে পারে। অথবা তারা এমনও ভাবতে পারে যে, তাদের খারাপ পথ থেকে থামানোর জন্য এগুলো মহান আল্লাহর তরফ থেকে সতর্কবাণী। তো দেখা যাবে দুতিনবার চেষ্টায় বাধা পাওয়ার পর সে নিজেই তার আচরণ বদলে ফেলল।
মা-বাবার দায়িত্ব হলো ছেলেমেয়েদের মধ্যে এই মানসিকতার বিকাশ ঘটানো। যাতে করে যদি সে পিছলে পড়ে, তার বিবেক তাকে উঠিয়ে আনবে। এটা যাতে অভ্যাসে পরিণত না-হয় তা থেকে বাধা দেবে। এটাই একজন টিনএজ ছেলেমেয়েকে আস্থাভাজন করে। নির্ভরযোগ্য করে।
আল্লাহ রাসূল -এর কানে আঘাত করে তাঁকে অচেতন করে দিয়েছিলেন পার্টিতে পৌঁছানোর আগেই। ভুল পথে যাওয়ার চেষ্টায় আপনি যেসব বাধা পান সেগুলো আসলে আপনার প্রতি মহান আল্লাহর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। তিনি চান না যে, আপনি অন্ধকারে যোগ দেন। প্রতিবন্ধকতার পেছনের মানে বুঝার চেষ্টা করুন। এগুলো এমন সাধারণ কিছু না, যা যে কারও ক্ষেত্রেই হতে পারে।
📄 কাজ
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে রাসূল -এর কাজ ও সফর নিয়ে কথা বলব। বলব কীভাবে টিনএজ বয়সীরা এ থেকে উপকৃত হতে পারে।
রাসূল -এর কাজকর্ম শুরু রাখাল হিসেবে। চাচা আবু তালিবকে সাহায্য করার জন্য এ কাজ করতেন। এভাবে তিনি প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাসূল একবার বলেছিলেন, ‘এমন কোনো নবি নেই যে, রাখাল ছিল না’।
রাখালের কাজ গবাদিপশুর খাওয়াদাওয়া সংগ্রহের মতো সহজ কিছু না। এ কাজের জন্য বেশকিছু ব্যক্তিগত দক্ষতা ও গুণ লাগে।
* নেতৃত্ব: পশুগুলোকে কোন পথে নিয়ে যেতে হবে। খাওয়ানোর জন্য কোথায় থামতে হবে।
* সততা: ভেড়াগুলোকে সততার সাথে ব্যবস্থাপনা করতে হয়। মালিকের বিশ্বাস ভাঙা যায় না। যেমন অনুমতি ছাড়া ওগুলোর দুধ খাওয়া।
* ফোকাস: মুহূর্তের মনোযোগ হারিয়ে ফেললে পালের ভেড়া হারিয়ে বা চুরি হয়ে যেতে পারে।
* মমতা: পশুপালের সাথে মমতার সম্পর্ক গড়ে তোলা, এমন যে আপনি আপনার প্রতিটা ভেড়াকে একটা একটা করে চেনেন।
* লেগে থাকা: বৈরি, কঠিন আবহাওয়া সহ্য করা ও দীর্ঘ সময় ধরে দেখাশোনা করা।
ভৌগলিকবিদেরা পৃথিবীজুড়ে পাঁচটি অঞ্চলকে শতায়ুদের ‘ব্লু জোন’ বলেছেন। এসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু বেশি। এগুলোর মধ্যে আছে জাপান, গ্রিসের দ্বীপ অঞ্চল ও ইতালির সারাদিনিয়া দ্বীপ।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বলছে এই অঞ্চলগুলো একটা থেকে আরেকটা অনেক দূরে। কিন্তু তাদের জীবনযাপনের কিছু ব্যাপার এক। যেমন- পারিবারিক জীবন। এদের মধ্যে ধূমপান নেই। শারীরিক কাজে গুরুত্ব দেয় এরা। ম্যাগাজিনে বলেছে যে, এসব অঞ্চলের বুড়োরা বয়স হলেই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না; বরং কম-চাপের কাজে ব্যস্ত থাকে। যেমন গবাদিপশু দেখাশোনা।
গবাদিপশু দেখাশোনা আপনার কিশোর-কিশোরীর জন্য আদর্শ ক্যারিয়ার এটা এখানে প্রমোট করা হচ্ছে না। বলতে চাচ্ছি, যদি কিশোর-কিশোরীরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করে তাহলে তারা মানসিকভাবেও অনেক শান্তিতে থাকবে।
