📘 বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস 📄 হোসেন শাহী বংশ

📄 হোসেন শাহী বংশ


আলাউদ্দীন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯ খৃঃ)
দানিয়াল নাসীরউদ্দীন নসরৎ শাহ (১৫১৯-৩২ খৃঃ)
আলাউদ্দীন ফিরোজশাহ (১৫৩২ খৃঃ)
গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৫৩২-৩৮ খৃঃ)
বাংলার ইতিহাস আলোচনা করলে জানা যায় যে, সর্বপ্রথম হোসেন শাহী আমলেই মুসলমানদের আচার-আচরণ ও ধর্ম বিশ্বাসে পৌত্তলিকতার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। শ্রীচৈতন্য ও বৈষ্ণব সমাজের বিরাট প্রভাব যে মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাস কলুষিত করেছিল তাতে সন্দেহ নেই। হোসেন শাহ কর্তৃক লক্ষ লক্ষ সম্ভ্রান্ত মুসলমান আমীর-ওমরা, ধার্মিক ও পীর-অলী নিহত হওয়ায় এবং হোসেন শাহের স্বয়ং শ্রীচৈতন্যের শিষ্যত্ব গ্রহণ করার কারণে মুসলিম সমাজে পৌত্তলিক ভাবধারার অনুপ্রবেশ সহজতর হয়েছিল।
এম আর তরফদার তাঁর Husain Shahi Bengal গ্রন্থে বলেন: "Some of the influential Muslims used to worship the snake goddess, Manasa, out of fear for snake bite. It is probably the result of the Hindu influence on the Muslims. Nasrat Shah constructed a building in order to preserve therein the Qadam Rasul or the footprint of the Prophet. But the preservation of the Prophet's footprint does not find support in Orthodox Islam (Husain Shahi Bengal, M.R. Tarafdar, p. 164, 166, 167, 89-91)
"কোন কোন প্রভাবশালী মুসলমান মনসা দেবীর পূজা করতো সর্পদংশনের ভয়ে। এ ছিল সম্ভবতঃ মুসলমানদের উপর হিন্দু প্রভাবের ফল। নসরৎ শাহ (হোসেন শাহের পুত্র) কদম রসূল বা নবীর পদচিহ্ন রক্ষণের জন্যে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করেন। নবীর পদচিহ্নের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন সত্যিকার ইসলাম সমর্থন করেনা।”
ডাঃ জেমস্ ওয়াইজ বলেন, গয়ার ব্রাহ্মণগণ তীর্থ যাত্রীদেরকে বিষ্ণুপদ (বিষ্ণুর পদচিহ্ন) দেখিয়ে প্রচুর রোজগার করে। তাদের অনুকরণে মুসলমান সমাজে কদম রসূলের পূজার প্রচলন শুরু হয় হোসেন শাহী বাংলায়।
হোসেন শাহী বংশ পঁয়তাল্লিশ বৎসর বাংলার শাসন পরিচালন করার পর আর তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তারপর শের শাহ, সুর ও কররাণী বংশ ১৫৭৫ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত থাকে। অতঃপর দিল্লীর মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে নিযুক্ত গভর্ণরগণ বাংলার শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকেন। তবে ১৬০৫ খৃস্টাব্দে বাদশাহ আকবরের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর কর্তৃক মানসিংহ দ্বিতীয়বারের জন্যে বাংলার গভর্ণর নিযুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শান্তির সঙ্গে বাংলায় শাসনকার্য পরিচালনা সম্ভব হয়নি। বাংলার মোগল আধিপত্য বার বার প্রতিহত ও বিপন্ন হয়। মানসিংহের পর জাহাঙ্গীর কুতুবউদ্দীন খান কোকাকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন। ১৬০৭ খৃস্টাব্দে জাহাঙ্গীর কুলী খান এবং ১৬৩৯ সাল পর্যন্ত আরও নয়জন বাংলার সুবাদার গভর্ণর হিসাবে শাসন পরিচালনা করেন। ১৬৩৯ সালে যুবরাজ সুজা বাংলার গভর্ণর নিযুক্ত হওয়ার পর সর্বপ্রথম ইংরেজগণ ব্যবসায়ীর বেশে বাংলায় আগমন করে এবং ১৭৫৭ সালে তারা চিরতরে মুসলিম শাসনের মূলোৎপাটন করে বাংলা বিহারের হর্তাকর্তা বিধাতা হয়ে পড়ে।
যুবরাজ মুহাম্মদ সুজার পর ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত যাঁরা বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তাঁরা হলেন:
যুবরাজ মুহাম্মদ সুজা-১৬৩৯-৬০ খৃঃ
মুয়াজ্জম খান মীর জুমলা-১৬৬০-৬৩ খৃঃ
দিলির খান-দাউদ খান-১৬৬৩-৬৪খৃঃ
শায়েস্তা খান (মুমতাজ মহলের ভ্রাতা)-১৬৬৪-৭৮ খৃঃ
ফিদা খান আজম খান কোকা-১৬৭৮ খৃঃ
যুবরাজ মুহাম্মদ আজম-১৬৭৮-৭৯ খৃঃ
শায়েস্তা খান-১৬৭৯-৮৮খৃঃ
খানে জাহান-১৬৮৮-৮৯খৃঃ
ইব্রাহিম খান-১৬৮৯-৯৮ খৃঃ
যুবরাজ আজীম উদ্দীন-১৬৯৮-১৭১৭খৃঃ
মুর্শিদ কুলী খান-১৭১৭-২৭খৃঃ
সুজাউদ্দীন মুহাম্মদ খান-১৭২৭-৩৯ খৃঃ
সরফরাজ খান-১৭৩৯-৪০ খৃঃ
আলীবর্দী খান-১৭৪০-৫৬খৃঃ
সিরাজদ্দৌলা-১৭৫৬-৫৭খৃঃ

ফন্ট সাইজ
15px
17px