📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 ঘরে ভালোবাসা ও সম্মান

📄 ঘরে ভালোবাসা ও সম্মান


চাচা আবু তালিবের ঘরে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল আটজন। আবু তালিব, তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে আসাদ। তাদের সন্তান জাফর, জুমানা, ফাখিতা, আকিল, আলী ও তালিব। তাদের ঘরবাড়ির আকার, কতগুলো রুম ছিল, কেমন আসবাবপত্র ছিল- সে ব্যাপারে কিছু জানি যায় না। তবে ঐতিহাসিকগণ বলেন, তাদের পরিবারের হাল-হাকিকত খুব একটা ভালো ছিল না। আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারে মাঝে মাঝে বিবাদ হতো। তবে পরিবারের পরিবেশ স্থিতিশীল ছিল। কিশোর বয়সের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো ছিল। একে অপরের কদর করত।

এই সময়ে আল্লাহ তায়ালা কীভাবে তাঁকে সুরক্ষা করেছেন, সে ব্যাপারে তিনি বলেন, 'তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পেয়ে আশ্রয় দেননি'? আদ দ্বোহা: ৬

আশ্রয় বলতে এখানে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের কথা বলা হয়নি; বরং স্থিতিশীল পরিবার এবং যে পরিবার টিনএজদের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রয়োজন মেটায় তার কথাও বলা হয়েছে।

অসংখ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে, স্থিতিশীল পরিবারে বেড়ে উঠলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হয়। স্কুলে এদের পারফরম্যান্স ভালো হয়। ড্রাগ ব্যবহার বা আত্মহত্যার মতো সমস্যাগুলোতে পড়ার আশঙ্কা কম হয়। স্থিতিশীলতা ও বোঝাপড়ার সাথে ভালোবাসা ও স্নেহও থাকতে হবে। রাসূল তাঁর কিশোর বয়সে এর সবই পেয়েছিলেন।

আবু তালিব যে কিশোর মুহাম্মাদকে কতটা ভালোবাসতেন তার কিছু নমুনা দিই।

* সবাই একসাথে খাওয়ার আগে তার জন্য অপেক্ষা করত।
* তাঁর কাছাকাছি ঘুমাতেন।
* সফরে বা কোথাও গেলে তাঁকে নিয়ে যেতেন।

যে ঘরে সাত সাতটা বাচ্চা থাকে, সে ঘর- হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম। আবু তালিবের স্ত্রী ফাতিমা এক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। চিরায়ত জীবনীগ্রন্থগুলোতে তার ব্যাপারে খুব একটা কথা পাওয়া যায় না। রাসূলের সাথে তার সম্পর্ক কেমন ছিল তার কমই জানি। মা হিসেবে তিনি কিন্তু চমৎকার ছিলেন। রাসূল তো এ ঘরে বড় হয়েছেনই, আলী আর জাফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ব্যক্তিত্বরাও কিন্তু এ ঘরেই মানুষ হয়েছেন। চাচীর ব্যাপারে রাসূল একবার বলেছিলেন, 'চাচার পর চাচীর মতো আর কেউ আমার প্রতি এত দরদি ছিলেন না'। খাদিজা (রা)-এর সাথে বিয়ে হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূল এ বাড়িতে ছিলেন। প্রায় সতের বছর। এ বাসা ছেড়ে দেওয়ার পরও চাচীর সাথে তার সম্পর্ক কমেনি; বরং বেড়েছে।

আবু তালিবের মৃত্যুর পর চাচী ফাতিমা বিনতে আসাদ ইসলাম কবুল করেন। এরপর তার ছেলে আলী ও বউমা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে চলে আসেন। ছোট থাকতে রাসূলকে চাচী যেভাবে যত্নআত্তি করেছেন, নবিকন্যা ফাতিমা (রা)ও তার শাশুড়িকে সেভাবে যত্নআত্তি করেছেন। দুজন ফাতিমার মধ্যে গুলিয়ে ফেলবেন না। ফাতিমা বিনতে আসাদ রাসূলের চাচী। আর ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ রাসূল-এর কন্যা।