এবার আমরা সফর নিয়ে কথা বলব। দেখব কীভাবে সেটা একজন টিনএজের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে রাসূল -এর কাজ ও সফর নিয়ে কথা বলব। বলব কীভাবে টিনএজ বয়সীরা এ থেকে উপকৃত হতে পারে।
রাসূল -এর কাজকর্ম শুরু রাখাল হিসেবে। চাচা আবু তালিবকে সাহায্য করার জন্য এ কাজ করতেন। এভাবে তিনি প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাসূল একবার বলেছিলেন, ‘এমন কোনো নবি নেই যে, রাখাল ছিল না’।
রাখালের কাজ গবাদিপশুর খাওয়াদাওয়া সংগ্রহের মতো সহজ কিছু না। এ কাজের জন্য বেশকিছু ব্যক্তিগত দক্ষতা ও গুণ লাগে।
* নেতৃত্ব: পশুগুলোকে কোন পথে নিয়ে যেতে হবে। খাওয়ানোর জন্য কোথায় থামতে হবে।
* সততা: ভেড়াগুলোকে সততার সাথে ব্যবস্থাপনা করতে হয়। মালিকের বিশ্বাস ভাঙা যায় না। যেমন অনুমতি ছাড়া ওগুলোর দুধ খাওয়া।
* ফোকাস: মুহূর্তের মনোযোগ হারিয়ে ফেললে পালের ভেড়া হারিয়ে বা চুরি হয়ে যেতে পারে।
* মমতা: পশুপালের সাথে মমতার সম্পর্ক গড়ে তোলা, এমন যে আপনি আপনার প্রতিটা ভেড়াকে একটা একটা করে চেনেন।
* লেগে থাকা: বৈরি, কঠিন আবহাওয়া সহ্য করা ও দীর্ঘ সময় ধরে দেখাশোনা করা।
ভৌগলিকবিদেরা পৃথিবীজুড়ে পাঁচটি অঞ্চলকে শতায়ুদের ‘ব্লু জোন’ বলেছেন। এসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু বেশি। এগুলোর মধ্যে আছে জাপান, গ্রিসের দ্বীপ অঞ্চল ও ইতালির সারাদিনিয়া দ্বীপ।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বলছে এই অঞ্চলগুলো একটা থেকে আরেকটা অনেক দূরে। কিন্তু তাদের জীবনযাপনের কিছু ব্যাপার এক। যেমন- পারিবারিক জীবন। এদের মধ্যে ধূমপান নেই। শারীরিক কাজে গুরুত্ব দেয় এরা। ম্যাগাজিনে বলেছে যে, এসব অঞ্চলের বুড়োরা বয়স হলেই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না; বরং কম-চাপের কাজে ব্যস্ত থাকে। যেমন গবাদিপশু দেখাশোনা।
গবাদিপশু দেখাশোনা আপনার কিশোর-কিশোরীর জন্য আদর্শ ক্যারিয়ার এটা এখানে প্রমোট করা হচ্ছে না। বলতে চাচ্ছি, যদি কিশোর-কিশোরীরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করে তাহলে তারা মানসিকভাবেও অনেক শান্তিতে থাকবে।
এবার আমরা সফর নিয়ে কথা বলব। দেখব কীভাবে সেটা একজন টিনএজের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে।
📄 সফর
সাধারণভাবে টিনএজরা রুটিন অপছন্দ করে। সফর ও পরিবর্তন পছন্দ করে। ১৩ বছর বয়সে আবু তালিব যখন সিরিয়া সফরে গেলেন, তখন রাসূল তাঁর সাথে যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন। این বয়সে মক্কা থেকে সিরিয়া সফর খুব কষ্টকর। এর দূরত্ব প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার। ২০-৩০ দিনের সফর। পিচঢালা পথে গাড়িতে করে যারা মক্কা থেকে দামাস্কাস গিয়েছেন তাদেরই অনেকে সফরের ক্লান্তি নিয়ে অভিযোগ করেন। তাহলে উটে চড়ে সেখানে যাওয়া কেমন ছিল ভেবে দেখেন।
কিশোর-কিশোরীরা যদিও প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং তারা রোমাঞ্চ পছন্দ করে, কিন্তু রাসূল -এর জন্য এ যাত্রা খুব কঠিন হওয়ার কথা। একে তো এত লম্বা দূরত্ব সফরের অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। অন্যদিকে বাণিজ্য কাফেলায় তার সমবয়সী আর কেউ না-থাকায় তার মধ্যে বিরক্তি চলে আসাটা স্বাভাবিক ছিল।
