📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 বাজারে রাসূল ﷺ

📄 বাজারে রাসূল ﷺ


সময়ের ঘড়িতে চড়ে আপনি যদি সেই সময়ের সুক উকাজে যেতে পারতেন, তাহলে অবাক করা কিছু ব্যাপারস্যাপার দেখতেন। সে সময়ের জন্য অবশ্য সেগুলো স্বাভাবিক ছিল। নারীরা তো বোরকা পরতই, অনেক পুরুষেরাও তাদের মুখ ঢেকে চলত।
অনেকে বলেন, তারা তাদের সুদর্শন চেহারা ঢাকার জন্য এমনটা করতেন। তবে সবার ব্যাপারে এমনটা হওয়া সংগত না। কেউ কেউ বলেন, তাদের ঘিরে রহস্যের জাল বোনার জন্য এমন করতেন। তবে যে কারণটা বেশি বাস্তবসম্মত তা হলো, তাদের যাতে চেনা না-যায়। নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের অপহরণ করতে পারে।
আপনি হয়ত দেখতেন লোকজন এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্পগুজব করছে। কিচ্ছাকাহিনি রটাচ্ছে। কোনো গণক তির ছুড়ে হ্যাঁ-না'র মাধ্যমে কোনো কাজের ভবিষ্যত নির্ধারণ করছেন। আজকের যুগের ম্যাজিক এইট বলের মতো।
মানুষ, পণ্য আর কাজকর্মের এক রঙিন আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ।
রাসূল মক্কার মার্কেটের এ রকম রমরমা সময়েই জীবনযাপন করেছেন। ব্যবসা করেছেন। কিন্তু ভালো-খারাপ আলাদা করে চলার মতো বোধবুদ্ধি তাঁর ছিল।
দেখে যদিও মনে হতো বাজারে সবাই বুঝি নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে, রাসূল কিন্তু বিচক্ষণতার সাথে তা এড়িয়ে চলতেন। নিজের মূলনীতি ও বিশ্বাস দিয়ে সমাজের কাজকর্ম যাচাই করতেন। সমাজ কোনোকিছুকে ভালো চোখে দেখে বলে অন্ধের মতো তিনি তা গ্রহণ করেননি। খারাপ জানলে ঠিকই এড়িয়ে যেতেন।
মার্কেটে রাসূল জিনিসপত্র বেচেছেন। কিনেছেন। এর বাইরে নিজের জীবন ও স্রষ্টার ব্যাপারে ভাবনা জাগানো বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।
হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল-এর বয়স যখন বিশ, তখন সুক উকাজে কিস্ ইব্‌ন সাদারের বিখ্যাত এক ভাষণ শোনেন। তিনি মানুষদের সতর্ক করে দিচ্ছিলেন যে, মানুষগুলো আল্লাহর ব্যাপারে বেখেয়াল। আশপাশের মানুষগুলো অযথা ঘুরঘুর করছিল। কিন্তু তিনি মন দিয়ে তার কথা শুনেছেন। এ থেকে ধর্মের ব্যাপারে তার আদি উৎসাহের ধারণা পাওয়া যায়।
কিস্ তার ভাষণে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ-
'যারা একদিন বেঁচে ছিল, তারা আজ মারা গেছে। আর যারা মারা গেছে তাদের সব সুযোগ শেষ...। মানুষজন কি ভেবেছে দুনিয়াতে এসে আর ফিরে যাবে না? তারা কি তাদের কবর নিয়ে খুব খুশি? তারা কি সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নাকি সেখানে তাদেরকে ঘুমানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে? চুলোয় যাক খামখেয়ালি শাসক, পরিত্যাক্ত জাতি আর কালের খাতায় হারিয়ে যাওয়া শতাব্দী...। যারা উঁচু উঁচু অট্টালিকা বানিয়েছিল আজ তারা কোথায়? যারা সাজিয়েছিল, আরামের ব্যবস্থা করেছিল তারা আজ কোথায়...? তারা তোমাদের চেয়ে বড়লোক ছিল না? বেশিদিন জীবিত ছিল না...? এখন তাদের হাড্ডি ক্ষয় হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়িগুলো পরিত্যক্ত। বেওয়ারিশ কুকুর এখন সেখানে থাকে। কেবল মহান আল্লাহ চিরজীবী। তিনি একজনই। শুধু তিনি উপাসনা পাওয়ার অধিকারী। তাঁর কোনো বাবা-মা নেই। বাচ্চাকাচ্চাও নেই'।
এই কথা শোনারও আরও বিশ বছর পর রাসূল নবিত্বের দায়িত্ব পান। কিন্তু তখনো এই কথাগুলো তাঁর মাথায় ছিল। এই কথার এত গুরুত্ব কী? বিশ বছর বয়সী এক তরুণের জন্য বাজারের নানা প্রলোভন ছেড়ে এ ধরনের বক্তব্য শোনা কি ব্যতিক্রম না? সমাজের দোহাই দিয়ে রাসূল কি গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি কি ভালোটা বেছে নেননি? আমরা যারা প্রতিকূল সমাজে থাকি, যেখানে সবসময় খারাপ পথের ডাক, সেখানে থেকেও কীভাবে সঠিকটা বেছে নিতে পারি, সে ব্যাপারে এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক উপকার নিতে পারি। তরুণ ভাইবোনেরা খেয়াল করছেন তো?

