📄 অর্থনীতি
কৃষিকাজের জন্য মক্কার আবহাওয়া ছিল বৈরি। সেই সময়ে সেখানকার অর্থনীতি পুরোটাই ছিল বাণিজ্যনির্ভর। তৎকালীন দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি ইয়েমেন আর সিরিয়া ছিল মক্কার দুপাশে। অর্থনীতি চাঙা রাখতে তারা এর ভালো ব্যবহার করেছিল।
দেশিবিদেশি নানারকম পণ্য মক্কায় যেত। ভারত, মিশর, সিরিয়া, পারস্য ও ইয়েমেন থেকে পারফিউম, অলংকার, পোশাক, খাবার আমদানি করা হতো। সিরিয়া ও ইয়েমেনে বছরে গড়ে সাত সাতটা বাণিজ্য কাফেলা যেত। আরবের বাজারে এসব পণ্যের বিপুল চাহিদা তারা জানত। হাটবাজার ও হজ্জের মৌসুমে তাই এগুলো পাওয়ার সুব্যবস্থা করত।
ব্যবসায়ী হিসেবে কুরাইশদের তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায় আমর ইবনুল আসের ঘটনায়। মুসলিম শরণার্থীরা ইথিয়োপিয়াতে গিয়েছিলেন। তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করার জন্য কুরাইশ মূর্তিপূজারীরা তাকে পাঠিয়েছিলেন বনিবনা করার জন্য। তিনি উপহার হিসেবে পোড়ানো চামড়া নিয়ে গিয়েছিলেন। ঝানু ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি জানতেন চামড়ার ব্যাপারে ইথিয়োপিয়ানদের দুর্বলতা।
ইরাক আর সিরিয়া থেকে মালামাল নিয়ে মক্কার ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ইথিয়োপিয়া যাতায়াত করতেন। ফিরে আসতেন ইথিয়োপিয়ান পণ্যসামগ্রী নিয়ে। ব্যবসা খাতে সরাসরি অনেকে কাজ করতেন। নারীরা বা যারা বয়সের কারণে পারতেন না, তারা টাকা বিনিয়োগ করতেন। বা তাদের পক্ষে মালামাল বিক্রির জন্য অন্যদের ভাড়ায় খাটাতেন।
তো এই ছিল মক্কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। আমরা একটু-আধটু দেখেছি মক্কার লোকজনদের মনমানসিকতা। দেখেছি কীভাবে সেখানকার নারী ও বিদেশিরা প্রতিকূল পরিবেশে সফল হয়েছিলেন। আমি এখন মক্কার বাজারের ভেতরে ঢুকব। দেখব সেখানে রাসূল কী করতেন। আমরা খুব বেশি ভেতরে ঢুকব না। শুধু দেখার চেষ্টা করব, যে পরিবেশে তিনি জীবনযাপন করেছিলেন সেটা। আমার উদ্দেশ্য, পরিবেশের ভেতর ডুবে না-যেয়েও বা নিজের স্বাতন্ত্র না হারিয়েও আপনি যে তার মনিব হতে পারেন সেটা দেখানো।
কৃষিকাজের জন্য মক্কার আবহাওয়া ছিল বৈরি। সেই সময়ে সেখানকার অর্থনীতি পুরোটাই ছিল বাণিজ্যনির্ভর। তৎকালীন দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি ইয়েমেন আর সিরিয়া ছিল মক্কার দুপাশে। অর্থনীতি চাঙা রাখতে তারা এর ভালো ব্যবহার করেছিল।
দেশিবিদেশি নানারকম পণ্য মক্কায় যেত। ভারত, মিশর, সিরিয়া, পারস্য ও ইয়েমেন থেকে পারফিউম, অলংকার, পোশাক, খাবার আমদানি করা হতো। সিরিয়া ও ইয়েমেনে বছরে গড়ে সাত সাতটা বাণিজ্য কাফেলা যেত। আরবের বাজারে এসব পণ্যের বিপুল চাহিদা তারা জানত। হাটবাজার ও হজ্জের মৌসুমে তাই এগুলো পাওয়ার সুব্যবস্থা করত।