মদিনায় মৃত্যুর আগপর্যন্ত চাচীর কাছাকাছি ছিলেন রাসূল। তার মৃত্যুর পর তিনি নিজ হাতে তার কবর খুঁড়েছেন তার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে। তার জন্য দোয়া করেছেন।

আপনিও আপনার টিনএজ ছেলেমেয়েদের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ুন, যে সম্পর্ক দিনদিন শুধু বাড়বেই।

চাচা আবু তালিবের ঘরে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল আটজন। আবু তালিব, তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে আসাদ। তাদের সন্তান জাফর, জুমানা, ফাখিতা, আকিল, আলী ও তালিব। তাদের ঘরবাড়ির আকার, কতগুলো রুম ছিল, কেমন আসবাবপত্র ছিল- সে ব্যাপারে কিছু জানি যায় না। তবে ঐতিহাসিকগণ বলেন, তাদের পরিবারের হাল-হাকিকত খুব একটা ভালো ছিল না। আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারে মাঝে মাঝে বিবাদ হতো। তবে পরিবারের পরিবেশ স্থিতিশীল ছিল। কিশোর বয়সের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো ছিল। একে অপরের কদর করত।

এই সময়ে আল্লাহ তায়ালা কীভাবে তাঁকে সুরক্ষা করেছেন, সে ব্যাপারে তিনি বলেন, 'তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পেয়ে আশ্রয় দেননি'? আদ দ্বোহা: ৬

আশ্রয় বলতে এখানে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের কথা বলা হয়নি; বরং স্থিতিশীল পরিবার এবং যে পরিবার টিনএজদের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রয়োজন মেটায় তার কথাও বলা হয়েছে।

অসংখ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে, স্থিতিশীল পরিবারে বেড়ে উঠলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হয়। স্কুলে এদের পারফরম্যান্স ভালো হয়। ড্রাগ ব্যবহার বা আত্মহত্যার মতো সমস্যাগুলোতে পড়ার আশঙ্কা কম হয়। স্থিতিশীলতা ও বোঝাপড়ার সাথে ভালোবাসা ও স্নেহও থাকতে হবে। রাসূল তাঁর কিশোর বয়সে এর সবই পেয়েছিলেন।

আবু তালিব যে কিশোর মুহাম্মাদকে কতটা ভালোবাসতেন তার কিছু নমুনা দিই।

* সবাই একসাথে খাওয়ার আগে তার জন্য অপেক্ষা করত।
* তাঁর কাছাকাছি ঘুমাতেন।
* সফরে বা কোথাও গেলে তাঁকে নিয়ে যেতেন।

যে ঘরে সাত সাতটা বাচ্চা থাকে, সে ঘর- হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম। আবু তালিবের স্ত্রী ফাতিমা এক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। চিরায়ত জীবনীগ্রন্থগুলোতে তার ব্যাপারে খুব একটা কথা পাওয়া যায় না। রাসূলের সাথে তার সম্পর্ক কেমন ছিল তার কমই জানি। মা হিসেবে তিনি কিন্তু চমৎকার ছিলেন। রাসূল তো এ ঘরে বড় হয়েছেনই, আলী আর জাফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ব্যক্তিত্বরাও কিন্তু এ ঘরেই মানুষ হয়েছেন। চাচীর ব্যাপারে রাসূল একবার বলেছিলেন, 'চাচার পর চাচীর মতো আর কেউ আমার প্রতি এত দরদি ছিলেন না'। খাদিজা (রা)-এর সাথে বিয়ে হওয়ার আগ পর্যন্ত রাসূল এ বাড়িতে ছিলেন। প্রায় সতের বছর। এ বাসা ছেড়ে দেওয়ার পরও চাচীর সাথে তার সম্পর্ক কমেনি; বরং বেড়েছে।