সময়ের ঘড়িতে চড়ে আপনি যদি সেই সময়ের সুক উকাজে যেতে পারতেন, তাহলে অবাক করা কিছু ব্যাপারস্যাপার দেখতেন। সে সময়ের জন্য অবশ্য সেগুলো স্বাভাবিক ছিল। নারীরা তো বোরকা পরতই, অনেক পুরুষেরাও তাদের মুখ ঢেকে চলত।
অনেকে বলেন, তারা তাদের সুদর্শন চেহারা ঢাকার জন্য এমনটা করতেন। তবে সবার ব্যাপারে এমনটা হওয়া সংগত না। কেউ কেউ বলেন, তাদের ঘিরে রহস্যের জাল বোনার জন্য এমন করতেন। তবে যে কারণটা বেশি বাস্তবসম্মত তা হলো, তাদের যাতে চেনা না-যায়। নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের অপহরণ করতে পারে।
আপনি হয়ত দেখতেন লোকজন এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্পগুজব করছে। কিচ্ছাকাহিনি রটাচ্ছে। কোনো গণক তির ছুড়ে হ্যাঁ-না'র মাধ্যমে কোনো কাজের ভবিষ্যত নির্ধারণ করছেন। আজকের যুগের ম্যাজিক এইট বলের মতো।
মানুষ, পণ্য আর কাজকর্মের এক রঙিন আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ।
রাসূল মক্কার মার্কেটের এ রকম রমরমা সময়েই জীবনযাপন করেছেন। ব্যবসা করেছেন। কিন্তু ভালো-খারাপ আলাদা করে চলার মতো বোধবুদ্ধি তাঁর ছিল।
দেখে যদিও মনে হতো বাজারে সবাই বুঝি নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে, রাসূল কিন্তু বিচক্ষণতার সাথে তা এড়িয়ে চলতেন। নিজের মূলনীতি ও বিশ্বাস দিয়ে সমাজের কাজকর্ম যাচাই করতেন। সমাজ কোনোকিছুকে ভালো চোখে দেখে বলে অন্ধের মতো তিনি তা গ্রহণ করেননি। খারাপ জানলে ঠিকই এড়িয়ে যেতেন।
মার্কেটে রাসূল জিনিসপত্র বেচেছেন। কিনেছেন। এর বাইরে নিজের জীবন ও স্রষ্টার ব্যাপারে ভাবনা জাগানো বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।
হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল-এর বয়স যখন বিশ, তখন সুক উকাজে কিস্ ইব্‌ন সাদারের বিখ্যাত এক ভাষণ শোনেন। তিনি মানুষদের সতর্ক করে দিচ্ছিলেন যে, মানুষগুলো আল্লাহর ব্যাপারে বেখেয়াল। আশপাশের মানুষগুলো অযথা ঘুরঘুর করছিল। কিন্তু তিনি মন দিয়ে তার কথা শুনেছেন। এ থেকে ধর্মের ব্যাপারে তার আদি উৎসাহের ধারণা পাওয়া যায়।
কিস্ তার ভাষণে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ-
'যারা একদিন বেঁচে ছিল, তারা আজ মারা গেছে। আর যারা মারা গেছে তাদের সব সুযোগ শেষ...। মানুষজন কি ভেবেছে দুনিয়াতে এসে আর ফিরে যাবে না? তারা কি তাদের কবর নিয়ে খুব খুশি? তারা কি সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নাকি সেখানে তাদেরকে ঘুমানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে? চুলোয় যাক খামখেয়ালি শাসক, পরিত্যাক্ত জাতি আর কালের খাতায় হারিয়ে যাওয়া শতাব্দী...। যারা উঁচু উঁচু অট্টালিকা বানিয়েছিল আজ তারা কোথায়? যারা সাজিয়েছিল, আরামের ব্যবস্থা করেছিল তারা আজ কোথায়...? তারা তোমাদের চেয়ে বড়লোক ছিল না? বেশিদিন জীবিত ছিল না...? এখন তাদের হাড্ডি ক্ষয় হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়িগুলো পরিত্যক্ত। বেওয়ারিশ কুকুর এখন সেখানে থাকে। কেবল মহান আল্লাহ চিরজীবী। তিনি একজনই। শুধু তিনি উপাসনা পাওয়ার অধিকারী। তাঁর কোনো বাবা-মা নেই। বাচ্চাকাচ্চাও নেই'।
এই কথা শোনারও আরও বিশ বছর পর রাসূল নবিত্বের দায়িত্ব পান। কিন্তু তখনো এই কথাগুলো তাঁর মাথায় ছিল। এই কথার এত গুরুত্ব কী? বিশ বছর বয়সী এক তরুণের জন্য বাজারের নানা প্রলোভন ছেড়ে এ ধরনের বক্তব্য শোনা কি ব্যতিক্রম না? সমাজের দোহাই দিয়ে রাসূল কি গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি কি ভালোটা বেছে নেননি? আমরা যারা প্রতিকূল সমাজে থাকি, যেখানে সবসময় খারাপ পথের ডাক, সেখানে থেকেও কীভাবে সঠিকটা বেছে নিতে পারি, সে ব্যাপারে এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক উপকার নিতে পারি। তরুণ ভাইবোনেরা খেয়াল করছেন তো?