ব্যবসায়ী হিসেবে কুরাইশদের তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায় আমর ইবনুল আসের ঘটনায়। মুসলিম শরণার্থীরা ইথিয়োপিয়াতে গিয়েছিলেন। তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করার জন্য কুরাইশ মূর্তিপূজারীরা তাকে পাঠিয়েছিলেন বনিবনা করার জন্য। তিনি উপহার হিসেবে পোড়ানো চামড়া নিয়ে গিয়েছিলেন। ঝানু ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি জানতেন চামড়ার ব্যাপারে ইথিয়োপিয়ানদের দুর্বলতা।
ইরাক আর সিরিয়া থেকে মালামাল নিয়ে মক্কার ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ইথিয়োপিয়া যাতায়াত করতেন। ফিরে আসতেন ইথিয়োপিয়ান পণ্যসামগ্রী নিয়ে। ব্যবসা খাতে সরাসরি অনেকে কাজ করতেন। নারীরা বা যারা বয়সের কারণে পারতেন না, তারা টাকা বিনিয়োগ করতেন। বা তাদের পক্ষে মালামাল বিক্রির জন্য অন্যদের ভাড়ায় খাটাতেন।
তো এই ছিল মক্কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। আমরা একটু-আধটু দেখেছি মক্কার লোকজনদের মনমানসিকতা। দেখেছি কীভাবে সেখানকার নারী ও বিদেশিরা প্রতিকূল পরিবেশে সফল হয়েছিলেন। আমি এখন মক্কার বাজারের ভেতরে ঢুকব। দেখব সেখানে রাসূল কী করতেন। আমরা খুব বেশি ভেতরে ঢুকব না। শুধু দেখার চেষ্টা করব, যে পরিবেশে তিনি জীবনযাপন করেছিলেন সেটা। আমার উদ্দেশ্য, পরিবেশের ভেতর ডুবে না-যেয়েও বা নিজের স্বাতন্ত্র না হারিয়েও আপনি যে তার মনিব হতে পারেন সেটা দেখানো।
📄 বাজার
পর্যটনশিল্প আজকের জমানায় একটি দেশের অন্যতম আয়ের উৎস। মক্কায় সেটা ছিল হজ্জের মৌসুম। আরবদের কেনাকাটার ব্যাপারও ছিল। মক্কার প্রধান মার্কেটগুলো কোনো এক জায়গায় নির্দিষ্ট ছিল না। বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন জায়গায় বসত। নামকরা মার্কেটগুলোর মধ্যে ছিল মিজানা, যুল-মিজাজ, উকাজ।
পর্যটনশিল্প আজকের জমানায় একটি দেশের অন্যতম আয়ের উৎস। মক্কায় সেটা ছিল হজ্জের মৌসুম। আরবদের কেনাকাটার ব্যাপারও ছিল। মক্কার প্রধান মার্কেটগুলো কোনো এক জায়গায় নির্দিষ্ট ছিল না। বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন জায়গায় বসত। নামকরা মার্কেটগুলোর মধ্যে ছিল মিজানা, যুল-মিজাজ, উকাজ।
📄 সুক উকাজ
মক্কার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মার্কেট। সুক মানে বাজার বা মার্কেট। সেটা শুধু মার্কেটই ছিল না। এটা ছিল বার্ষিক উৎসব। এখানে কবিতা পাঠের আসর বসত। অ্যাথলেটিকরা তাদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাত। দেশিবিদেশি পণ্যের পসরা বসত।
সুক উকাজের সোনালি সময়টাতেই কিন্তু রাসূল ওখানে কাটিয়েছেন। সেখান থেকে কেনাকাটা করেছেন। কিন্তু এর নোংরামি থেকে দূরে ছিলেন। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক জাঁকজমকপূর্ণ মার্কেটের মতো এখানেও জুয়া, পতিতালয়সহ অন্যান্য অশ্লীল কাজের আখড়া বসত।