আমি জানি না এই সফরে সফরকারীরা কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন। কী কী দর্শনীয় স্থান তারা দেখেছিলেন, তবে নিচের জিনিসগুলো দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে:
• ঐতিহাসিক স্থান: মাদাইন সালিহ। আজকের দিনে উত্তরপশ্চিম সাউদি আরাবিয়া। নাবাতি সভ্যতা পাথরে কেটে এই শহর বানিয়েছিল। আধুনিক জর্দানের পেত্রা শহরের মতো। অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে আছে সোডোম ও গোমরাহ। রোমানদের তৈরি মসৃণ রাস্তা।
• বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লীলা ও আবহাওয়া: মক্কার আশেপাশের পাহাড় ও সমভূমি; ওয়াদি সারহানের জলাভূমি, বর্তমানে এটা জর্দান-সাউদির সীমান্তের কাছে; নেফুদ, প্রচুর উপবৃত্তাকার নিচু জায়গা ও মরুভূমি; জর্দানে সাত ঘুমন্ত যুবকের গুহা। উত্তর আরব উপদ্বীপ দিয়ে লোহিত সাগরের পাশ ঘেঁষে কাফেলা দক্ষিণ সিরিয়ায় বসরায় নেফুদ মরুভূমি পার করেছে।
• বিভিন্ন সমাজ ও ধর্ম: হিজাজের মূর্তিপূজারি, মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী, লাখমিদ, বানু জুদহাম ও গাস্সানিদ গোত্রের খ্রিষ্টান আরব, ও সন্ন্যাসীরা, যার মধ্যে একজন ছিল বাহিরা।
সফর করা আজকাল অনেকের সামর্থ্যের মধ্যে। সহজও। তাই টিনএজ বয়সীদের জন্য সফর আসল চ্যালেঞ্জ না; বরং, সেই সফরকে তারা নিজেদের ও নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য বিকাশে কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা চ্যালেঞ্জ। এটা যেকোনো বয়সী মানুষদের জন্যও খাটে।
সিরিয়া সফরের মাধ্যমে রাসূল নিজে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো দেখেছেন। তাঁর চাচার সাথে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে নানান সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রথার মুখোমুখী হয়েছেন। বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়েছে।
নিজের থেকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের সাথে মেশা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিশোর-কিশোরীদের উন্মুখ হয়ে থাকা দরকার। যেগুলো তাদের অভিজ্ঞতাক সমৃদ্ধ করবে সবসময় সেসব খুঁজা উচিত তাদের।
নিচের টেবিল আপনাকে মনে করাবে কীভাবে একজন টিনএজ বয়সী তার টিনএজ বয়সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে, আর কীভাবে রাসূল কিশোর বয়সের কঠিন সময় নিরাপদে পার করেছিলেন।
সাধারণভাবে টিনএজরা রুটিন অপছন্দ করে। সফর ও পরিবর্তন পছন্দ করে। ১৩ বছর বয়সে আবু তালিব যখন সিরিয়া সফরে গেলেন, তখন রাসূল তাঁর সাথে যাওয়ার আগ্রহ দেখালেন। این বয়সে মক্কা থেকে সিরিয়া সফর খুব কষ্টকর। এর দূরত্ব প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার। ২০-৩০ দিনের সফর। পিচঢালা পথে গাড়িতে করে যারা মক্কা থেকে দামাস্কাস গিয়েছেন তাদেরই অনেকে সফরের ক্লান্তি নিয়ে অভিযোগ করেন। তাহলে উটে চড়ে সেখানে যাওয়া কেমন ছিল ভেবে দেখেন।
