📘 আত্মসমালোচনা > 📄 ১. ক্বিয়ামতের দিন হিসাব সহজ হওয়া

📄 ১. ক্বিয়ামতের দিন হিসাব সহজ হওয়া


কোন মুসলিম দুনিয়াতে নিয়মিত নিজের মনের হিসাব নিলে ক্বিয়ামতের দিন তা তার হিসাব হাল্কা হওয়ার মাধ্যম হবে। কেননা আত্মসমালোচনার কারণে দুনিয়ার জীবনে তার পাপপ্রবণতা কমে যাবে এবং নেক কাজের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেছেন, حاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا فإنه أهون لحسابكم وزنوا أنفسكم قبل أن توزنوا وتجهزوا للعرض الأكبر '(আল্লাহ্র নিকটে) তোমাদের হিসাব দানের আগে তোমরা নিজেরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো এবং (আল্লাহ্র নিকটে) ওযনের আগে নিজেরা নিজেদের ওযন করো। কেননা এটা করা তোমাদের জন্য তুলনামূলক সহজ। আর তোমরা সবচেয়ে বড় আরয বা হিসাবের জন্য পাথেয় যোগাড় করো'। আল্লাহ বলেছেন, يَوْمَئِذٍ تُعْرَصُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِية 'সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। কোনকিছুই তোমাদের গোপন থাকবে না' (হাক্কাহ ৬৯/১৮)।
জা'ফর বিন বুরকান (রহঃ) বলেন, আমার নিকট পৌঁছেছে যে, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) তাঁর এক কর্মকর্তাকে একটি পত্র দিয়েছিলেন, সেই পত্রের শেষাংশে লেখা ছিল, حَاسِبْ نَفْسَكَ فِي الرَّخَاءِ قَبْلَ حِسَابِ الشَّدَّةِ، فَإِنَّهُ مَنْ حَاسَبَ نَفْسَهُ فِي الرَّخَاءِ قَبْلَ حِسَابِ الشَّدَّةِ، عَادَ مَرْجِعُهُ إِلَى الرِّضَا وَالْغِبْطَةِ، وَمَنْ أَلْهَتْهُ حَيَاتُهُ، وَشَغَلَهُ هَوَاهُ، عَادَ مَرْجِعُهُ إِلَى النَّدَامَةِ وَالْحَسْرَةِ، فَتَذَكَّرْ مَا تُوعَظُ بِهِ، لِكَيْ تُنْهَى عَمَّا يُنْتَهَى عَنْهُ - 'দুঃসময়ের হিসাবের পূর্বে সুসময়ে তোমার মনের হিসাব রাখো। কেননা যে দুঃসময়ে হিসাবের পূর্বে সুসময়ে তার মনের হিসাব রাখে, পরিণামে সে পরিতুষ্টি ও ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করে। আর যাকে তার আয়ুষ্কাল দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে অনাগ্রহী উদাসীন করে দিয়েছে এবং সে খেয়াল-খুশীর বশে ভোগবিলাসে মত্ত থাকছে, পরিণামে সে লাভ করবে আফসোস ও অনুশোচনা। সুতরাং যে বিষয়ের উপদেশ দেয়া হয়, তার শিক্ষা গ্রহণ করো। যাতে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা সঙ্গত তা থেকে বিরত থাকা যায়'।
হাসান বছরী (রহঃ) বলেছেন, 'মুমিন তার মনের অভিভাবক। সে আল্লাহ্র ওয়াস্তে মনের হিসাব রাখে। আর নিশ্চয়ই যে জাতি দুনিয়াতে নিজেদের মনের হিসাব গ্রহণ করে ক্বিয়ামত দিবসে তাদের হিসাব হাল্কা ও আরামদায়ক হবে। আর ক্বিয়ামত দিবসে কেবল তাদের হিসাব কঠিন ও কষ্টদায়ক হবে, যারা হিসাব ছাড়াই জীবন কাটিয়েছে। মুমিনের হঠাৎই কোন জিনিস ভাল লাগলে সে বলে ওঠে, আল্লাহ্র কসম, নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কামনা করি এবং তোমার প্রয়োজনও আমার আছে। কিন্তু আল্লাহ্র কসম, তোমার নাগাল পাওয়ার সুযোগ আমার হাতে নেই! তোমার ও আমার মাঝে দেয়াল তোলা রয়েছে। আর যদি তার কিছু সামান্য ভোগ করে বসে তাহ'লে সে মনের কাছে প্রশ্ন তোলে, কোন উদ্দেশ্যে এটা করলে? এটার আমার কী দরকার ছিল? আল্লাহ্র কসম! আমার তো অজুহাত তোলারও সুযোগ নেই। আল্লাহ্র কসম! আগামীতে আল্লাহ চাহে তো আমি এ কাজ আদৌ করব না।