রাসূল বেশ স্মার্ট ছিলেন। তিনি শুধু তার ব্যবসা করতেন। এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকতেন। সপ্তম শতকের আরবের বাজারে প্রতিদিনকার একটা চিত্রের বর্ণনা দিচ্ছি-⁴
সুক উকাজ কী হতো না সেখানে? কেনাবেচা, কবিতা প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর দান-খয়রাতমূলক কাজসহ কত কী। তারা গরিবদের খাওয়াত। ভিখারিদের ভিক্ষা দিত। মুক্তিপণ দিত। বন্দীদের মুক্ত করত। বিবাদ মীমাংসা, সন্ধিচুক্তি এগুলোও হতো।
মক্কা, তায়েফ, মদিনা থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী ভিড় করত। বাহরাইন, উমান, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাকের মতো দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন আসত। মার্কেটের সীমানার বাইরে তাদের তাঁবু টাঙাত। প্রত্যেক গোষ্ঠী তাঁবুর সামনে তাদের ব্যানার ঝুলিয়ে রাখত। তারা তাদের সাথে পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসত বেচার জন্য। প্রত্যেক গোষ্ঠী তাদের সবচেয়ে প্রতিভাধর কবিকে নিয়ে আসত। তাদের কাজ ছিল নিজ নিজ গোষ্ঠীর স্তুতি করা।
নোংরামিও চলত পাল্লা দিয়ে। শারীরিকভাবে উত্যক্ত করা, হয়রানি করা নিয়ে কখনো কখনো গোলাযোগ বেধে যেত। জুয়া আর পতিতাবৃত্তির আখড়া ছিল অগণিত। শহরে প্রথমবারের মতো আসা বড় বড় চোখের বেদুইন ছেলেদের তারা আকৃষ্ট করার চেষ্টা করত। চুরিচামারি, ধোঁকাবাজি, সুযোগ গ্রহণের মতো বিষয় তো ছিলই।
টিকাঃ
৪. উকায বাজারের বেশিরভাগ তথ্য নেওয়া হয়েছে হাম্মুর রচিত সুক উকায ওয়া মাওয়াসিমুল হজ্জ বই থেকে।
মক্কার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মার্কেট। সুক মানে বাজার বা মার্কেট। সেটা শুধু মার্কেটই ছিল না। এটা ছিল বার্ষিক উৎসব। এখানে কবিতা পাঠের আসর বসত। অ্যাথলেটিকরা তাদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাত। দেশিবিদেশি পণ্যের পসরা বসত।
সুক উকাজের সোনালি সময়টাতেই কিন্তু রাসূল ওখানে কাটিয়েছেন। সেখান থেকে কেনাকাটা করেছেন। কিন্তু এর নোংরামি থেকে দূরে ছিলেন। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক জাঁকজমকপূর্ণ মার্কেটের মতো এখানেও জুয়া, পতিতালয়সহ অন্যান্য অশ্লীল কাজের আখড়া বসত।
রাসূল বেশ স্মার্ট ছিলেন। তিনি শুধু তার ব্যবসা করতেন। এসব ঝামেলা থেকে দূরে থাকতেন। সপ্তম শতকের আরবের বাজারে প্রতিদিনকার একটা চিত্রের বর্ণনা দিচ্ছি-⁴
সুক উকাজ কী হতো না সেখানে? কেনাবেচা, কবিতা প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর দান-খয়রাতমূলক কাজসহ কত কী। তারা গরিবদের খাওয়াত। ভিখারিদের ভিক্ষা দিত। মুক্তিপণ দিত। বন্দীদের মুক্ত করত। বিবাদ মীমাংসা, সন্ধিচুক্তি এগুলোও হতো।