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 প্রভাব বলয়

📄 প্রভাব বলয়


আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ঘ্যানঘ্যান না-করে আমাদের প্রভাব বলয় বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করা উচিত। উদ্বিগ্ন বলয় হচ্ছে, সেসব সমস্যা যেগুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করে। যেমন- নীতিবোধ বিসর্জন, অন্যান্য লোকদের আচারআচরণ। প্রভাব বলয় হচ্ছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
আমরা হয়ত অন্যের আচার-আচরণ না-ও বদলাতে পারি। কিন্তু আমরা নিজেদের নিয়ে তো ভাবতে পারি? নিজেদের নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা তো পালন করতে পারি?
রাসূল -এর বেলায় কী হয়েছিল দেখুন। সুক উকাজে কেউ লেকচার শুনতে আসত না। কিস্ ইব্‌ন্ সাদ্রের কথা মাথায় রাখা তো দূরের কথা, শুনতেই বা কজন দাঁড়াত! আর বাজারের যা পরিবেশ ছিল, তাতে ওদিকে কারও খেয়ালও হতো না। সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে লোকজন বাজারে আসত। (কিসের ভাষায় 'বেখেয়াল'।) অন্যান্য তরুণেরা যেখানে বাজারের নোংরামিতে ঢলে পড়েছিল, রাসূল সেখানে বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন। জ্ঞান খুঁজেছেন। তিনি সেই সমাজ থেকে সরে পড়েননি। কিন্তু খারাপ পথ থেকে ঠিকই দূরে থেকেছেন। অন্যান্য তরুণদের মতো না।

আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ঘ্যানঘ্যান না-করে আমাদের প্রভাব বলয় বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করা উচিত। উদ্বিগ্ন বলয় হচ্ছে, সেসব সমস্যা যেগুলো আমাদের উদ্বিগ্ন করে। যেমন- নীতিবোধ বিসর্জন, অন্যান্য লোকদের আচারআচরণ। প্রভাব বলয় হচ্ছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
আমরা হয়ত অন্যের আচার-আচরণ না-ও বদলাতে পারি। কিন্তু আমরা নিজেদের নিয়ে তো ভাবতে পারি? নিজেদের নিয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা তো পালন করতে পারি?
রাসূল -এর বেলায় কী হয়েছিল দেখুন। সুক উকাজে কেউ লেকচার শুনতে আসত না। কিস্ ইব্‌ন্ সাদ্রের কথা মাথায় রাখা তো দূরের কথা, শুনতেই বা কজন দাঁড়াত! আর বাজারের যা পরিবেশ ছিল, তাতে ওদিকে কারও খেয়ালও হতো না। সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে লোকজন বাজারে আসত। (কিসের ভাষায় 'বেখেয়াল'।) অন্যান্য তরুণেরা যেখানে বাজারের নোংরামিতে ঢলে পড়েছিল, রাসূল সেখানে বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শুনেছেন। জ্ঞান খুঁজেছেন। তিনি সেই সমাজ থেকে সরে পড়েননি। কিন্তু খারাপ পথ থেকে ঠিকই দূরে থেকেছেন। অন্যান্য তরুণদের মতো না।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মূর্তিপূজা

