📘 আত্মনিয়ন্ত্রন > 📄 আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার উপায়

📄 আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার উপায়


মন্দ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা, মন্দ থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণ করা, ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়-ইবাদতের ক্ষতি করে প্রত্যেক এমন কর্ম থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণ করা ব্যক্তির দ্বীনের মূলভিত্তি। তাই অবশ্যই অবশ্যই আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তা মজবুত ও শক্তিশালী করতে হবে। এটি এভাবে হতে পারে-

১. কুরআনের তাদাব্বুর করা
কুরআনের তাদাব্বুর-তাফাহহুম, কুরআনের আয়াতে চিন্তা-ভাবনা করা, বুঝে বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করা আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا
'আমি কুরআন হতে অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।'¹³⁰

২. আল্লাহর বড়ত্ব অনুধাবন করা
আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি জানা। এগুলোর অর্থ বোঝা ও এগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। এ অনুভূতি অন্তরের মাঝে চিরস্থায়ী করে রাখা। আমলে তার প্রভাব পড়া। যেন অন্তরে বিরাজমান উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ হয় বাহ্যিক আমল। এ অনুভূতি ও উপলব্ধিই হয়ে পড়ে তার চিন্তারাজ্যের অধিপতি। তাই যখন অন্তর ও চিন্তার রাজ্য এমন উপলব্ধির অনুসারী হয়, তখন তা শুদ্ধ-পরিশুদ্ধ হয়। আর আমরা জানি, যখন অন্তর শুদ্ধ হয়, তখন পুরো দেহ পরিশুদ্ধ হয়। যখন অন্তরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তখন পুরো দেহ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

৩. শরয়ি ইলম অন্বেষণ করা
আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورُ
'আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই ভয় করে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।'¹³¹

৪. আল্লাহর স্মরণে মজলিস করা
জিকির ইমান বৃদ্ধি করে। রাসুলুল্লাহ বলেন :
لَا يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا حَقَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
'কোনো একটি দল যখনই আল্লাহর স্মরণ করে, তখন ফেরেশতাগণ চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখে। রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে রাখে। তাদের ওপর অবতারিত হতে থাকে প্রশান্তি। আর আল্লাহ তাদের কথা তাঁর নিকটের লোকদের মাঝে স্মরণ করেন।'¹³²

৫. বেশি বেশি নেক আমল করা এবং পুরো সময়টাকে ইবাদতে ব্যয় করা
নেক আমল করার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমকে কয়েকটি দিক লক্ষ রেখে আমল করতে হবে। যেমন:
দ্রুত আমলে মগ্ন হওয়া
কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন : وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
'আর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে পরহেজগারদের জন্য। '¹³³
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ 'তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান। '¹³⁴
অবিরত আমল করে যাওয়া
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন, 'আল্লাহ তাআলা বলেন :
ومَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا، وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأُ عِيذَنَّهُ وَمَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ
“আমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হয়, এমনকি এক সময় আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনতে পায়। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাঁটে। সে আমার কাছে চাইলে আমি তাকে দিই। সে আশ্রয় চাইলে আমি আশ্রয় দিই। আমি কোনো কাজ করার ইচ্ছা করলে তা বাস্তবায়ন করতে ততটা ইতস্তত করি না, যতটা ইতস্তত করি মুমিন বান্দার রুহ কবজ করতে। সে যে মৃত্যুযন্ত্রণা অপছন্দ করে, আর এদিকে আমিও তাকে কষ্ট দিতে চাই না।””¹³⁵

ইবাদতে সাধনা করা
আল্লাহ তাআলা বলেন: كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ * وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ
'রাতের বেলা তারা খুব কমই শয়ন করত। আর তারা রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত। এবং তাদের ধনসম্পদে আছে যাচনাকারী ও বঞ্চিতদের অধিকার (যা তারা আদায় করত)।'¹³⁶

৬. বিভিন্ন ধরনের ইবাদত করা
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন :
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ صَائِمًا؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: فَمَنْ تَبِعَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ جَنَازَةً؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: فَمَنْ أَطْعَمَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مِسْكِينًا؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَا، قَالَ: فَمَنْ عَادَ مِنْكُمُ الْيَوْمَ مَرِيضًا؟ قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ : مَا اجْتَمَعْنَ فِي امْرِئٍ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ
'আজ তোমাদের মধ্যে কে রোজা রেখেছ?' আবু বকর বললেন, 'আমি।' তিনি বললেন, 'আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাজায় শামিল হয়েছ?' আবু বকর বললেন, 'আমি।' তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে কে আজ মিসকিনকে খাবার খাইয়েছ?' আবু বকর বললেন, 'আমি।' তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে কে আজ রোগীর শুশ্রুষা করেছ?' আবু বকর বললেন, 'আমি।' তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'যার মধ্যে এ সকল বিষয় একত্রিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'¹³⁷

বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ يَعْنِي الْمَوْتَ 'তোমরা উপভোগের স্বাদ ধ্বংসকারী অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।'¹³⁸

