📄 মূর্তিপূজা
ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।
ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।
📄 আল্লাহর উপাসনাকারীরা
মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।
মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।
📄 নিজের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ
সে সময়কার মক্কার ব্যাপারে বলতে গেলে আরও অনেক কিছু বলা যায়। তবে আমরা এখানে সাধারণভাবে সমাজের একটা রূপ তুলে ধরেছি। সমাজের এ অবস্থাতেই রাসূল বড় হয়েছেন। তবে সমাজ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি; বরং তিনি তাঁর পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
সে সময়কার মক্কার ব্যাপারে বলতে গেলে আরও অনেক কিছু বলা যায়। তবে আমরা এখানে সাধারণভাবে সমাজের একটা রূপ তুলে ধরেছি। সমাজের এ অবস্থাতেই রাসূল বড় হয়েছেন। তবে সমাজ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি; বরং তিনি তাঁর পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
📄 প্রকৃতি বনাম পরিচর্যা
পরের অধ্যায়ে আমি রাসূল -এর পরিবারের বাড়তি সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলব। কীভাবে তারা রাসূলের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন সেটা নিয়ে বলব। তবে এ অধ্যায়ে একটা বিশেষ দিকের কথা বলে শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
প্রকৃতি বনাম পরিচর্যার বিতর্ক শতকের পর শতক ধরে চলে আসছে। কোনো সমাধান হয়নি। মানুষের বিকাশে প্রকৃতিই সব নাকি তার পরিচর্যা। এটা নিয়ে যত বিতর্ক। তবে আমার কাছে এর সবচেয়ে বাস্তবভিত্তিক সমাধান হচ্ছে, আমাদের পরিবেশ বা জিন কোনোটাই না। আমি নিজেই।
আপনার পরিবেশ, আপনার আশেপাশের লোকজনদের সাথে আপনার ব্যবহার কেমন হবে সেটা আপনারই হাতে। আপনার পরিবেশ ও জিন গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়টাকে এমন ভেবে ভুল করবেন না যে, নিজের গতিপথ নির্ধারণে আমার কোনো ক্ষমতাই নেই।
এই অধ্যায়ে আমরা দেখেছি মানুষের বাস্তবজীবনের অভিজ্ঞতা। অনেকে তাদের পরিবেশের ওপর কর্তৃত্ব করেছিলেন। অনেকে মুখোমুখি হয়েছেন।
কঠিন সব পরিস্থিতি ও অসহায়ক পরিবেশের। তারা এসব প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে সমাজে জায়গা করে নিয়েছিলেন। নিচের টেবিলে এসব অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণগুলো আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো:
পরের অধ্যায়ে আমি রাসূল -এর পরিবারের বাড়তি সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলব। কীভাবে তারা রাসূলের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন সেটা নিয়ে বলব। তবে এ অধ্যায়ে একটা বিশেষ দিকের কথা বলে শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
প্রকৃতি বনাম পরিচর্যার বিতর্ক শতকের পর শতক ধরে চলে আসছে। কোনো সমাধান হয়নি। মানুষের বিকাশে প্রকৃতিই সব নাকি তার পরিচর্যা। এটা নিয়ে যত বিতর্ক। তবে আমার কাছে এর সবচেয়ে বাস্তবভিত্তিক সমাধান হচ্ছে, আমাদের পরিবেশ বা জিন কোনোটাই না। আমি নিজেই।
আপনার পরিবেশ, আপনার আশেপাশের লোকজনদের সাথে আপনার ব্যবহার কেমন হবে সেটা আপনারই হাতে। আপনার পরিবেশ ও জিন গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিষয়টাকে এমন ভেবে ভুল করবেন না যে, নিজের গতিপথ নির্ধারণে আমার কোনো ক্ষমতাই নেই।
এই অধ্যায়ে আমরা দেখেছি মানুষের বাস্তবজীবনের অভিজ্ঞতা। অনেকে তাদের পরিবেশের ওপর কর্তৃত্ব করেছিলেন। অনেকে মুখোমুখি হয়েছেন।
কঠিন সব পরিস্থিতি ও অসহায়ক পরিবেশের। তারা এসব প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে সমাজে জায়গা করে নিয়েছিলেন। নিচের টেবিলে এসব অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণগুলো আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো: