📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 আপনার প্রভাব-বলয় বাড়ান

📄 আপনার প্রভাব-বলয় বাড়ান


আগের অধ্যায়ে আমরা আট বছর পর্যন্ত রাসূল-এর বাল্যকাল নিয়ে কথা বলেছি। তাঁর বেড়ে ওঠায় তাঁর মা, দুধ-মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবদান নিয়ে কথা বলেছি। এখানে আমরা কথা বলব মক্কায় রাসূল যে পরিবেশে মানুষ হয়েছেন, সেই পরিবেশ, সেখানকার লোকজন আর সমাজের ব্যাপারে।

আগের অধ্যায়ে আমরা আট বছর পর্যন্ত রাসূল-এর বাল্যকাল নিয়ে কথা বলেছি। তাঁর বেড়ে ওঠায় তাঁর মা, দুধ-মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অবদান নিয়ে কথা বলেছি। এখানে আমরা কথা বলব মক্কায় রাসূল যে পরিবেশে মানুষ হয়েছেন, সেই পরিবেশ, সেখানকার লোকজন আর সমাজের ব্যাপারে।

মিশরীয় কবি আহমেদ শাওকি বলেন, 'মা শিক্ষক। তবে পরিবার আরও বড় শিক্ষক। পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের আছে নিজস্ব কিছু অভিজ্ঞতা। এগুলো ছেলেমেয়েদের বড় করতে সাহায্য করে। কিংবা শিশুর জীবন বদলে দিতে সাহায্য করে।'

ইতিহাস জুড়ে অনেকে বড় বড় মানুষ তাদের সাফল্যের পেছনে কোনো চাচা-মামা বা দাদা-নানার কথা বলেছেন। বাবা-মা'র কথা বলেননি। তাই বর্ধিত পরিবারের সুব্যবহার করুন। তাদের সবাইকে সক্রিয় শিক্ষক বানান। আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনে এদের কার শিক্ষা কাজে লাগবে কে জানে!

অনেক পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একসাথে থাকেন না। ভিন্ন শহরে বা ভিন্ন কোনো দেশে থাকেন। যে কারণে বাচ্চাকাচ্চারা তাদের প্রতি টান অনুভব করে না। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে সন্তানদের ভালো সম্পর্ক করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। এখানে আমরা কিছু বাস্তব আইডিয়া তুলে ধরছি-
• মোবাইলে ছবি দেখিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। তার নাম, নামের অর্থ, তাদের ব্যাপারে অনুপ্রেরণামূলক কোনো ঘটনা শেয়ার করুন। যেভাবে রাসূল ﷺ-এর বর্ধিত পরিবারের সদস্যদের ঘটনা আমরা এ অধ্যায়ে বলেছি।
• সন্তানকে তার বংশগাছ দেখান। দেওয়ালে আঁকতে পারেন। কিংবা বড় আর্ট পেপারে। পরিবারের সদস্যদের কিমাত, কেন তাদের দরকার এগুলো তুলে ধরুন।
• অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আজকাল দূরের মানুষদের সাথে যোগাযোগ করা সহজ। স্কাইপে, মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপের মতো অ্যাপগুলোর সঠিক ব্যবহার করুন।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 নিজের পরিবেশকে ছাঁচ দেওয়া

📄 নিজের পরিবেশকে ছাঁচ দেওয়া


রাসূল তাঁর জীবনের ৮৫ ভাগ সময় মক্কায় কাটিয়েছেন। ৬৩ বছরের মধ্যে ৫৩ বছর। বহু পরিবারে, বহু ঘরে, নানা পরিবেশে, নানা কাজে কাটিয়েছেন। বিয়ের পর তাঁর নিজের একটা পরিবার হয়। তাঁর বেশকিছু বন্ধুবান্ধবও ছিল।
প্রতিটা পরিবেশে এমন কিছু থাকে, যা সেখানকার মানুষের ওপর কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে। তবে এখানে মজার বিষয় হচ্ছে, তখনকার পরিবেশে বড় হয়েও কীভাবে রাসূল নিজেকে আলাদা করেছিলেন। অথচ সেই একই পরিবেশে বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিল।
মানুষ তার পরিবেশের ফল। তবে এর মানে এই না যে, এ কারণে তাকে তার নিজের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র হারিয়ে ফেলতে হবে। আমরা দেখব, কীভাবে রাসূল আশেপাশের মানুষের সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ বজায় রেখে চলেছেন। যেসব কাজ শুধু পুরুষদের কাজ বলে বিবেচিত, সেগুলোতে তখনকার কিছু নারীরা বাধা ঠেলে জয় করেছিলেন, উজ্জ্বল হয়েছিলেন। সেগুলোও দেখব। দেখব আরবদের মধ্যে থেকেও কীভাবে অনেক অনারব নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন। মূর্তিপূজারীদের শেকড় ছিল যেখানে, সেরকম প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও কীভাবে এক আল্লাহর দাসত্বকারীরা আলাদা হয়েছিলেন।
এরা সংখ্যায় কম ছিলেন। অনেকে এদের গোনায় ধরতেন না। কিন্তু সমাজের প্রচলিত আদর্শে তারা গা ভাসিয়ে দেননি। নিজের লোকজন বা সমাজের প্রতি অনুগত থেকেও কীভাবে নিজের বিবেক বিসর্জন দেবেন না, নিজের স্বাতন্ত্র ধরে রাখবেন এ ব্যাপারে এ অধ্যায় আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে।
অন্ধভাবে সমাজের রীতিনীতি গায়ে মাখবেন না। আপনি এ কাজটা কেন করেন, এ ধরনের কথা জিজ্ঞেস করলে দেখবেন বেশিরভাগ লোকই বলবে, 'লোকে করে, তাই করি'। বা 'এভাবেই চলে আসছে'। তারা এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না। আপনি এমন হবেন না। আপনার আদর্শ, আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে কোনটা খাপ খায়, সেভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। মক্কা আর মক্কার লোকজন দিয়ে শুরু করি।

রাসূল তাঁর জীবনের ৮৫ ভাগ সময় মক্কায় কাটিয়েছেন। ৬৩ বছরের মধ্যে ৫৩ বছর। বহু পরিবারে, বহু ঘরে, নানা পরিবেশে, নানা কাজে কাটিয়েছেন। বিয়ের পর তাঁর নিজের একটা পরিবার হয়। তাঁর বেশকিছু বন্ধুবান্ধবও ছিল।
প্রতিটা পরিবেশে এমন কিছু থাকে, যা সেখানকার মানুষের ওপর কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে। তবে এখানে মজার বিষয় হচ্ছে, তখনকার পরিবেশে বড় হয়েও কীভাবে রাসূল নিজেকে আলাদা করেছিলেন। অথচ সেই একই পরিবেশে বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিল।
মানুষ তার পরিবেশের ফল। তবে এর মানে এই না যে, এ কারণে তাকে তার নিজের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র হারিয়ে ফেলতে হবে। আমরা দেখব, কীভাবে রাসূল আশেপাশের মানুষের সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ বজায় রেখে চলেছেন। যেসব কাজ শুধু পুরুষদের কাজ বলে বিবেচিত, সেগুলোতে তখনকার কিছু নারীরা বাধা ঠেলে জয় করেছিলেন, উজ্জ্বল হয়েছিলেন। সেগুলোও দেখব। দেখব আরবদের মধ্যে থেকেও কীভাবে অনেক অনারব নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন। মূর্তিপূজারীদের শেকড় ছিল যেখানে, সেরকম প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও কীভাবে এক আল্লাহর দাসত্বকারীরা আলাদা হয়েছিলেন।
এরা সংখ্যায় কম ছিলেন। অনেকে এদের গোনায় ধরতেন না। কিন্তু সমাজের প্রচলিত আদর্শে তারা গা ভাসিয়ে দেননি। নিজের লোকজন বা সমাজের প্রতি অনুগত থেকেও কীভাবে নিজের বিবেক বিসর্জন দেবেন না, নিজের স্বাতন্ত্র ধরে রাখবেন এ ব্যাপারে এ অধ্যায় আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে।
অন্ধভাবে সমাজের রীতিনীতি গায়ে মাখবেন না। আপনি এ কাজটা কেন করেন, এ ধরনের কথা জিজ্ঞেস করলে দেখবেন বেশিরভাগ লোকই বলবে, 'লোকে করে, তাই করি'। বা 'এভাবেই চলে আসছে'। তারা এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না। আপনি এমন হবেন না। আপনার আদর্শ, আপনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে কোনটা খাপ খায়, সেভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। মক্কা আর মক্কার লোকজন দিয়ে শুরু করি।

