📄 সামনের দিনগুলোর হিসাব নাও, অতীত দিনগুলোর জন্য ক্ষমা পাবে
একজন ব্যক্তি একবার ফুজাইল ইবনে ইয়াজ রাহিমাহুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বয়স কত? লোকটি জবাবে বললেন, ৬০ বছর।
ফুজাইল রাহিমাহুল্লাহ বললেন, তাহলে তো অতিসত্বর তুমি আল্লাহ তাআলার কাছে উপনীত হতে যাচ্ছ।
লোকটি বলল, ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ফুজাইল রাহিমাহুল্লাহ বললেন, তুমি কি কথাটির অর্থ জানো?
লোকটি জবাবে বললেন, এর অর্থ আমরা হলাম আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং আমাদেরকে অতিসত্বর তাঁর নিকট ফিরে যেতে হবে।
ফুজাইল রাহিমাহুল্লাহ বললেন, যদি এটাই বিশ্বাস করো যে, তুমি আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তাহলে এটাও জেনে নাও যে, তোমাকে তোমার জীবনের পাপ-পুণ্য সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং তুমি জবাবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো।
লোকটি বলল, হিসাব সহজ হওয়ার উপায় কী?
ফুজাইল রাহিমাহুল্লাহ বললেন, এর উপায় হলো অতীত জীবনের হিসাব গ্রহণ করা আর অবশিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা।
📄 দিনার আইয়ার রাহিমাহুল্লাহর বিস্ময়কর পরিবর্তন
দিনার আইয়ার নামের একজন যুবক ছিলেন খুব উচ্ছৃঙ্খল। মা তাকে সর্বদা ভালো হয়ে চলার, নেক আমল করার আদেশ-উপদেশ দিতেন। কিন্তু তিনি তা পরোয়া করতেন না। নিজের মতো করে চলতেন। হঠাৎ একদিন তিনি একটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে লাগলেন। কবরটি ছিল প্রাচীন। অনেক হাড়-গোড় জড়ো হয়ে আছে। অনেক পুরাতন হাড্ডি মাটির ওপর দিয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তিনি হঠাৎ থমকে গেলেন। স্তব্ধ হয়ে গেল তার চলার গতি। তিনি কয়েকটি পুরাতন হাড্ডি হাতে তুলে নিলেন এবং অনেকক্ষণ খুব চিন্তা করলেন।
এরপর নিজের নফসকে সম্বোধন করে বললেন, হে আমার প্রাণ! আত্মা! আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি, আগামীকাল তোমার হাড্ডিও এমন জীর্ণশীর্ণ হয়ে যাবে। কবরের ওপরে ভেসে উঠবে। বাতাসে এদিক-সেদিক উড়িয়ে নিয়ে যাবে। হাড্ডির সঙ্গে রক্ত-মাংসের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় কোনো প্রাণীও তোমার হাড্ডির দিকে তাকাবে না। তোমার হাড্ডি নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো তোমার এই সুঠাম দেহও অকেজো হয়ে যাবে।
হে আমার নফস! আজ তুমি সোৎসাহে পাপকাজে লিপ্ত হচ্ছ। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গ পাচ্ছ! কিন্তু এই হাড্ডিগুলোর বন্ধুরা আজ কোথায়? আনন্দ-ফূর্তির সময়কার অন্তরঙ্গ বন্ধুগুলো আজ এদেরকে একা ফেলে রেখেছে কেন?
নিজের নফসের কাছে প্রশ্নগুলো করে গেলেন এই যুবক। কিন্তু নফসের কাছে কোনো জবাব ছিল না। কেননা নফস মানুষকে কেবল পাপকাজেই জড়াতে পারে, পাপকাজে জড়ানোর পক্ষে তার কাছে কোনো যুক্তি থাকে না। তাই তিনিও নিজের নফসের কাছে প্রশ্ন করে কোনো সদুত্তর পেলেন না।
তখনই প্রতিজ্ঞা করলেন, যে নফস তাকে এই পাপে ডুবিয়েছে, সেই নফসকে শাসন করেই তিনি আল্লাহ তাআলার মর্জিতে নিজেকে সমর্পিত করবেন। তাই সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলার দরবারে হাত উত্তোলন করলেন এবং দুআ করলেন, হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের হাত থেকে আমার লাগام কেড়ে নিয়ে আপনার হাতে সোপর্দ করে দিলাম। আমাকে আপনি কবুল করুন এবং অতীত হালের জন্য আমার প্রতি রহম করুন।
এরপর তিনি তার মায়ের কাছে বিবর্ণ অবস্থায় ফিরে গেলেন। মায়ের সামনে অত্যন্ত লজ্জিত ও নত মস্তকে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আম্মাজান! কোনো মুনিব যখন তার পলাতক দাসকে হাতের নাগাল পেয়ে যান, তখন তিনি তার সঙ্গে কীরূপ আচরণ করেন?
