📄 চোখের নিদ্রা ও বিন্দ্রার ক্ষমতা
১৪০. বিখ্যাত বুজুর্গ সুলায়মান তায়মি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, চোখে নিদ্রার ক্ষমতাও আছে আবার বিনিদ্রার সামর্থ্যও আছে। যদি তুমি তাহাজ্জুদ আদায় না করে তাকে নিদ্রার স্বভাবে অভ্যস্ত করো তবে নিদ্রাতেই অভ্যস্ত হবে। আর যদি বিনিদ্রার অভ্যাসে অভ্যস্থ করো তবে তাতেই সে অভ্যস্থ হবে। সুতরাং তুমি তাকে দ্বিতীয় গুণেই অভ্যস্থ করে তোলো।
📄 অন্তর ভালো কাজে সায় না দিলে কী করবেন?
১৪১. বিখ্যাত হাদিসবিশারদ, মুজাহিদ ও বুজুর্গ আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাদের পূর্বে যেসব নেককার ব্যক্তিগণ গত হয়েছেন, তারা তাদের অন্তরকে এভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলেছিলেন যে, তাদের অন্তর ভালো কাজে এমনিতেই সায় দিত এবং সমর্থন করত। পক্ষান্তরে আমাদের অন্তর কোনো ভালো কাজে জোর-জবরদস্তি ছাড়া সম্মতি দেয় না। ব্যস, যেহেতু জোর করা ছাড়া সম্মতি দেয় না, তাই জোর করেই তাদেরকে ইবাদতে নিয়োগ করতে হবে।
📄 ব্যভিদের বিরুদ্ধে নফসের অভিযোগ
১৪২. মালেক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে জনৈক শায়খ বলেছেন, তিনি নবীজির জমানা পেয়েছিলেন। তিনি একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবাগণের সামনে নসিহত পেশ করলেন। নসিহতে তিনি বললেন, হে লোকসকল! তোমরা কি নিজেদের নফসের প্রতি খেয়াল করে দেখেছ, এদেরকে যদি আজ তুমি সুখ দাও, তাদের কামনা অনুসারে পরিচালিত হও এবং এর চাহিদা পূরণ করে চলো, তবে কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলার সামনে এরা তোমাকে ভর্ৎসনা করবে, লাঞ্ছিত করবে এবং তোমার বিরুদ্ধে নালিশ দেবে। আর যদি এর বিরোধিতা করো, তার প্রতি কঠোরতা করো এবং সরল পথে পরিচালিত করো, তবে কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলার সামনে এরা তোমার প্রশংসা করবে। সুতরাং চিন্তা করো দেখো, এটাই তোমাদের প্রাণ, তোমাদের নফস। অতএব, তোমাদের নফসকে কীভাবে পরিচালিত করবে সেটা ভেবে দেখো।
📄 দেহকে জান্নাতে যাওয়ার বাহনে পরিণত করা
১৪৩. সুমাইত ইবনে আজলান রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে লোকসকল! আমি তো তোমাদের দেহগুলোকে একমাত্র জান্নাত বা জাহান্নামের বাহন বলেই মনে করি। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে নিয়োগ করো এবং দেহগুলোকে জান্নাতে যাওয়ার বাহনে পরিণত করো। জাহান্নামে যাওয়ার বাহনে পরিণত করো না।