📄 প্রভাব বলয়
আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ঘ্যানঘ্যান না-করে আমাদের প্রভাব বলয় বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করা উচিত। উদ্বিগ্ন বলয় হচ্ছে, সেসব সমস্যা যেগুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করে। যেমন- নীতিবোধ বিসর্জন, অন্যান্য লোকদের আচারআচরণ। প্রভাব বলয় হচ্ছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
আমরা হয়ত অন্যের আচার-আচরণ না-ও বদলাতে পারি। কিন্তু আমরা নিজেদের নিয়ে তো ভাবতে পারি? নিজেদের নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা তো পালন করতে পারি?
রাসূল -এর বেলায় কী হয়েছিল দেখুন। সুক উকাজে কেউ লেকচার শুনতে আসত না। কিস্ ইব্ন্ সাদ্রের কথা মাথায় রাখা তো দূরের কথা, শুনতেই বা কজন দাঁড়াত! আর বাজারের যা পরিবেশ ছিল, তাতে ওদিকে কারও খেয়ালও হতো না। সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে লোকজন বাজারে আসত। (কিসের ভাষায় 'বেখেয়াল'।) অন্যান্য তরুণেরা যেখানে বাজারের নোংরামিতে ঢলে পড়েছিল, রাসূল সেখানে বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন। জ্ঞান খুঁজেছেন। তিনি সেই সমাজ থেকে সরে পড়েননি। কিন্তু খারাপ পথ থেকে ঠিকই দূরে থেকেছেন। অন্যান্য তরুণদের মতো না।
আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ঘ্যানঘ্যান না-করে আমাদের প্রভাব বলয় বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করা উচিত। উদ্বিগ্ন বলয় হচ্ছে, সেসব সমস্যা যেগুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করে। যেমন- নীতিবোধ বিসর্জন, অন্যান্য লোকদের আচারআচরণ। প্রভাব বলয় হচ্ছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
আমরা হয়ত অন্যের আচার-আচরণ না-ও বদলাতে পারি। কিন্তু আমরা নিজেদের নিয়ে তো ভাবতে পারি? নিজেদের নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা তো পালন করতে পারি?
রাসূল -এর বেলায় কী হয়েছিল দেখুন। সুক উকাজে কেউ লেকচার শুনতে আসত না। কিস্ ইব্ন্ সাদ্রের কথা মাথায় রাখা তো দূরের কথা, শুনতেই বা কজন দাঁড়াত! আর বাজারের যা পরিবেশ ছিল, তাতে ওদিকে কারও খেয়ালও হতো না। সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে লোকজন বাজারে আসত। (কিসের ভাষায় 'বেখেয়াল'।) অন্যান্য তরুণেরা যেখানে বাজারের নোংরামিতে ঢলে পড়েছিল, রাসূল সেখানে বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন। জ্ঞান খুঁজেছেন। তিনি সেই সমাজ থেকে সরে পড়েননি। কিন্তু খারাপ পথ থেকে ঠিকই দূরে থেকেছেন। অন্যান্য তরুণদের মতো না।
📄 মূর্তিপূজা
ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।
ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।
📄 আল্লাহর উপাসনাকারীরা
মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।
মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।
📄 নিজের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ
সে সময়কার মক্কার ব্যাপারে বলতে গেলে আরও অনেক কিছু বলা যায়। তবে আমরা এখানে সাধারণভাবে সমাজের একটা রূপ তুলে ধরেছি। সমাজের এ অবস্থাতেই রাসূল বড় হয়েছেন। তবে সমাজ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি; বরং তিনি তাঁর পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
সে সময়কার মক্কার ব্যাপারে বলতে গেলে আরও অনেক কিছু বলা যায়। তবে আমরা এখানে সাধারণভাবে সমাজের একটা রূপ তুলে ধরেছি। সমাজের এ অবস্থাতেই রাসূল বড় হয়েছেন। তবে সমাজ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি; বরং তিনি তাঁর পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।