মক্কা, তায়েফ, মদিনা থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী ভিড় করত। বাহরাইন, উমান, ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাকের মতো দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন আসত। মার্কেটের সীমানার বাইরে তাদের তাঁবু টাঙাত। প্রত্যেক গোষ্ঠী তাঁবুর সামনে তাদের ব্যানার ঝুলিয়ে রাখত। তারা তাদের সাথে পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসত বেচার জন্য। প্রত্যেক গোষ্ঠী তাদের সবচেয়ে প্রতিভাধর কবিকে নিয়ে আসত। তাদের কাজ ছিল নিজ নিজ গোষ্ঠীর স্তুতি করা।
নোংরামিও চলত পাল্লা দিয়ে। শারীরিকভাবে উত্যক্ত করা, হয়রানি করা নিয়ে কখনো কখনো গোলাযোগ বেধে যেত। জুয়া আর পতিতাবৃত্তির আখড়া ছিল অগণিত। শহরে প্রথমবারের মতো আসা বড় বড় চোখের বেদুইন ছেলেদের তারা আকৃষ্ট করার চেষ্টা করত। চুরিচামারি, ধোঁকাবাজি, সুযোগ গ্রহণের মতো বিষয় তো ছিলই।
টিকাঃ
৪. উকায বাজারের বেশিরভাগ তথ্য নেওয়া হয়েছে হাম্মুর রচিত সুক উকায ওয়া মাওয়াসিমুল হজ্জ বই থেকে।
📄 বাজারে রাসূল ﷺ
সময়ের ঘড়িতে চড়ে আপনি যদি সেই সময়ের সুক উকাজে যেতে পারতেন, তাহলে অবাক করা কিছু ব্যাপারস্যাপার দেখতেন। সে সময়ের জন্য অবশ্য সেগুলো স্বাভাবিক ছিল। নারীরা তো বোরকা পরতই, অনেক পুরুষেরাও তাদের মুখ ঢেকে চলত।
অনেকে বলেন, তারা তাদের সুদর্শন চেহারা ঢাকার জন্য এমনটা করতেন। তবে সবার ব্যাপারে এমনটা হওয়া সংগত না। কেউ কেউ বলেন, তাদের ঘিরে রহস্যের জাল বোনার জন্য এমন করতেন। তবে যে কারণটা বেশি বাস্তবসম্মত তা হলো, তাদের যাতে চেনা না-যায়। নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের অপহরণ করতে পারে।
আপনি হয়ত দেখতেন লোকজন এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্পগুজব করছে। কিচ্ছাকাহিনি রটাচ্ছে। কোনো গণক তির ছুড়ে হ্যাঁ-না'র মাধ্যমে কোনো কাজের ভবিষ্যত নির্ধারণ করছেন। আজকের যুগের ম্যাজিক এইট বলের মতো।
মানুষ, পণ্য আর কাজকর্মের এক রঙিন আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ।
রাসূল মক্কার মার্কেটের এ রকম রমরমা সময়েই জীবনযাপন করেছেন। ব্যবসা করেছেন। কিন্তু ভালো-খারাপ আলাদা করে চলার মতো বোধবুদ্ধি তাঁর ছিল।
দেখে যদিও মনে হতো বাজারে সবাই বুঝি নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে, রাসূল কিন্তু বিচক্ষণতার সাথে তা এড়িয়ে চলতেন। নিজের মূলনীতি ও বিশ্বাস দিয়ে সমাজের কাজকর্ম যাচাই করতেন। সমাজ কোনোকিছুকে ভালো চোখে দেখে বলে অন্ধের মতো তিনি তা গ্রহণ করেননি। খারাপ জানলে ঠিকই এড়িয়ে যেতেন।
মার্কেটে রাসূল জিনিসপত্র বেচেছেন। কিনেছেন। এর বাইরে নিজের জীবন ও স্রষ্টার ব্যাপারে ভাবনা জাগানো বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।
হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল-এর বয়স যখন বিশ, তখন সুক উকাজে কিস্ ইব্ন সাদারের বিখ্যাত এক ভাষণ শোনেন। তিনি মানুষদের সতর্ক করে দিচ্ছিলেন যে, মানুষগুলো আল্লাহর ব্যাপারে বেখেয়াল। আশপাশের মানুষগুলো অযথা ঘুরঘুর করছিল। কিন্তু তিনি মন দিয়ে তার কথা শুনেছেন। এ থেকে ধর্মের ব্যাপারে তার আদি উৎসাহের ধারণা পাওয়া যায়।
