📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহকে স্বপ্নে দর্শন ও জিজ্ঞাসা

📄 হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহকে স্বপ্নে দর্শন ও জিজ্ঞাসা


১৩১. আবু আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ তার পিতার সূত্রে বলেন, আমি হাম্মাদ ইবনে সালামা রাহিমাহুল্লাহকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তাআলা আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন?
তিনি জবাবে বললেন, দয়ার আচরণ করেছেন। আর আল্লাহ বলেছেন, দুনিয়ায় তুমি তোমার আত্মাকে সংকুচিত করেছ। সুতরাং আজ তোমাকে সুদীর্ঘ আরাম দান করা হলো। দুনিয়ায় ইবাদতে ক্লান্তদের জন্য কতই-না সুন্দর আরামদায়ক ব্যবস্থা!

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নফসকে অনুগত করলে শাহাদত অর্জনের সুযোগ

📄 নফসকে অনুগত করলে শাহাদত অর্জনের সুযোগ


১৩২. সাফওয়ান ইবনে মুহরিজ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমার নফস যদি আমার আনুগত্য করত, তবে আমি আমার শাহাদতের স্থান দেখতে সক্ষম হতাম।
অর্থাৎ মানুষের পরকালীন উন্নতির পথে সবচেয়ে বড়ো বাধা হলো তার কুপ্রবৃত্তি। আমরা দুনিয়ার সাফল্য অর্জনের জন্য নানা পরিকল্পনা করে থাকি, সাফল্য অর্জনের সহায়ক বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরি আর বাধা ও প্রতিবন্ধক বিষয়গুলো যত্নের সঙ্গে এড়িয়ে চলি এবং এভাবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার চেষ্টা করি। ঠিক তদ্রূপ আমাদের পরকালীন সাফল্য অর্জনের জন্যও আমাদের পথের সবচেয়ে বড়ো বাধা কী—তা নিরূপণ করতে হবে এবং তা দমন করতে হবে। আর কুরআন- হাদিস ও সালফে সালেহিনের বিবরণ অনুযায়ী মানুষের পরকালীন উন্নতির পথে সবচেয়ে বড়ো বাধা হলো শয়তান ও তার কুপ্রবৃত্তি। তাই এই দুটি অপশক্তিকে দমন করতে পারলেই মানুষ তার চিরকালীন শান্তির ঠিকানায় সহজে পৌঁছতে সক্ষম হবে। সাফওয়ান ইবনে মুহরিজ রাহিমাহুল্লাহ আলোচ্য বক্তব্যে এ কথাই তুলে ধরেছেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আবেদা নারীকে নিজ আত্মার প্রতি রহম করার পরামর্শ

📄 আবেদা নারীকে নিজ আত্মার প্রতি রহম করার পরামর্শ


১৩৩. হজরত জানজুলা রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন বিখ্যাত মহীয়সী নারী। ইবাদত-বন্দেগি ও তাকওয়া-পরহেজগারিতে তিনি ছিলেন অনন্য সমৃদ্ধ। ইবাদত-বন্দেগিতে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে, অন্যরা পর্যন্ত এসে তাকে নিজের ওপর করুণা করার পরামর্শ দিতেন। আহমাদ ইবনে সাহল উরদুনি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার কিছু আলেম এই বিখ্যাত আবেদা নারী হজরত জানজুলা রাহিমাহুল্লাহর কাছে গমন করে তাকে তার আত্মার প্রতি কিছুটা রহম করার পরামর্শ দিলেন। তিনি তাদের কথা শুনে বললেন, আমি আবার আমার আত্মাকে কষ্ট দিলাম কোথায়? জীবন তো কিছু ইবাদতে প্রতিযোগিতার সময়ের সমষ্টির নাম। যদি এই প্রতিযোগিতার সময়ের কিছু অংশ কেউ হারিয়ে ফেলে, তবে আগামীকাল সে এই সময় আর ফিরে পাবে না। হে আমার ভাইয়েরা! আমি আল্লাহ তাআলার জন্য নামাজ আদায় করি, যা আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সামর্থ্যের তুলনায় কম। আমি তাঁর জন্য রোজা রাখি সারা জীবন, সেটাও আমার সাধ্যানুযায়ী। আর আমি ক্রন্দন করি সেই পরিমাণ, চোখ যে পরিমাণ অশ্রু প্রবাহিত করার সাধ্য রাখে। এরপর তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যিনি তার গোলামকে কোনো কাজের আদেশ করে মনে মনে সে কাজে কসুর করুক—তা কামনা করবে?
নিশ্চয় নয়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমাকে ইবাদতের আদেশ করেছেন, নিজের নফসকে দমন করার আদেশ করেছেন, অতএব আমার মুনিব আমাক যে কাজের আদেশ করেছেন আমি সেই কাজে কসুর ও ত্রুটি করব কেন?

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 অধিক কান্নার কারণে স্ত্রীর অভিযোগ

📄 অধিক কান্নার কারণে স্ত্রীর অভিযোগ


১৩৪. আবু উবায়দা সাররার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আতা সালিমি রাহিমাহুল্লাহ অত্যধিক পরিমাণ ক্রন্দন করতেন। তার ক্রন্দনে পরিবারের লোকেরাও তার প্রতি দয়ার্দ্র হয়ে উঠত। একদিন তার স্ত্রী আমাকে বললেন, আপনি আতা রাহিমাহুল্লাহকে অধিক কান্নার ব্যাপারে কিছু একটা বলুন।
তার কথায় আমি আতা সালিমি রাহিমাহুল্লাহকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাইলে তিনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, হে সাররার! আমাকে সেই কাজের জন্য কেন তিরস্কার করছ, যে কাজের নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই? আমি জাহান্নামিদের কথা স্মরণ করি, জাহান্নামিদের ওপর যে মহা আজাব নাজিল হবে সে কথাও স্মরণ করি। ফলে কখনো কখনো নিজেকে জাহান্নামিদের কাতারে শামিল করে তাদের যে আজাব হবে সেই আজাব আমার ওপর হওয়ার কল্পনা করি। আর এতেই আমার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। আমি আজাবের ভয়ে ক্রন্দন করি।
কখনো কখনো নিজেকে জাহান্নামিদের কাতারে রেখে এভাবে কল্পনা করি যে, আমার হাত কাঁধের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা হয়েছে। অতঃপর তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে। হে সাররার! এমন ব্যক্তির কথা মনে পড়লে কি তোমার কান্না আসত না? তুমি চিৎকার করতে না? যে ব্যক্তি এমন ভয়াবহ আজাবের সম্মুখীন হয়েছে, সে ব্যক্তি কি ক্রন্দন করবে না, চুপ করে বসে থাকবে? তাহলে আমাকে তিরস্কার করছ কেন, আমি তো নিজের পাপের কারণে নিজেকে এমন অপরাধী বলেই মনে করি! হে সাররার! হে সাররার! আল্লাহ যদি কারও প্রতি রহম না করেন, তবে অল্প ক্রন্দনকারী ব্যক্তির পরিবার তার কোনোই কাজে আসবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00