অনেক সময় এমন হয় যে, বর্ধিত পরিবারের সদস্যরা কাছাকাছি থাকেন না। অথবা হতে পারে তারা সেই অর্থে সন্তানের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক নন। তাদের কাছে থাকলে সন্তান ভুল শিখবে। এক্ষেত্রে ভালো বিকল্প খুঁজতে হবে। ভালো বিকল্প হতে পারেন শিক্ষক, প্রতিবেশী। সন্তান বড় করার ভারটা যেন শুধু বাবা-মা'র একার ওপর না-পড়ে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 মক্কা

📄 মক্কা


মক্কার অবস্থান সাউদি আরবের পশ্চিমে। মিশর থেকে সুদান পর্যন্ত বিস্তৃত লোহিত সাগরজুড়ে এর অবস্থান। আয়তন প্রায় ৫ শ বর্গকিলোমিটার। মক্কায় অনেক পাথুরে পাহাড় চোখে পড়ে। এগুলোর কোনো কোনোটার উচ্চতা ৬ শ মিটার। প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চেয়েও দ্বিগুণ। গরমকালে এখানে গড় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতকালে ২৫ ডিগ্রি।
রাসূল যখন মক্কায় পুনরায় ইসলামি জীবনব্যবস্থা চালু করেন, তার অনেক আগে থেকেই কিন্তু কাবাঘরের কারণে মক্কা সুপরিচিত ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তা আর স্থিতিশীলতা বিরাজ করত সবসময়। আপনি দেখবেন, অন্যান্য শহরগুলো তখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চারিদিকে শক্ত প্রাচীর বানাত। দুর্গ নির্মাণ করত। সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে বাঁচার জন্য এ রকম আরও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি রাখত। কিন্তু মক্কার সুরক্ষায় এ রকম কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ঐতিহ্যগতভাবে এখানে লড়াই নিষিদ্ধ ছিল।
ইসলাম আসার আগে ওখানকার লোকজন বহু দেবদেবী, মূর্তির পূজা করত। এসব মূর্তির একটা করে ভাস্কর্য মক্কায় রাখা থাকত যাতে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকে। প্রত্যেক অঞ্চলে বা গোষ্ঠীতে আলাদা আলাদা ঈশ্বর ছিল। যেমন তায়েফের লোকদের প্রধান দেবীর নাম ছিল আল্লাত। মদিনার লোকেরা পূজা করত মানাতের।
মক্কায় প্রায় ৩৬০টি ভাস্কর্য বা মূর্তি ছিল। এগুলো ছিল আরবদের দেবদেবীর প্রতীক। তো এ কারণে কলহপ্রবণ গোত্রগুলো মক্কাকে পবিত্র শহর হিসেবে সম্মান করত।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে মক্কায় প্রায় বিশ হাজারের মতো লোকজনের বসতি ছিল। আশেপাশের এলাকা গোষ্ঠী অনুযায়ী বিভক্ত ছিল। যাদের পূর্বপুরুষ এক তারা সবাই এক গোষ্ঠীর সদস্য।
মক্কার প্রধান গোষ্ঠী ছিল কুরাইশ। রাসূলও এই গোষ্ঠীর। তাদের পূর্বপুরুষ নাযর। রাসূল-এর জন্মের প্রায় ১২ প্রজন্ম আগের। কাবার আশেপাশেই তাদের ঘরদোর ছিল। তারা কাবার রক্ষণাবেক্ষণ করত। তীর্থযাত্রীদের দেখাশোনা করত।