কিশোর-কিশোরীরা যদিও প্রাণশক্তিতে ভরপুর এবং তারা রোমাঞ্চ পছন্দ করে, কিন্তু রাসূল -এর জন্য এ যাত্রা খুব কঠিন হওয়ার কথা। একে তো এত লম্বা দূরত্ব সফরের অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। অন্যদিকে বাণিজ্য কাফেলায় তার সমবয়সী আর কেউ না-থাকায় তার মধ্যে বিরক্তি চলে আসাটা স্বাভাবিক ছিল।
আমি জানি না এই সফরে সফরকারীরা কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন। কী কী দর্শনীয় স্থান তারা দেখেছিলেন, তবে নিচের জিনিসগুলো দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে:
• ঐতিহাসিক স্থান: মাদাইন সালিহ। আজকের দিনে উত্তরপশ্চিম সাউদি আরাবিয়া। নাবাতি সভ্যতা পাথরে কেটে এই শহর বানিয়েছিল। আধুনিক জর্দানের পেত্রা শহরের মতো। অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে আছে সোডোম ও গোমরাহ। রোমানদের তৈরি মসৃণ রাস্তা।
• বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক লীলা ও আবহাওয়া: মক্কার আশেপাশের পাহাড় ও সমভূমি; ওয়াদি সারহানের জলাভূমি, বর্তমানে এটা জর্দান-সাউদির সীমান্তের কাছে; নেফুদ, প্রচুর উপবৃত্তাকার নিচু জায়গা ও মরুভূমি; জর্দানে সাত ঘুমন্ত যুবকের গুহা। উত্তর আরব উপদ্বীপ দিয়ে লোহিত সাগরের পাশ ঘেঁষে কাফেলা দক্ষিণ সিরিয়ায় বসরায় নেফুদ মরুভূমি পার করেছে।
• বিভিন্ন সমাজ ও ধর্ম: হিজাজের মূর্তিপূজারি, মদিনার ইহুদি গোষ্ঠী, লাখমিদ, বানু জুদহাম ও গাস্সানিদ গোত্রের খ্রিষ্টান আরব, ও সন্ন্যাসীরা, যার মধ্যে একজন ছিল বাহিরা।
সফর করা আজকাল অনেকের সামর্থ্যের মধ্যে। সহজও। তাই টিনএজ বয়সীদের জন্য সফর আসল চ্যালেঞ্জ না; বরং, সেই সফরকে তারা নিজেদের ও নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য বিকাশে কীভাবে ব্যবহার করবে সেটা চ্যালেঞ্জ। এটা যেকোনো বয়সী মানুষদের জন্যও খাটে।
সিরিয়া সফরের মাধ্যমে রাসূল নিজে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানগুলো দেখেছেন। তাঁর চাচার সাথে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে নানান সংস্কৃতি, ভাষা ও প্রথার মুখোমুখী হয়েছেন। বাহিরা সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়েছে।
নিজের থেকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদের সাথে মেশা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিশোর-কিশোরীদের উন্মুখ হয়ে থাকা দরকার। যেগুলো তাদের অভিজ্ঞতাক সমৃদ্ধ করবে সবসময় সেসব খুঁজা উচিত তাদের।
নিচের টেবিল আপনাকে মনে করাবে কীভাবে একজন টিনএজ বয়সী তার টিনএজ বয়সের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে, আর কীভাবে রাসূল কিশোর বয়সের কঠিন সময় নিরাপদে পার করেছিলেন।
📄 রাসূল ﷺ-এর কিশোর বয়স থেকে ফায়দা
| রাসূল-এর কৈশোর | আপনার কৈশোর |
| :--- | :--- |
| রাসূল তাঁর চাচাকে সাহায্য করার জন্য রাখালের দায়িত্ব পালন করেছেন। | আপনার বাবা-মাকে সাহায্য করুন। এমনকি যদি তারা সরাসরি সাহায্য না-ও চায়। |
| রাসূল তাড়াহুড়ো করে খেতেন না। বিশেষ করে যখন অনেকের সাথে বসে একসঙ্গে খেতেন। | কিছু চাওয়ার সময় ধৈর্য ধরুন, ভদ্র থাকুন। বন্ধুত্বপূর্ণ থাকুন। |