আবু তালিবের মৃত্যুর পর চাচী ফাতিমা বিনতে আসাদ ইসলাম কবুল করেন। এরপর তার ছেলে আলী ও বউমা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাছে চলে আসেন। ছোট থাকতে রাসূলকে চাচী যেভাবে যত্নআত্তি করেছেন, নবিকন্যা ফাতিমা (রা)ও তার শাশুড়িকে সেভাবে যত্নআত্তি করেছেন। দুজন ফাতিমার মধ্যে গুলিয়ে ফেলবেন না। ফাতিমা বিনতে আসাদ রাসূলের চাচী। আর ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ রাসূল-এর কন্যা।

মদিনায় মৃত্যুর আগপর্যন্ত চাচীর কাছাকাছি ছিলেন রাসূল। তার মৃত্যুর পর তিনি নিজ হাতে তার কবর খুঁড়েছেন তার প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে। তার জন্য দোয়া করেছেন।

আপনিও আপনার টিনএজ ছেলেমেয়েদের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ুন, যে সম্পর্ক দিনদিন শুধু বাড়বেই।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 কিশোরদের সমর্থন দরকার

📄 কিশোরদের সমর্থন দরকার


কিশোরদের জন্য বয়সটা শঙ্কুল। তাই পরিবারের উচিত সবধরনের সহায়তা করা। আদর-যত্ন ভালোবাসা দেওয়া। এগুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে, কারণ,

* ওরা মানুষের আকর্ষণ চায়। মূল্যায়ন চায়। আপনি সেটা দিচ্ছেন। ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
* আত্মবিশ্বাসের সাথে ওরা দায়িত্ববান হয়।

প্রথমে মা, এরপর দাদি, তারপর চাচী- সবার কাছেই রাসূল আদর ভালোবাসায় মানুষ হয়েছেন। বিনিময়ে তিনিও তাঁর চাচা-চাচীর ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছেন। চাচাকে সাহায্যের জন্য তিনি রাখাল হিসেবে কাজ করেছেন। চাচার মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই একই বছরে তাঁর প্রাণপ্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা)ও মারা যান। সে বছরটা দুঃখের বছর নামে পরিচিত। চাচীর মৃত্যুতেও তিনি বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি নিজ হাতে তাঁর কবর খুঁড়েছেন। মহান আল্লাহর কাছে তার মুক্তির জন্য দোয়া করেছেন।

কিশোরদের জন্য বয়সটা শঙ্কুল। তাই পরিবারের উচিত সবধরনের সহায়তা করা। আদর-যত্ন ভালোবাসা দেওয়া। এগুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে, কারণ,

* ওরা মানুষের আকর্ষণ চায়। মূল্যায়ন চায়। আপনি সেটা দিচ্ছেন। ওদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
* আত্মবিশ্বাসের সাথে ওরা দায়িত্ববান হয়।

প্রথমে মা, এরপর দাদি, তারপর চাচী- সবার কাছেই রাসূল আদর ভালোবাসায় মানুষ হয়েছেন। বিনিময়ে তিনিও তাঁর চাচা-চাচীর ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছেন। চাচাকে সাহায্যের জন্য তিনি রাখাল হিসেবে কাজ করেছেন। চাচার মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই একই বছরে তাঁর প্রাণপ্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা)ও মারা যান। সে বছরটা দুঃখের বছর নামে পরিচিত। চাচীর মৃত্যুতেও তিনি বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি নিজ হাতে তাঁর কবর খুঁড়েছেন। মহান আল্লাহর কাছে তার মুক্তির জন্য দোয়া করেছেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 আপনি কীভাবে টিনএজদের ভালোবাসবেন?

📄 আপনি কীভাবে টিনএজদের ভালোবাসবেন?