মক্কার অবস্থান সাউদি আরবের পশ্চিমে। মিশর থেকে সুদান পর্যন্ত বিস্তৃত লোহিত সাগরজুড়ে এর অবস্থান। আয়তন প্রায় ৫ শ বর্গকিলোমিটার। মক্কায় অনেক পাথুরে পাহাড় চোখে পড়ে। এগুলোর কোনো কোনোটার উচ্চতা ৬ শ মিটার। প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চেয়েও দ্বিগুণ। গরমকালে এখানে গড় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতকালে ২৫ ডিগ্রি।
রাসূল যখন মক্কায় পুনরায় ইসলামি জীবনব্যবস্থা চালু করেন, তার অনেক আগে থেকেই কিন্তু কাবাঘরের কারণে মক্কা সুপরিচিত ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তা আর স্থিতিশীলতা বিরাজ করত সবসময়। আপনি দেখবেন, অন্যান্য শহরগুলো তখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চারিদিকে শক্ত প্রাচীর বানাত। দুর্গ নির্মাণ করত। সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে বাঁচার জন্য এ রকম আরও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি রাখত। কিন্তু মক্কার সুরক্ষায় এ রকম কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ঐতিহ্যগতভাবে এখানে লড়াই নিষিদ্ধ ছিল।
ইসলাম আসার আগে ওখানকার লোকজন বহু দেবদেবী, মূর্তির পূজা করত। এসব মূর্তির একটা করে ভাস্কর্য মক্কায় রাখা থাকত যাতে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকে। প্রত্যেক অঞ্চলে বা গোষ্ঠীতে আলাদা আলাদা ঈশ্বর ছিল। যেমন তায়েফের লোকদের প্রধান দেবীর নাম ছিল আল্লাত। মদিনার লোকেরা পূজা করত মানাতের।
মক্কায় প্রায় ৩৬০টি ভাস্কর্য বা মূর্তি ছিল। এগুলো ছিল আরবদের দেবদেবীর প্রতীক। তো এ কারণে কলহপ্রবণ গোত্রগুলো মক্কাকে পবিত্র শহর হিসেবে সম্মান করত।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে মক্কায় প্রায় বিশ হাজারের মতো লোকজনের বসতি ছিল। আশেপাশের এলাকা গোষ্ঠী অনুযায়ী বিভক্ত ছিল। যাদের পূর্বপুরুষ এক তারা সবাই এক গোষ্ঠীর সদস্য।
মক্কার প্রধান গোষ্ঠী ছিল কুরাইশ। রাসূলও এই গোষ্ঠীর। তাদের পূর্বপুরুষ নাযর। রাসূল-এর জন্মের প্রায় ১২ প্রজন্ম আগের। কাবার আশেপাশেই তাদের ঘরদোর ছিল। তারা কাবার রক্ষণাবেক্ষণ করত। তীর্থযাত্রীদের দেখাশোনা করত।

এ অধ্যায়ে আমরা রাসূলের বর্ধিত পরিবারের ব্যাপারে কথা বলেছি। তাদের কারও কারও নাম, তারা কী করতেন সেসব জেনেছি। তাদের কোন কোন ঘটনা বা দিক রাসূল-এর জীবনে প্রভাব ফেলে থাকবে সেগুলোর উল্লেখ করেছি। নিচের টেবিলে আমরা দেখাবো কীভাবে আমরা রাসূল-এর জীবনের শিক্ষাগুলো বাস্তবে আমাদের সন্তান বড় করতে কাজে লাগাতে পারি। যাতে করে আমাদের পরিবারের বর্ধিত সদস্যরা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়।