মা বললেন, তার খাবার-পানীয় হ্রাস করে দেন এবং তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন।
যুবক বললেন, তাহলে আমাকে একটি পশমের জুব্বা দিন আর ভুট্টার কয়েক টুকরো রুটি দিন। আমার সঙ্গে তেমন ব্যবহারই করুন, যা একজন পলাতক ভৃত্যের সঙ্গে করা হয়। যাতে আমার মুনিব আমার এই দুর্দশা দেখে আমার প্রতি রহম করেন।
যুবকের কথা শুনে তার মা তা-ই করলেন। এরপর যুবক রাতের বেলায় চিৎকার করে কাঁদতেন আর নিজেকে তিরস্কার করে বলতেন, হে দিনার! তোমার কি আগুনের তাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে? যখন তোমাকে আজাবের সামনে পেশ করা হবে, তখন তুমি কীভাবে তা বরদাশত করবে? এভাবে প্রতিদিন নিজেকে ও নিজের নফসকে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করে রাত কাটাতেন।
একদিন রাতে তার মা তাকে বললেন, হে বৎস! তুমি তোমার নফসের প্রতি কিছুটা রহম করো!
জবাবে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, আম্মাজান! কিছু সময় নিজেকে ক্লান্ত হতে দিন, যাতে অনন্তকালের জন্য শান্তি পাই। হে আম্মাজান! রবের সামনে আমাদেরকে দীর্ঘ সময় দণ্ডায়মান হতে হবে। আমি জানি না, সেদিন আমাকে দীর্ঘ ছায়াদার জান্নাতে স্থান দেবেন, না নিকৃষ্ট স্থানে আশ্রয় দেবেন।
মা বললেন, তবু রাতের কিছু অংশে আরাম ও বিশ্রাম করো।
জবাবে দিনার বললেন, আম্মাজান! আরাম ও বিশ্রাম করব! তাহলে আপনি কি আমার মুক্তির জিম্মাদারি নেবেন?
মা বললেন, আমি কীভাবে জিম্মাদারি নিতে পারি?
দিনার রাহিমাহুল্লাহ বললেন, তাহলে আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। আমার মুক্তির পথ আমাকেই বের করার সুযোগ দিন। আম্মাজান! আমার সামনে যেন এই দৃশ্য উদ্ভাসিত হচ্ছে যে, অনেক লোককে জান্নাতের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। আর আমাকে একা জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!
একদিন তিনি রাতের নামাজে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:
فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ.
'আপনার রবের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সকলকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব।'
এই আয়াত দুটি পাঠ করার পর তিনি নিজেকে সম্বোধন করে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, সেদিনের জিজ্ঞাসার জবাব তোমার কাছে প্রস্তুত আছে কি? নিজেকে জিজ্ঞাসা করে নফসের কাছে কোনো সদুত্তর পেলেন না। তাই ভীষণ ক্রন্দন জুড়ে দিলেন। আর সাপের মতো মোড়াতে থাকলেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
ভূপতিত হওয়ার শব্দ শুনে মা ছুটে এলেন এবং সন্তানের নাম ধরে ডাক দিতে লাগলেন। কিন্তু কোনো জবাব পেলেন না। তখন তিনি চিৎকার করে বললেন, হে আমার কলিজার টুকরো! তুমি কোথায়?