কিস্ তার ভাষণে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ-
'যারা একদিন বেঁচে ছিল, তারা আজ মারা গেছে। আর যারা মারা গেছে তাদের সব সুযোগ শেষ...। মানুষজন কি ভেবেছে দুনিয়াতে এসে আর ফিরে যাবে না? তারা কি তাদের কবর নিয়ে খুব খুশি? তারা কি সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নাকি সেখানে তাদেরকে ঘুমানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে? চুলোয় যাক খামখেয়ালি শাসক, পরিত্যাক্ত জাতি আর কালের খাতায় হারিয়ে যাওয়া শতাব্দী...। যারা উঁচু উঁচু অট্টালিকা বানিয়েছিল আজ তারা কোথায়? যারা সাজিয়েছিল, আরামের ব্যবস্থা করেছিল তারা আজ কোথায়...? তারা তোমাদের চেয়ে বড়লোক ছিল না? বেশিদিন জীবিত ছিল না...? এখন তাদের হাড্ডি ক্ষয় হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়িগুলো পরিত্যক্ত। বেওয়ারিশ কুকুর এখন সেখানে থাকে। কেবল মহান আল্লাহ চিরজীবী। তিনি একজনই। শুধু তিনি উপাসনা পাওয়ার অধিকারী। তাঁর কোনো বাবা-মা নেই। বাচ্চাকাচ্চাও নেই'।
এই কথা শোনারও আরও বিশ বছর পর রাসূল নবিত্বের দায়িত্ব পান। কিন্তু তখনো এই কথাগুলো তাঁর মাথায় ছিল। এই কথার এত গুরুত্ব কী? বিশ বছর বয়সী এক তরুণের জন্য বাজারের নানা প্রলোভন ছেড়ে এ ধরনের বক্তব্য শোনা কি ব্যতিক্রম না? সমাজের দোহাই দিয়ে রাসূল কি গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি কি ভালোটা বেছে নেননি? আমরা যারা প্রতিকূল সমাজে থাকি, যেখানে সবসময় খারাপ পথের ডাক, সেখানে থেকেও কীভাবে সঠিকটা বেছে নিতে পারি, সে ব্যাপারে এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক উপকার নিতে পারি। তরুণ ভাইবোনেরা খেয়াল করছেন তো?
সময়ের ঘড়িতে চড়ে আপনি যদি সেই সময়ের সুক উকাজে যেতে পারতেন, তাহলে অবাক করা কিছু ব্যাপারস্যাপার দেখতেন। সে সময়ের জন্য অবশ্য সেগুলো স্বাভাবিক ছিল। নারীরা তো বোরকা পরতই, অনেক পুরুষেরাও তাদের মুখ ঢেকে চলত।
অনেকে বলেন, তারা তাদের সুদর্শন চেহারা ঢাকার জন্য এমনটা করতেন। তবে সবার ব্যাপারে এমনটা হওয়া সংগত না। কেউ কেউ বলেন, তাদের ঘিরে রহস্যের জাল বোনার জন্য এমন করতেন। তবে যে কারণটা বেশি বাস্তবসম্মত তা হলো, তাদের যাতে চেনা না-যায়। নাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাদের অপহরণ করতে পারে।
আপনি হয়ত দেখতেন লোকজন এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্পগুজব করছে। কিচ্ছাকাহিনি রটাচ্ছে। কোনো গণক তির ছুড়ে হ্যাঁ-না'র মাধ্যমে কোনো কাজের ভবিষ্যত নির্ধারণ করছেন। আজকের যুগের ম্যাজিক এইট বলের মতো।
মানুষ, পণ্য আর কাজকর্মের এক রঙিন আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ।