টিকাঃ
২০. ঐ, পৃ. ৬।
২১. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, পৃ. ৩০৭।
২২. মুহাসাবাতুন নাফস, পৃ. ১৬।
২৩. আয-যুহদ, পৃ. ৩০৮।

📘 আত্মসমালোচনা > 📄 ২. হেদায়াত লাভে সমর্থ হওয়া এবং তার উপর অটল থাকা

📄 ২. হেদায়াত লাভে সমর্থ হওয়া এবং তার উপর অটল থাকা


আত্মসমালোচনার ফলে মানুষ যেমন আল্লাহ্র দেওয়া সরল পথ লাভ করতে পারে, তেমনি তার উপর অটল থাকতে পারে। কাযী বায়যাভী (রহঃ) বলেন, 'হেদায়াত লাভ এবং তাতে অটল থাকার মত যোগ্যতা তখনই লাভ করা সম্ভব হবে যখন এজন্য চিন্তাশক্তি ব্যয় করা হবে। যেসব দলীল-প্রমাণ এক্ষেত্রে রয়েছে সেগুলো নিয়ে সদাই চিন্তা-গবেষণা করা হবে এবং কী আমল করা হচ্ছে বা না হচ্ছে লাগাতারভাবে মন থেকে তার হিসাব নেওয়া হবে'।

টিকাঃ
২৫. তাফসীরুল বায়যাভী, পৃ. ১২৯।

📘 আত্মসমালোচনা > 📄 ৩. কলবের রোগের চিকিৎসা

📄 ৩. কলবের রোগের চিকিৎসা


মানুষের মনে নানা রোগ বাসা বাঁধে। যেমন, লোভ, হিংসা, অহংকার, আত্মতুষ্টি, অহমিকা, নিজেকে বড় দ্বীনদার ভাবা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, কর্মবিমুখতা, অমিতব্যয়িতা ইত্যাদি। নিজের কথা ও কাজের হিসাব না নেওয়ার ফলে নিজের অজান্তে এসব রোগ হয়। তাই মন থেকে নিজ আমলের হিসাব নিলে এবং মনের ইচ্ছার বিরোধিতা করলে তখনই কেবল আত্মার রোগ প্রতিরোধ ও তার চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। মনের হিসাব না নিয়ে বরং যদি মানুষ নিজের মনের ইচ্ছার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাহ'লে কলব ধ্বংস হয়ে যায়। সুতরাং যে মূর্খ কেবল সেই স্বীয় আত্মাকে কুপ্রবৃত্তির অনুসারী করে এবং আল্লাহ্র কাছে অলীক আশা পোষণ করে। তার মন যেদিকে ঝোঁকে সেও সেদিকে ঝোঁকে। মন যেদিকে চায় সে সেদিকেই যায়। এতে করে তার কলব নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে মনের ইচ্ছার বিরোধিতা করে কুরআন-সুন্নাহ্র আলোকে কিসে নিজের কল্যাণ ও অকল্যাণ হয় তা ভেবে কাজ করলে কলব সুস্থ থাকে এবং তার রোগ-ব্যাধিরও চিকিৎসা হয়।

📘 আত্মসমালোচনা > 📄 ৪. মনের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং নিজের আমল-আখলাকে ধোঁকার শিকার না হওয়া

📄 ৪. মনের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং নিজের আমল-আখলাকে ধোঁকার শিকার না হওয়া


নিজের কাজের ভালো-মন্দ যাচাই ও পরখ করে না দেখলে নিজের কাছে নিজেকে ভালো মনে হয়। আমল-আখলাকে কোন সমস্যা আছে বলেও মনে হয় না। নিজেকে বরং আল্লাহ্র প্রিয় বান্দা ভাবতেই ইচ্ছা করে। কিন্তু মনের হিসাব-নিকাশ করলে তখন তার নানা দোষ বেরিয়ে আসবে। আর যখনই নিজের সামনে মনের দোষ প্রকাশ হয়ে পড়বে, তখন আর নিজের আমলকে এটিমুক্ত ও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ভেবে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলার ইচ্ছা জাগবে না। বরং মনে হবে, তার রব যেন এই টুটা-ফাটা কলুষিত আমল দয়া করে কবুল করে নেন। আব্দুল আযীয বিন আবী রাওয়াদ (রহঃ) তাঁর মৃত্যুর সময় বলেন, ما دخلت في شيء من أعمال البر فخرجت منه فحاسبت نفسي إلا وجدت نصيب الشيطان فيه أوفر من نصيب الله 'যখনই আমি কোন পুণ্য কাজ শুরু করে তা শেষ করেছি তখনই আমি আমার মন থেকে হিসাব করে দেখেছি যে, তাতে আল্লাহ তা'আলার ভাগের থেকে শয়তানের ভাগ বেশী'।

টিকাঃ
২৬. ইবনু আদী, আল-কামিল ৫/২৯১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00