দিনার রাহিমাহুল্লাহ খুব ক্ষীণকণ্ঠে বললেন, আম্মাজান! আমাকে যদি কেয়ামতের মাঠে খুঁজে না পান, তবে আমার অবস্থান সম্পর্কে মালেক ফেরেশতাকে জিজ্ঞাসা করবেন।
এ কথা বলে তিনি ভীষণ চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং মারা গেলেন।
তখন মা সন্তানকে গোসল ও কাফন পরিধান করালেন এবং চিৎকার করে ঘরের বাইরে গেলেন। আর লোকদেরকে এই বলে জানাজার নামাজে হাজির হওয়ার আবেদন জানালেন যে, হে লোক সকল! তোমরা জাহান্নামের ভয়ে নিহত যুবকের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে এসো।
মায়ের ঘোষণা শুনে বিভিন্ন প্রান্তর থেকে দলে দলে লোক ছুটে এলো। সেদিন জানাজায় এত পরিমাণ লোকের সমাগম হলো এবং সকলের মধ্যে এত কান্নার রোল পড়ল যে, এর আগে কখনো ওই এলাকায় এরূপ দৃশ্য দেখা যায়নি।
সম্মানিত পাঠক! চিন্তা করুন, যে যুবক নিজেকে পাপের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন, সেই যুবক যখন নিজের নফসের হিসাব নেয়া শুরু করলেন তখন তিনি কোথা থেকে কোথায় গিয়ে উপনীত হলেন? হাজার হাজার মানুষ জানাজায় শরিক হলেন, তার শোকে কান্নার রোল পড়ল। যে মা তাকে নিয়ে ভয় করতেন, সেই মা তাকে নিশ্চিন্ত মনে কবরের মাটিতে সমাহিত করে প্রশান্তি অনুভব করলেন। তাই তো বলা যায়:
এমন জীবন তুমি করেছ গঠন
কবরে শায়িত জেনেও প্রশান্ত মায়ের মন。
টিকাঃ
৩৮. সুরা হিজর: ৯২-৯৩।
📄 নিজের আত্মার কাছে জিজ্ঞাসার বিষয়সমূহ
আসুন নিজের আত্মার কাছে নিজেরাই জিজ্ঞাসা করি নিম্নের এই কয়টি বিষয়ে:
১. অন্তর কি বিগলিত হয়? আল্লাহর জন্য চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসে? হে নফস! তুমি কি লোকদের থেকে দূরে?
২. তুমি কি তোমার যৌবনকালকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করার কাজে নিয়োজিত করেছিলে?
৩. তুমি কি তোমার সময়কে অপচয় থেকে রক্ষা করেছ? ইলম অর্জনে ব্যয় করেছ এবং নবীজির হাদিসভান্ডার সংগ্রহ করেছ?
৪. তুমি কি যাকে চেনো এবং যাকে চেনো না-উভয়কে সালাম দেয়ার ইসলামি শিষ্টাচার যথাযথভাবে পালন করো?
৫. তুমি কি পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার দায়িত্ব পালন করো?
৬. ভালো ও আনন্দদায়ক কোনো সংবাদ শুনলে কি সেজদায় লুটিয়ে পড়ে শোকর আদায় করা হয়?
৭. দুশ্চিন্তার কোনো সংবাদ এলে কিংবা উৎকণ্ঠামূলক কোনো কিছু ঘটলে, তোমার নফস কীভাবে এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে চায়? নামাজ-কালাম ও আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার মাধ্যমে, না অন্য কিছুর মাধ্যমে?
৮. দুইজনের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হলে তোমার ভূমিকা কী হয়? তুমি কি তাদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করো? যখন কেউ তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, অথবা দূরে সরে যেতে চায়, তখন ইসলামের দাবি অনুযায়ী তুমি কি তিনদিনের মধ্যেই তার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করো?
৯. তুমি কি ফকির-মিসকিনকে দান করো? কল্যাণকর কাজে অগ্রসর হও? বিশেষ করে সদকায়ে জারিয়ার ক্ষেত্রে তোমার অবস্থান কী?
১০. নেফাক ও কপটতার মতো মহামারিকে ভয় করতেন সাহাবা, তাবেয়ি, সালফে সালেহিনসহ সকল বুজুর্গানে কেরام। হে নফস! তোমার অবস্থান কী? তুমিও কি তাদের মতো নেফাকি ভয় পাও, না ভয়-ভীতিহীন জীবনযাপন করে যাচ্ছ?
১১. তুমি কি সৎকাজে আদেশ করতে এবং অসৎকাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে স্বতঃস্ফূর্ত? এসব কাজে তোমার আগ্রহ আছে, না বিরক্তি, অনীহা ও উদাসীনতায় ডুবে রয়েছ?
১২. নফসকে জিজ্ঞাসা করুন, সে কি আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড়ো উপায় রোজা পালনে ব্রতী? বিশেষ করে সপ্তাহের দুইদিন, বৃহস্পতি ও সোমবারে?
১৩. বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যখন মিলিত হয়, গল্প হয়, আড্ডা হয়, তখন নফসকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। তখন কি তাদের সঙ্গে শুধুই খোশগল্পে মেতে থাকে, না তাদেরকে ভালো কাজের শিক্ষা দেয় এবং যে ইলম নিজে অর্জন করেছে তা তাদের মাঝেও বিস্তার করতে সচেষ্ট হয়?
১৪. কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, খোঁজখবর নেয়া এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা ও দুআ করা সুন্নত। নফসকে জিজ্ঞাসা করুন, সে এসব কাজে আগ্রহী কি-না?