| রাসূল সবসময় চুল আঁচড়ে রাখতেন। ছিমছাম থাকতেন। | আপনার সামগ্রিক বাহ্যরূপের খেয়াল রাখুন, এমনকি যদি বাসায় পরিবারের সাথে থাকেন তবুও। |
| আল্লাহর রাসূল-কে সুরক্ষা করেছিলেন গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর কটিবস্ত্র পরতে বলে। | আপনার অভ্যন্তরীণ ভয়েস ও বিবেক আপনাকে বলে দিক কোনটা খারাপ কোনটা ভালো। আস্থাভাজন থাকুন। এমনকি যদি আপনি বাবা-মা বা অন্য জ্ঞানী কারও তত্ত্বাবধান থেকে দূরে থাকেন তবুও। |
| খারাপ পথে যাওয়া থেকে আল্লাহ রাসূল-কে নিরাপদ রেখেছিলেন। রাসূল শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। | আপনার বেলায় আল্লাহ হয়ত এমন প্রকাশ্য হবেন না। কাজেই আপনাকে তাঁর সুরক্ষার নিদর্শন খুঁজে নিতে হবে। |
| রাসূল বাহিরা সন্ন্যাসীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মূর্তিপূজারীদের দেবদেবীর নামে কসম কাটবেন না। | কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই অন্ধের মতো তাদের অনুকরণ করবেন না। নিজের বিশ্বাস ভদ্রোচিতভাবে জানিয়ে দিন। |
| রাসূল সিরিয়ায় সফর করেছিলেন। সেই কাফেলায় তিনি ছিলেন সবচেয়ে কমবয়স্ক। | নিজেকে নতুন রোমাঞ্চের সামনে উন্মোচিত করুন। যা দেখেন তা দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করুন। |
| রাসূল-এর কৈশোর | আপনার কৈশোর |
| :--- | :--- |
| রাসূল তাঁর চাচাকে সাহায্য করার জন্য রাখালের দায়িত্ব পালন করেছেন। | আপনার বাবা-মাকে সাহায্য করুন। এমনকি যদি তারা সরাসরি সাহায্য না-ও চায়। |
| রাসূল তাড়াহুড়ো করে খেতেন না। বিশেষ করে যখন অনেকের সাথে বসে একসঙ্গে খেতেন। | কিছু চাওয়ার সময় ধৈর্য ধরুন, ভদ্র থাকুন। বন্ধুত্বপূর্ণ থাকুন। |
| রাসূল সবসময় চুল আঁচড়ে রাখতেন। ছিমছাম থাকতেন। | আপনার সামগ্রিক বাহ্যরূপের খেয়াল রাখুন, এমনকি যদি বাসায় পরিবারের সাথে থাকেন তবুও। |
| আল্লাহর রাসূল-কে সুরক্ষা করেছিলেন গায়েবি আওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর কটিবস্ত্র পরতে বলে। | আপনার অভ্যন্তরীণ ভয়েস ও বিবেক আপনাকে বলে দিক কোনটা খারাপ কোনটা ভালো। আস্থাভাজন থাকুন। এমনকি যদি আপনি বাবা-মা বা অন্য জ্ঞানী কারও তত্ত্বাবধান থেকে দূরে থাকেন তবুও। |
| খারাপ পথে যাওয়া থেকে আল্লাহ রাসূল-কে নিরাপদ রেখেছিলেন। রাসূল শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। | আপনার বেলায় আল্লাহ হয়ত এমন প্রকাশ্য হবেন না। কাজেই আপনাকে তাঁর সুরক্ষার নিদর্শন খুঁজে নিতে হবে। |
| রাসূল বাহিরা সন্ন্যাসীকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মূর্তিপূজারীদের দেবদেবীর নামে কসম কাটবেন না। | কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই অন্ধের মতো তাদের অনুকরণ করবেন না। নিজের বিশ্বাস ভদ্রোচিতভাবে জানিয়ে দিন। |
| রাসূল সিরিয়ায় সফর করেছিলেন। সেই কাফেলায় তিনি ছিলেন সবচেয়ে কমবয়স্ক। | নিজেকে নতুন রোমাঞ্চের সামনে উন্মোচিত করুন। যা দেখেন তা দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করুন। |