| রাসূল-এর পরিবার | আপনার পরিবার |
| :--- | :--- |
| রাসূল এতিম অবস্থায় বড় হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে তিনি একাকী বেড়ে ওঠেননি। তাঁর পরিবারের বর্ধিত সদস্যগণ তাঁর বাবা-মা'র অভাব দূর করেছিলেন। শিশু মুহাম্মাদ-কে তাঁর বর্ধিত পরিবার শিখিয়েছে। অনুপ্রেরণা দিয়েছে। | আপনার পরিবারের বর্ধিত সদস্যরা সন্তানের একাকিত্ব দূর করে। যখন সে একাকী অনুভব করবে, তখন তারা সাথে বেড়াতে যেয়ে, রাতে থেকে তার একাকিত্বের কষ্ট দূর করে দিতে পারে। আপনার বর্ধিত পরিবার আপনার সন্তানকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। বিশেষ করে তাদের অনুপ্রেরণামূলক বিভিন্ন কাহিনি শেয়ার করার মাধ্যমে। |
| বর্ধিত পরিবার বালক মুহাম্মাদ-কে অনেক কিছু শিখিয়েছে। দাদার কাছ থেকে নেতৃত্ব, মা'র কাছ থেকে মমতা, চাচার কাছ থেকে ব্যবসা ইত্যাদি। | আপনার বর্ধিত পরিবারের সদস্যরাও এরকম নানা কিছু শিশুকে শেখাতে পারেন। যেটা আপনার একার পক্ষে সম্ভব না। আপনিও এতে উপকৃত হতে পারেন। |
| বর্ধিত পরিবার বালক মুহাম্মাদ-কে নিরাপত্তা দিয়েছিল। গরিব হলেও সম্ভ্রান্ত পরিবার। | আপনার শিশুকেও তারা অনুরূপ নিরাপত্তা দিতে পারে। বিশেষ সুবিধা পাওয়া সন্তান এরকম অনুভব করার চেয়ে সে যে ভালোবাসাময়, ঐক্যবদ্ধ পরিবারের অংশ সেটা অনুভব করা বেশি জরুরি। |

