📄 পরিশিষ্ট
এ ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপর সামান্য আলোকপাত। আমরা এখানে আত্মনিয়ন্ত্রণের অর্থ, কারণ, তার কিছু ধরন, প্রকারভেদ, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালীকরণের কিছু মাধ্যম আলোচনা করেছি।
এ আলোচনা থেকে আমাদের নিকট প্রকাশিত হয়েছে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের পুরোটাই নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করার ওপর নির্ভরশীল। মন্দের ওপর অটল থাকার বিরোধে গিয়ে নিজেকে সামাল দেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ। আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন প্রতিটি বিষয়কে প্রতিহত করা আত্মনিয়ন্ত্রণ। যতক্ষণ পর্যন্ত নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করে যাওয়া হবে, আদেশ যথাযথ পালন করা হবে, নিষেধ থেকে বিরত থাকা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাইরের কোনো শত্রুর শত প্রচেষ্টাও মনের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। তাই তো রাসুলুল্লাহ বলেন:
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করে।' ¹⁴⁶
হাসান বসরি বলেন:
'মুমিন সর্বদা নিজেকে দুষতে থাকে। আমার এ কথার উদ্দেশ্য কী ছিল, হায়, আর আমি কী করলাম! আমার এ খাবারের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমার এ ভাবার উদ্দেশ্য কী ছিল, হায়, আর আমি কী করলাম! আপনি তাকে সব সময়ই নিজেকে দোষারোপ করতে দেখবেন। কিন্তু গুনাহগার সব সময় নিজের মতো করে গুনাহ করে যায়। অথচ নিজেকে কখনো দোষারোপ করে না।'¹⁴⁷
একজন মুসলিম সর্বদা নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেবে—যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন চিরস্থায়ী কষ্টে পড়ার চেয়ে এখন ক্ষণস্থায়ী কষ্ট সহ্য করে নেওয়াই অধিক উত্তম।
আল্লাহর নিকট আমাদের কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা—তিনি যেন আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে দেন, দুর্লঙ্ঘ বাধা প্রতিস্থাপন করেন।
আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত বানিয়ে নেন, যারা কিছু মন্দ করলেই সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন কোনো উত্তম কিছু করে, তখন প্রফুল্ল হয়।
তিনি যে কথা ও কাজকে পছন্দ করেন, যে কথা ও কাজে তাঁর সন্তুষ্টি—তিনি যেন সে কথা ও কাজকেই আমাদের মনোবৃত্তি বানিয়ে দেন (আমিন)।
টিকাঃ
১৪৬. সুনানুত তিরমিজি: ১৬২১
১৪৭. ইমাম আহমাদ - কৃত আজ-জুহদ: ২২৮