রাসূল মক্কার মার্কেটের এ রকম রমরমা সময়েই জীবনযাপন করেছেন। ব্যবসা করেছেন। কিন্তু ভালো-খারাপ আলাদা করে চলার মতো বোধবুদ্ধি তাঁর ছিল।
দেখে যদিও মনে হতো বাজারে সবাই বুঝি নোংরামিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে, রাসূল কিন্তু বিচক্ষণতার সাথে তা এড়িয়ে চলতেন। নিজের মূলনীতি ও বিশ্বাস দিয়ে সমাজের কাজকর্ম যাচাই করতেন। সমাজ কোনোকিছুকে ভালো চোখে দেখে বলে অন্ধের মতো তিনি তা গ্রহণ করেননি। খারাপ জানলে ঠিকই এড়িয়ে যেতেন।
মার্কেটে রাসূল জিনিসপত্র বেচেছেন। কিনেছেন। এর বাইরে নিজের জীবন ও স্রষ্টার ব্যাপারে ভাবনা জাগানো বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।
হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল-এর বয়স যখন বিশ, তখন সুক উকাজে কিস্ ইব্ন সাদারের বিখ্যাত এক ভাষণ শোনেন। তিনি মানুষদের সতর্ক করে দিচ্ছিলেন যে, মানুষগুলো আল্লাহর ব্যাপারে বেখেয়াল। আশপাশের মানুষগুলো অযথা ঘুরঘুর করছিল। কিন্তু তিনি মন দিয়ে তার কথা শুনেছেন। এ থেকে ধর্মের ব্যাপারে তার আদি উৎসাহের ধারণা পাওয়া যায়।
কিস্ তার ভাষণে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ-
'যারা একদিন বেঁচে ছিল, তারা আজ মারা গেছে। আর যারা মারা গেছে তাদের সব সুযোগ শেষ...। মানুষজন কি ভেবেছে দুনিয়াতে এসে আর ফিরে যাবে না? তারা কি তাদের কবর নিয়ে খুব খুশি? তারা কি সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে? নাকি সেখানে তাদেরকে ঘুমানোর জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে? চুলোয় যাক খামখেয়ালি শাসক, পরিত্যাক্ত জাতি আর কালের খাতায় হারিয়ে যাওয়া শতাব্দী...। যারা উঁচু উঁচু অট্টালিকা বানিয়েছিল আজ তারা কোথায়? যারা সাজিয়েছিল, আরামের ব্যবস্থা করেছিল তারা আজ কোথায়...? তারা তোমাদের চেয়ে বড়লোক ছিল না? বেশিদিন জীবিত ছিল না...? এখন তাদের হাড্ডি ক্ষয় হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়িগুলো পরিত্যক্ত। বেওয়ারিশ কুকুর এখন সেখানে থাকে। কেবল মহান আল্লাহ চিরজীবী। তিনি একজনই। শুধু তিনি উপাসনা পাওয়ার অধিকারী। তাঁর কোনো বাবা-মা নেই। বাচ্চাকাচ্চাও নেই'।
এই কথা শোনারও আরও বিশ বছর পর রাসূল নবিত্বের দায়িত্ব পান। কিন্তু তখনো এই কথাগুলো তাঁর মাথায় ছিল। এই কথার এত গুরুত্ব কী? বিশ বছর বয়সী এক তরুণের জন্য বাজারের নানা প্রলোভন ছেড়ে এ ধরনের বক্তব্য শোনা কি ব্যতিক্রম না? সমাজের দোহাই দিয়ে রাসূল কি গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন? তিনি কি ভালোটা বেছে নেননি? আমরা যারা প্রতিকূল সমাজে থাকি, যেখানে সবসময় খারাপ পথের ডাক, সেখানে থেকেও কীভাবে সঠিকটা বেছে নিতে পারি, সে ব্যাপারে এই ঘটনা থেকে আমরা অনেক উপকার নিতে পারি। তরুণ ভাইবোনেরা খেয়াল করছেন তো?