* তার অর্জনগুলো উৎযাপন করুন।
* তাকে বিচার না-করে বা বাধা না-দিয়ে তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
* তাকে জানান যে, আপনি তাকে ভালোবাসেন, তার মূল্যায়ন করেন।

* তার অর্জনগুলো উৎযাপন করুন।
* তাকে বিচার না-করে বা বাধা না-দিয়ে তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
* তাকে জানান যে, আপনি তাকে ভালোবাসেন, তার মূল্যায়ন করেন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 সম্মান

📄 সম্মান


ভালোবাসার সাথে সম্মানও দরকার। রাসূল -এর পরিবার তাকে সর্বোচ্চ সম্মান করত। এটা তার বিশুদ্ধ ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করেছে। যে কারণে তিনি ছোট বয়স থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন। উনি কীভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন, আর আপনি তা থেকে কী ফায়দা নিতে পারেন চলুন দেখি-

| রাসূল-এর ব্যবহার | আপনার আচরণ |
| :--- | :--- |
| রাসূল তখন ১২ বছরের বালক। এক সন্ন্যাসী তাঁকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শর্ত দিলেন লাত আর উয্যার কসম কাটতে। তিনি বললেন, 'লাত, উয্যার নামে আমাকে কিছু বলতে বলবেন না। আল্লাহর কসম, এদেরকে আমি সবচেয়ে ঘৃণা করি। এখন আপনি আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন'। | সংখ্যায় বেশি হলেই কারও মত অনুসরণের যোগ্য হয় না। রাসূল-এর আশেপাশে বেশিরভাগই ছিল মূর্তিপূজারি। কিন্তু তিনি তা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। সুতরাং ভদ্রভাবে এবং অন্যের মতের প্রতি সম্মান রেখে নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করুন। |
| চাচা-চাচী, চাচাতো ভাইবোনদের সাথে বসে ধীরে-সুস্থে খাবার খেতেন। গোগ্রাসে গিলতেন না। খাওয়া শেষ করেই হুটহাট উঠে যেতেন না। | কোনো কিছু নিয়ে অধৈর্য হবেন না। পীড়াপীড়ি করবেন না। ধৈর্য ধরুন। কিছু চাইতে হলে সুন্দর করে সম্মান রেখে চান। |
| ঘুম থেকে উঠে ঘুমকাতুরে চোখ আর উচ্ছৃঙ্খল হয়ে তিনি বের হতেন না। অন্যান্যদের সাথে দেখা করার আগে চোখমুখ ধুতেন। চুল আঁচড়াতেন। | ঘরে পরিবারের ভেতরেও নিজের অ্যাপিয়ারেন্সের খেয়াল রাখুন। |

মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার নিয়ে আবু তালিবের সুনাম ছিল। মক্কাবাসী তাকে বেশ শ্রদ্ধা করত। যদিও তার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। আর গরিবদেরও সে সমাজে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখা হতো না। আদি আরব ঘটনাপঞ্জিতে আছে, আবু তালিব আর উতবা ছাড়া গরিব কুরাইশদের মধ্যে কেউ শক্তিশালী ছিল না। টাকাপয়সা ছাড়াই এরা ক্ষমতাশালী হয়।

আবু তালিবের আবির্ভাব ছিল নিয়মের ব্যতিক্রম। তার নিষ্কলুষ নৈতিকতার কারণেই এমনটা হয়েছে। তার স্ত্রী, ছয় সন্তান এবং ভাতিজা মুহাম্মাদ-এর সাথে আচরণে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। টিনএজারদের জন্য শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল যে এমন একটা পরিবেশ পেয়েছেন, তার কারণ আবু তালিব ব্যক্তি হিসেবে এমনই ছিলেন। তিনি রাসূল-কে কখনো মারধোর করেছেন, গালিবকা দিয়েছেন বা কাউকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন- এমনটা কল্পনা করা কঠিন। তার মতো সম্মানিত একজন ব্যক্তির পক্ষে এসব বেমানান।

একবার ভেবে দেখেন, এই চাচার বাসায় বড় না হয়ে তিনি যদি চাচা আবু লাহাবের ঘরে বড় হতেন, তাহলে কি তিনি একই আচরণ পেতেন? টিনএজ ছেলেমেয়ে ঘরে কতটা সম্মান পাবে, সেটা তার নিজের চেয়ে বেশি নির্ভর করে কারা তার দেখাশোনা করছে তার ওপর। চলুন দেখি, আবু তালিব কীভাবে রাসূল-এর এই বয়সটা ব্যবহার করেছেন, আর আপনি তা থেকে কী ফায়দা নিতে পারেন।