১৫. অর্থবিত্তের অধিকারী নফসকে জিজ্ঞাসা করুন, সে এই সম্পদগুলো শুধু ভোগবিলাস ও সন্তানদের সুখের জন্য গচ্ছিত রেখে যেতে ইচ্ছুক, না মৃত্যুর পূর্বেই এই সম্পদ থেকে কিছু ব্যয় করে হজ-উমরা পালনেরও আগ্রহ পোষণ করে?
১৬. মুসলমানের অন্তর আনন্দিত যাতে হয়, যা দ্বারা তার দুশ্চিন্তা ও পেরেশান দূর হয়—এ ধরনের কোনো কাজে নফসের আগ্রহ কতটুকু, এও জিজ্ঞাসা করুন।
১৭. পাপী ও খারাপ লোকের সংস্রব ত্যাগ করতে সে কতটুকু আগ্রহী, না এদের নিয়েও মৌজে থাকতে সে ভালোবাসে?
১৮. ওজুর সময় মেসওয়াক করতে তার তৎপরতা কতটুকু? মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা আর মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সে কতটুকু অগ্রগামী?
১৯. ঘুমের আগে সারাদিনের কাজের হিসাব করা হলো কি-না, করা হলে ভালো কাজের সংখ্যা বেশি না মন্দ কাজের সংখ্যা বেশি? সংখ্যা অনুযায়ী করণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি-না? ঘুমানোর আগে অন্তর থেকে সকল প্রকার হিংসা ও বিদ্বেষ বের হয়ে গেছে কি-না—সে কথাও তাকে জিজ্ঞাসা করুন।
২০. প্রকাশ্য ও গোপন সকল অবস্থায় অন্তর আল্লাহকে ভয় করে কি-না এবং সকল কাজ একমাত্র তাঁর জন্যই সম্পাদন করে কি-না, তা জিজ্ঞাসা করুন।
২১. নবীজির সুপারিশ পাওয়ার আশায় মুয়াজ্জিন যখন আজান দেয় তখন তার জবাব দেয়ার প্রতি আগ্রহ থাকে কি-না, তা জিজ্ঞাসা করুন।
২২. অহেতুক কথা, অহেতুক কাজ, অপ্রয়োজনীয় পানাহার, কুদৃষ্টি, হাসাহাসি থেকে বিরত থাকে কি-না, জিজ্ঞাসা করুন।
২৩. জবানকে সকল প্রকার পাপকাজ, বিশেষ করে গিবত থেকে বিরত রাখতে পছন্দ হয় কি-না?
২৪. দৃষ্টিকে অবনত রাখা ও কর্ণদ্বয়কে হারাম শ্রবণ থেকে বিরত রাখে কি-না, এটাও জিজ্ঞাসা করুন।
২৫. দীনের ওপর অটল-অবিচল থাকা, জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নام থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা হয় কি-না?
২৬. ইসলামের দৌলত লাভ এবং ধন-দৌলত, স্ত্রী-পরিবার, সুস্থতা ইত্যাদি নেয়ামত লাভের পর এর জন্য আল্লাহর হামদ আদায় করা হয় কি- না এবং সর্বদা হামদ আদায় করার গুরুত্ব অন্তরে অনুভূত হয় কি-না?
২৭. নিজের প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা ও তাওয়াক্কুল করা হয় কি-না?
২৮. অন্যের অনুপস্থিতিতে দুআ করলে দুআ কবুল হয়। সুতরাং মুসলমানের কল্যাণকামিতা হিসেবে তার জন্য এভাবে দুআ করা হয় কি-না?
২৯. বিপদে পতিত হলে একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় কি-না এবং মানুষের কাছে কোনো শেকায়েত, অভিযোগ পেশ কিংবা তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা থেকে নিবৃত্ত থাকা হয় কি-না?
৩০. আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিজগৎ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা ও তাঁর অসীম কুদরত নিয়ে গবেষণা ও ফিকির করার সুযোগ হয় কি-না?
নিজের নফসের কাছে আমরা এই ত্রিশটি প্রশ্নের উত্তর চাই। যদি প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাই, ইসলামের অনুকূলে উত্তর পাই এবং বাস্তব জীবনে উত্তরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাই, তাহলে খুবই ভালো কথা। বুঝতে হবে নফস আমার অনুগত হয়েছে। নফসের লাগাম এখন আমার হাতে। আমি তাকে পরিচালিত করছি, আমি তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছি না। কিন্তু যদি এর বিপরীত উত্তর পাই, তাহলে বুঝতে হবে, আমি নিজেই নফসের গোলাম হয়ে গেছি। আমার নাকে রশি লাগিয়ে নফস আমাকে তার খেয়াল-খুশিমতো ব্যবহার করছে। তাই এই শোচনীয় অবস্থায় সতর্ক হই। দ্রুত সংশোধন করে ফেলি নিজের নফসকে।