📘 বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ > 📄 সমাজ

📄 সমাজ


আমরা এখন দেখব সপ্তম শতকে মক্কার সামাজিক পরিবেশ কেমন ছিল সেটা। নারীদের ভূমিকা এবং সংখ্যালঘু অনারবরা কীভাবে সামাজিক বাধা টপকে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটাও দেখব।
প্রতিটা গোষ্ঠীতে অনেকগুলো গোত্র ও বাড়তি পরিবার ছিল। যেমন কুরাইশ গোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ নাযর। কিন্তু এর মধ্যে দশটা গোত্র ছিল। এসব গোত্রের প্রধান ছিল নাযরের দশ পুত্র। সমাজের প্রকৃতি ও মানুষের মনমানসিকতার ওপর গোষ্ঠীয় কাঠামোর বড়সড় প্রভাব ছিল। যে গোষ্ঠী যত শক্তিশালী, সেই গোষ্ঠীর মানুষজন নিজেদের তত বেশি নিরাপদ মনে করতেন। কেউ হামলা করলে সেই হামলাকারীর পুরো গোষ্ঠীকে তার দায় বহন করতে হতো। খেসারত হিসেবে সবাই মিলে 'রক্তমূল্য' দিত।
কোনো ফুটবল দলের কট্টর সমর্থকরা যেমন সেই দলের চরম অনুগত, সেই সময়ের গোষ্ঠীর লোকদের বিশ্বস্ততা ছিল তেমন। গোত্রের প্রথম পূর্বপুরুষের সাথে যার সম্পর্ক যত কাছের, তার বিশ্বস্ততা তত বেশি। গোত্রবন্ধনের উদাহরণ নিয়ে একটা আরবি প্রবাদ আছে: 'আমি আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে, আমার ভাই ও আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি ও আমার চাচাতো ভাইয়েরা সবাই অপরিচিত লোকের বিরুদ্ধে'।
একই গোত্রের মধ্যে সহজেই মারামারি লেগে যেত। কুরাইশ গোত্রের নেতা কুসাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলেদের মধ্যে মারামারি লেগে যায় কাবার দখল নিয়ে (পরের অধ্যায়ে এ ব্যাপারে আরও কথা আছে)।
তবে গোত্রের প্রতি বিশ্বস্ততার মানে এই না যে, কেউ আজীবন তার সঙ্গে থাকবে। গুরুতর কোনো অপরাধের কারণে গোত্রপতিরা মিলে কাউকে বের করে দিতে পারত। যে বের হয়ে যেত তার কপালে আরও শনি ছিল। কারণ, তখন কেউ আর তাকে নিরাপত্তা দিত না। ফলে যে কেউ চাইলে তার ওপর হামলা করতে পারত। সে হতো সহজ শিকার। চাইলে কেউ তাকে মেরেও ফেলতে পারত।
এই অঞ্চলের প্রধান উন্মুক্ত বাজারের নাম ছিল সুক উকাজ। কোনো কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত সদস্যের নাম সেখানে জানিয়ে দিত। মদ খাওয়া নিয়ে আল-বারাদ ইব্‌ন কাইস তার গোষ্ঠীর নামহানি করেছিল। তার গোষ্ঠী ৫৯০ সালে বাজারে তাকে ঘোষণা দিয়ে বহিষ্কার করে। কখনো কখনো কোনো কোনো সদস্য এক গোষ্ঠী থেকে বের হয়ে অন্য গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারত। সেক্ষেত্রে তারা তখন সেই গোষ্ঠীর পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করত। অনেকটা আজকের যুগের সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্ব দেওয়ার মতো। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো দুই গোত্রের অধীনে থাকার সুযোগ ছিল না।
পারস্পরিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য আজকাল যেমন আন্তর্জাতিক জোটচুক্তি হয় তখনও হতো। তখন আন্তগোষ্ঠীয় চুক্তি হতো। যেমন তীর্থযাত্রীদের ভালোভাবে দেখাশোনার জন্য কুরাইশরা মক্কার অন্যান্য গোষ্ঠীর সাথে জোট বেধেছিল। সিরিয়া ও ইয়েমেনে তাদের দুটো বাণিজ্য কাফেলা যেত। তো ওগুলো যেন নিরাপদে যাওয়া-আসা করতে পারে, সেজন্য তারা আরব উপদ্বীপের অন্যান্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে। সূরা কুরাইশে এর উল্লেখ আছে।
গোষ্ঠী আর গোষ্ঠীর সদস্যের মধ্যে যেমন পারস্পরিক নিরাপত্তার অলিখিত চুক্তি ছিল, এসব জোটের মধ্যেও অনুরূপ চুক্তি ছিল। কোনো এক গোষ্ঠীর উপর হামলা মানে পুরো জোটের উপর হামলা।
সেই সমাজে আরেক ধরনের সম্পর্ক ছিল- জাওয়ার। কোনো লোক যদি ভিন্ন কোনো অঞ্চলে সফরে যেত, তাহলে তার গোষ্ঠী সেই অঞ্চলের স্থানীয় কোনো গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারত। আজকের দিনে আন্তর্জাতিক শরণার্থী ব্যবস্থা অনেকটা এর আদলেই তৈরি।