ভালোবাসার সাথে সম্মানও দরকার। রাসূল -এর পরিবার তাকে সর্বোচ্চ সম্মান করত। এটা তার বিশুদ্ধ ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করেছে। যে কারণে তিনি ছোট বয়স থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন। উনি কীভাবে দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন, আর আপনি তা থেকে কী ফায়দা নিতে পারেন চলুন দেখি-

| রাসূল-এর ব্যবহার | আপনার আচরণ |
| :--- | :--- |
| রাসূল তখন ১২ বছরের বালক। এক সন্ন্যাসী তাঁকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শর্ত দিলেন লাত আর উয্যার কসম কাটতে। তিনি বললেন, 'লাত, উয্যার নামে আমাকে কিছু বলতে বলবেন না। আল্লাহর কসম, এদেরকে আমি সবচেয়ে ঘৃণা করি। এখন আপনি আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন'। | সংখ্যায় বেশি হলেই কারও মত অনুসরণের যোগ্য হয় না। রাসূল-এর আশেপাশে বেশিরভাগই ছিল মূর্তিপূজারি। কিন্তু তিনি তা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। সুতরাং ভদ্রভাবে এবং অন্যের মতের প্রতি সম্মান রেখে নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করুন। |
| চাচা-চাচী, চাচাতো ভাইবোনদের সাথে বসে ধীরে-সুস্থে খাবার খেতেন। গোগ্রাসে গিলতেন না। খাওয়া শেষ করেই হুটহাট উঠে যেতেন না। | কোনো কিছু নিয়ে অধৈর্য হবেন না। পীড়াপীড়ি করবেন না। ধৈর্য ধরুন। কিছু চাইতে হলে সুন্দর করে সম্মান রেখে চান। |
| ঘুম থেকে উঠে ঘুমকাতুরে চোখ আর উচ্ছৃঙ্খল হয়ে তিনি বের হতেন না। অন্যান্যদের সাথে দেখা করার আগে চোখমুখ ধুতেন। চুল আঁচড়াতেন। | ঘরে পরিবারের ভেতরেও নিজের অ্যাপিয়ারেন্সের খেয়াল রাখুন। |

মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার নিয়ে আবু তালিবের সুনাম ছিল। মক্কাবাসী তাকে বেশ শ্রদ্ধা করত। যদিও তার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। আর গরিবদেরও সে সমাজে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখা হতো না। আদি আরব ঘটনাপঞ্জিতে আছে, আবু তালিব আর উতবা ছাড়া গরিব কুরাইশদের মধ্যে কেউ শক্তিশালী ছিল না। টাকাপয়সা ছাড়াই এরা ক্ষমতাশালী হয়।

আবু তালিবের আবির্ভাব ছিল নিয়মের ব্যতিক্রম। তার নিষ্কলুষ নৈতিকতার কারণেই এমনটা হয়েছে। তার স্ত্রী, ছয় সন্তান এবং ভাতিজা মুহাম্মাদ-এর সাথে আচরণে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। টিনএজারদের জন্য শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল যে এমন একটা পরিবেশ পেয়েছেন, তার কারণ আবু তালিব ব্যক্তি হিসেবে এমনই ছিলেন। তিনি রাসূল-কে কখনো মারধোর করেছেন, গালিবকা দিয়েছেন বা কাউকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন- এমনটা কল্পনা করা কঠিন। তার মতো সম্মানিত একজন ব্যক্তির পক্ষে এসব বেমানান।

একবার ভেবে দেখেন, এই চাচার বাসায় বড় না হয়ে তিনি যদি চাচা আবু লাহাবের ঘরে বড় হতেন, তাহলে কি তিনি একই আচরণ পেতেন? টিনএজ ছেলেমেয়ে ঘরে কতটা সম্মান পাবে, সেটা তার নিজের চেয়ে বেশি নির্ভর করে কারা তার দেখাশোনা করছে তার ওপর। চলুন দেখি, আবু তালিব কীভাবে রাসূল-এর এই বয়সটা ব্যবহার করেছেন, আর আপনি তা থেকে কী ফায়দা নিতে পারেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00