📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজেকে জান্নাতের অযোগ্য মনে করা

📄 নিজেকে জান্নাতের অযোগ্য মনে করা


১৪৪. কায়স ইবনে আম্বারি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি সাখর ইবনে আবু সাখর রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমের ইবনে আব্দুল্লাহ নিজের নফসের সমালোচনা করে বলতেন, 'আমি কি জান্নাতি হব? আমি কি জান্নাতবাসীদের একজন হতে পারি? আমার মতো ব্যক্তি কি জান্নাতে প্রবেশ করার যোগ্যতা রাখে?' এ কথা বলে বলে তিনি নিজেকে তিরস্কার করতেন।

বস্তুত নিজের আত্মার সমালোচনা করা যেমন প্রশংসনীয় গুণ, তেমনইভাবে বিনয় ও নম্রতাও অত্যন্ত প্রশংসনীয় গুণ। যে যত বিনয়ী হবে, সে তত আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারবে। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার জন্য বিনয়ী হবে, আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, আর যে অহংকারী হবে আল্লাহ তাআলা তাকে অপদস্থ করবেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আত্মাকে মসজিদ থেকে বের হতে বাধা প্রদান

📄 আত্মাকে মসজিদ থেকে বের হতে বাধা প্রদান


১৪৫. মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার জিয়াদ ইবনে আবু জিয়াদের পেছনে মসজিদে বসা ছিলাম। তিনি তখন নিজের নফসের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন। তিনি নিজেকে সম্বোধন করে বলছিলেন, এখানেই বসে থাকো। কোথায় যেতে চাও? মসজিদ থেকে যে বের হতে চাও, মসজিদের চেয়ে পৃথিবীর অন্য কোথাও কি ভালো কোনো স্থান আছে? তাহলে মসজিদ থেকে বের হতে চাও কেন? নাকি বের হয়ে অমুকের অমুকের সুন্দর ও প্রাসাদতুল্য বাড়ি দেখতে চাও? সেগুলোতে তোমার কী অধিকার আছে?
তিনি নফসকে সম্বোধন করে আরও বলতেন, হে আমার আত্মা! তোমার খাবার হিসেবে এই এক টুকরো রুটি এবং জয়তুন তেল ছাড়া আর কিছুই বরাদ্দ নেই। আর কাপড় হিসেবে এই পুরাতন ও তালিযুক্ত কাপড় জোড়া। ছাড়া আর কিছুই বরাদ্দ নেই। আর এই একজন বৃদ্ধা ছাড়া স্ত্রী হিসেবে ভিন্ন কোনো স্ত্রী নেই। সুতরাং এই উপকরণ নিয়ে যদি তুমি জীবন অতিবাহিত করতে চাও তবে ভালো, অন্যথায় তুমি মৃত্যুও কামনা করতে পারো! তখন আমার নফস বলল, আমি এই নিয়েই রাজি আছি!

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজের নফসের সঙ্গে বিস্বাদ খাবার নিয়ে ঝগড়া

📄 নিজের নফসের সঙ্গে বিস্বাদ খাবার নিয়ে ঝগড়া


১৪৬. সাহল ইবনে গালিজ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার আমের ইবনে সাব্বাহ রাহিমাহুল্লাহর সঙ্গে বিখ্যাত আবেদ ও বুজুর্গ বকর রাহিমাহুল্লাহর বাড়িতে গেলাম। তিনি সে সময় বাড়িতে একাই ছিলেন। অথচ আমরা তাকে কার সঙ্গে যেন কথোপকথন অবস্থায় পেলাম। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি বাড়িতে একা, অথচ কার সঙ্গে যেন কথা বলছিলেন? তিনি বললেন, আমি আমার আত্মার সঙ্গে কথোপকথন করছিলাম। প্রথমে তাকে ক্ষুধার্ত রাখলাম আর সে আমার কাছে খাবার চাইল। এক টুকরো রুটির ব্যবস্থা করে দিলাম। তখন সে সুস্বাদু লবণ চাইল। তখন আমি নফসকে বললাম, বকরিকে খাওয়ানোর মতো লবণ ছাড়া আমার কাছে ভিন্ন কোনো লবণ নেই। যদি চাও এটাই খেতে পারো, অন্যথায় আমার কাছে এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমার নফস এটা খেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তিনদিন না খেয়ে থাকে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 দুনিয়ায় হিসাব না নিলে আমলনামায় ছাড় নেই

📄 দুনিয়ায় হিসাব না নিলে আমলনামায় ছাড় নেই


১৪৭. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কেয়ামত দিবসে সেই সব লোকের হিসাব সহজ হবে, যারা দুনিয়াতে তাদের নিজেদের হিসাব গ্রহণ করত। আর কেয়ামত দিবসে তাদের বিষয়টি অতি কঠিন হবে, যারা নিজেদের নফসকে উন্মুক্ত ছেড়ে রেখেছিল। ফলে দুনিয়ার প্রতিটি কাজকর্মে তারা নফসকে স্বাধীন করে দিয়েছিল। কেয়ামত দিবসে এরা আল্লাহ তাআলাকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা দেখতে পাবে, আল্লাহ তাআলা তাদের আমলনামায় এক যাররা (অণু পরিমাণ) বস্তুর হিসেবেও তুলে রেখেছেন। এরপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:
مَا لِهَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00