📄 মূর্তিপূজা


ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।

ষষ্ঠ শতকে আরব উপদ্বীপে বহু ধর্মীয় বিশ্বাসের অস্তিত্ব ছিল। মূর্তিপূজা বা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল অন্যতম। আরবের এই বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসের ধরন আজ আর নেই। যে কারণে এটা বুঝতে অনেকের সমস্যা হয় আজ।
মক্কার মূর্তিপূজারিরা আল্লাহকে বিশ্বাস করত বটে। কিন্তু তাঁর সাথে অন্য অনেক কিছুকে পবিত্র মনে করে পূজা করত। যেমন- সূর্য। লোকজন সূর্যের সামনে মাথা নোয়াত। ছেলেপেলের নামও রাখত আবদুশ শাস্ অর্থাৎ, সূর্যদাস। যারা ফেরেশতা বা অ্যাঞ্জেলদের পূজা করত, তারা ভাবত এরা আল্লাহর মেয়ে। মানে তারা আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সাথে সাথে অন্যান্য বস্তু বা দেবদেবীকে আরাধনার তুল্য মনে করত।
এই অধ্যায়ের বাকি অংশে আমরা কথা বলব ষষ্ঠ শতকের শেষ ও সপ্তম শতকের শুরুর দিকে মক্কার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে। মূর্তিপূজারিদের মাঝে কিছু লোক এমনও ছিল যারা শুধু আল্লাহর উপাসনা করত। এদের পরিচয় ছিল 'হানিফ'। সমাজের বেশিরভাগের লোকের বিশ্বাসের চেয়ে এদের বিশ্বাস আলাদা ছিল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এমন বিরূপ পরিবেশে থেকেও রাসূল কীভাবে তাঁর প্রভাব বলয় বাড়াতে পেরেছিলেন। নিজের ব্যাপারে ভেবেছিলেন সেটা দেখা।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 আল্লাহর উপাসনাকারীরা

📄 আল্লাহর উপাসনাকারীরা


মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।

মক্কার সবাই বহুদেবদেবীর পূজারি ছিল না। ওখানে কিছু ইহুদি, খ্রিষ্টান, মানদাইন (আজকেও এদের অস্তিত্ব আছে। বড়জোড় এদের সংখ্যা ষাট থেকে সত্তর হাজার। মূলত উত্তর ইরাকে থাকলেও ২০০৩ সালের পর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।) ও এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীরা ছিল। এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের মধ্যে বিশ্বাসের ধরনে তারতম্য ছিল। তবে তারা সবাই বিশ্বাস করত যে, নবি ইবরাহীম আলাইহিস-সালাম কাবাঘর তৈরি করেছেন। আর তিনি আল্লাহর দাসত্ব করতেন। ইবরাহীম নবি কীভাবে আল্লাহর উপাসনা করতেন তা নিয়ে অবশ্য তারা একমত ছিলেন না। সম্ভবত তারা বিষয়টা ভালোভাবে জানতেন না। এদের কেউ কেউ ইহুদি বা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলামিক ইতিহাসবিগণ এদেরকে 'আহনাফ' নাম দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল বড় জ্ঞানী ব্যক্তি। হিব্রু ভাষা ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কেও জানতেন। যাইদ আমর মক্কার সমাজের সমালোচনা করতেন। তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। হানিফরা সংখ্যায় ছিল খুব কম। তারপরও তারা তাদের বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
দেখেন, তারা যে সমাজে ছিল সেখানে এ ধরনের বিশ্বাস ছিল উদ্ভট। অপমানের ব্যাপার তো আছেই। সমাজে যার চলন ছিল অন্ধের মতো, তারা তা অনুকরণ করেননি। নিজের বিশ্বাস দিয়ে তারা তাদের মূলনীতি গঠন করেছিলেন। তাতে অটল ছিলেন। আমাদেরও উচিত আমাদের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে নিজের জন্য চিন্তাভাবনা করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00