৮. আল্লাহর সাথে চুপি চুপি কথা বলা, তার সামনে নিজের ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে হাজির হওয়া
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ، وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ 'বান্দা তার রবের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় সিজদাবনত অবস্থায়। তাই তোমরা (সিজদা অবস্থায়) বেশি বেশি দুআ করো।'¹³⁹

৯. কম আশা করা
আল্লাহ তাআলা বলেন : لَّمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِّنَ النَّهَارِ 'সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহূর্তের বেশি পৃথিবীতে অবস্থান করেনি।'¹⁴⁰
১০. দুনিয়ার তুচ্ছতা নিয়ে চিন্তা করা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
'আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।' ¹⁴¹

১১. আল্লাহর নির্ধারিত সম্মানিত বিষয়াবলিকে সম্মান করা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يُعَظِمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ
'আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্য উত্তম।' ¹⁴²

১২. আত্মসমালোচনা করা
আল্লাহ তাআলা বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেকেই যেন লক্ষ রাখে, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।' ¹⁴³
১৩. দুআ করা
এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, যা একজন বান্দার অবশ্যই ধারণ করা উচিত, গ্রহণ করা উচিত। নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি নবিজি-কে বলতে শুনেছি :
الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ "দুআই ইবাদত।”
এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন :
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
“আর তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত করে না, নিশ্চিতই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” ¹⁴⁴ [¹⁴⁵]
এ ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালীকরণের কয়েকটি সহায়ক মাধ্যম। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এ আলোচনা দ্বারা উপকৃত করেন।

টিকাঃ
১৩০. সুরা আল-ইসরা: ৮২
১৩১. সুরা ফাতির: ২৮
১৩২. সহিহু মুসলিম: ২৭০০
১৩৩. সুরা আলি ইমরান: ১৩৩
১৩৪. সুরা আল-হাদিদ: ২১
১৩৫. সহিহুল বুখারি: ৬৫০২
১৩৬. সুরা আজ-জারিয়াত: ১৭-১৯
১৩৭. সহিহু মুসলিম: ১০২৮
১৩৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৪৬০
১৩৯. সহিহু মুসলিম: ৪৮২
১৪০. সুরা আল-আহকাফ: ৩৫
১৪১. সুরা আলি ইমরান : ১৮৫
১৪২. সুরা আল-হাজ: ৩০
১৪৩. সুরা আল-হাশর: ১৮
১৪৪. সুরা গাফির: ৬০
১৪৫. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৪৭

📘 আত্মনিয়ন্ত্রন > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


এ ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপর সামান্য আলোকপাত। আমরা এখানে আত্মনিয়ন্ত্রণের অর্থ, কারণ, তার কিছু ধরন, প্রকারভেদ, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালীকরণের কিছু মাধ্যম আলোচনা করেছি।
এ আলোচনা থেকে আমাদের নিকট প্রকাশিত হয়েছে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের পুরোটাই নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করার ওপর নির্ভরশীল। মন্দের ওপর অটল থাকার বিরোধে গিয়ে নিজেকে সামাল দেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ। আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন প্রতিটি বিষয়কে প্রতিহত করা আত্মনিয়ন্ত্রণ। যতক্ষণ পর্যন্ত নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করে যাওয়া হবে, আদেশ যথাযথ পালন করা হবে, নিষেধ থেকে বিরত থাকা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাইরের কোনো শত্রুর শত প্রচেষ্টাও মনের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। তাই তো রাসুলুল্লাহ বলেন:
الْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ
'মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে সাধনা করে।' ¹⁴⁶
হাসান বসরি বলেন:
'মুমিন সর্বদা নিজেকে দুষতে থাকে। আমার এ কথার উদ্দেশ্য কী ছিল, হায়, আর আমি কী করলাম! আমার এ খাবারের উদ্দেশ্য কী ছিল, আমার এ ভাবার উদ্দেশ্য কী ছিল, হায়, আর আমি কী করলাম! আপনি তাকে সব সময়ই নিজেকে দোষারোপ করতে দেখবেন। কিন্তু গুনাহগার সব সময় নিজের মতো করে গুনাহ করে যায়। অথচ নিজেকে কখনো দোষারোপ করে না।'¹⁴⁷
একজন মুসলিম সর্বদা নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেবে—যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন চিরস্থায়ী কষ্টে পড়ার চেয়ে এখন ক্ষণস্থায়ী কষ্ট সহ্য করে নেওয়াই অধিক উত্তম।
আল্লাহর নিকট আমাদের কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা—তিনি যেন আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে দূরত্ব তৈরি করে দেন, দুর্লঙ্ঘ বাধা প্রতিস্থাপন করেন।
আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত বানিয়ে নেন, যারা কিছু মন্দ করলেই সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন কোনো উত্তম কিছু করে, তখন প্রফুল্ল হয়।
তিনি যে কথা ও কাজকে পছন্দ করেন, যে কথা ও কাজে তাঁর সন্তুষ্টি—তিনি যেন সে কথা ও কাজকেই আমাদের মনোবৃত্তি বানিয়ে দেন (আমিন)।

টিকাঃ
১৪৬. সুনানুত তিরমিজি: ১৬২১
১৪৭. ইমাম আহমাদ - কৃত আজ-জুহদ: ২২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00