আমরা এখন দেখব সপ্তম শতকে মক্কার সামাজিক পরিবেশ কেমন ছিল সেটা। নারীদের ভূমিকা এবং সংখ্যালঘু অনারবরা কীভাবে সামাজিক বাধা টপকে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটাও দেখব।
প্রতিটা গোষ্ঠীতে অনেকগুলো গোত্র ও বাড়তি পরিবার ছিল। যেমন কুরাইশ গোষ্ঠীর পূর্বপুরুষ নাযর। কিন্তু এর মধ্যে দশটা গোত্র ছিল। এসব গোত্রের প্রধান ছিল নাযরের দশ পুত্র। সমাজের প্রকৃতি ও মানুষের মনমানসিকতার ওপর গোষ্ঠীয় কাঠামোর বড়সড় প্রভাব ছিল। যে গোষ্ঠী যত শক্তিশালী, সেই গোষ্ঠীর মানুষজন নিজেদের তত বেশি নিরাপদ মনে করতেন। কেউ হামলা করলে সেই হামলাকারীর পুরো গোষ্ঠীকে তার দায় বহন করতে হতো। খেসারত হিসেবে সবাই মিলে 'রক্তমূল্য' দিত।
কোনো ফুটবল দলের কট্টর সমর্থকরা যেমন সেই দলের চরম অনুগত, সেই সময়ের গোষ্ঠীর লোকদের বিশ্বস্ততা ছিল তেমন। গোত্রের প্রথম পূর্বপুরুষের সাথে যার সম্পর্ক যত কাছের, তার বিশ্বস্ততা তত বেশি। গোত্রবন্ধনের উদাহরণ নিয়ে একটা আরবি প্রবাদ আছে: 'আমি আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে, আমার ভাই ও আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি ও আমার চাচাতো ভাইয়েরা সবাই অপরিচিত লোকের বিরুদ্ধে'।
একই গোত্রের মধ্যে সহজেই মারামারি লেগে যেত। কুরাইশ গোত্রের নেতা কুসাইয়ের মৃত্যুর পর তার ছেলেদের মধ্যে মারামারি লেগে যায় কাবার দখল নিয়ে (পরের অধ্যায়ে এ ব্যাপারে আরও কথা আছে)।
তবে গোত্রের প্রতি বিশ্বস্ততার মানে এই না যে, কেউ আজীবন তার সঙ্গে থাকবে। গুরুতর কোনো অপরাধের কারণে গোত্রপতিরা মিলে কাউকে বের করে দিতে পারত। যে বের হয়ে যেত তার কপালে আরও শনি ছিল। কারণ, তখন কেউ আর তাকে নিরাপত্তা দিত না। ফলে যে কেউ চাইলে তার ওপর হামলা করতে পারত। সে হতো সহজ শিকার। চাইলে কেউ তাকে মেরেও ফেলতে পারত।
এই অঞ্চলের প্রধান উন্মুক্ত বাজারের নাম ছিল সুক উকাজ। কোনো কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত সদস্যের নাম সেখানে জানিয়ে দিত। মদ খাওয়া নিয়ে আল-বারাদ ইব্‌ন কাইস তার গোষ্ঠীর নামহানি করেছিল। তার গোষ্ঠী ৫৯০ সালে বাজারে তাকে ঘোষণা দিয়ে বহিষ্কার করে। কখনো কখনো কোনো কোনো সদস্য এক গোষ্ঠী থেকে বের হয়ে অন্য গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারত। সেক্ষেত্রে তারা তখন সেই গোষ্ঠীর পূর্ণ নিরাপত্তা ভোগ করত। অনেকটা আজকের যুগের সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্ব দেওয়ার মতো। তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো দুই গোত্রের অধীনে থাকার সুযোগ ছিল না।
পারস্পরিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য আজকাল যেমন আন্তর্জাতিক জোটচুক্তি হয় তখনও হতো। তখন আন্তগোষ্ঠীয় চুক্তি হতো। যেমন তীর্থযাত্রীদের ভালোভাবে দেখাশোনার জন্য কুরাইশরা মক্কার অন্যান্য গোষ্ঠীর সাথে জোট বেধেছিল। সিরিয়া ও ইয়েমেনে তাদের দুটো বাণিজ্য কাফেলা যেত। তো ওগুলো যেন নিরাপদে যাওয়া-আসা করতে পারে, সেজন্য তারা আরব উপদ্বীপের অন্যান্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে। সূরা কুরাইশে এর উল্লেখ আছে।
গোষ্ঠী আর গোষ্ঠীর সদস্যের মধ্যে যেমন পারস্পরিক নিরাপত্তার অলিখিত চুক্তি ছিল, এসব জোটের মধ্যেও অনুরূপ চুক্তি ছিল। কোনো এক গোষ্ঠীর উপর হামলা মানে পুরো জোটের উপর হামলা।
সেই সমাজে আরেক ধরনের সম্পর্ক ছিল- জাওয়ার। কোনো লোক যদি ভিন্ন কোনো অঞ্চলে সফরে যেত, তাহলে তার গোষ্ঠী সেই অঞ্চলের স্থানীয় কোনো গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে নিরাপত্তার আবেদন করতে পারত। আজকের দিনে আন্তর্জাতিক শরণার্থী ব্যবস্থা অনেকটা এর আদলেই তৈরি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00