📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আইয়ুব আলাইহিস সালামের ব্যাপারে ইবলিসের ভাবনা

📄 আইয়ুব আলাইহিস সালামের ব্যাপারে ইবলিসের ভাবনা


১২৬. জুবায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, অভিশপ্ত ইবলিস বলত, আমি আইয়ুব আলাইহিস সালামের বিপদে পতিত হওয়ার পরও তার কোনো কাজে খুশি হতে পারতাম না। তবে একটি বিষয়ে খুশি হতাম। তা হলো, যখনই আমি তার ক্রন্দন শুনতাম, তখনই বিশ্বাস হতো, আমি তার কাছে পৌঁছতে পারব।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সালেহ মুররি রাহিমাহুল্লাহর দুআ

📄 সালেহ মুররি রাহিমাহুল্লাহর দুআ


১২৭. সালেহ আল-মুররি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে এমন সংক্রমণ দিন, যার পর আর পাপ বাকি থাকবে না। আমরা তো শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করি এবং শারীরিক সুস্থতাকে জীবনের সবচেয়ে বড়ো সৌভাগ্য মনে করি, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানীগণ এবং পরকালের পথিকগণ কামনা করতেন মনের সুস্থতা। আর মনের সুস্থতা হলো সকল প্রকার কপটতা, অসাধুতা, অসততা ও পাপের চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া। তাই এই বুজুর্গ প্রার্থনা করেছেন যে, মানসিক পেরেশানি, দুশ্চিন্তা, ইহকালীন ভয়ভীতি – এ জাতীয় সমস্যা দিয়ে আমাদের অন্তরকে শায়েস্তা করুন এবং পাপ থেকে মুক্ত করুন। যাতে দুনিয়া থেকেই আমরা মানসিক শুদ্ধতা নিয়ে বিদায় গ্রহণ করতে পারি এবং আপনার সামনে পরিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে হাজির হতে পারি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আত্মসমালোচনায় ও পরকালের ভয়ে যুবক অন্ধ হয়ে গেল

📄 আত্মসমালোচনায় ও পরকালের ভয়ে যুবক অন্ধ হয়ে গেল


১২৮. সাদাকা ইবনে বকর বলেন, আমি কিলাব ইবনে জুরাই রাহিমাহুল্লাহর মুখে একটি ঘটনা শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি বায়তুল মুকাদ্দাসে একজন যুবকের সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম, অধিক ক্রন্দনের কারণে যে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে বললাম, হে যুবক! এত কান্নাকাটি করলে চোখ কতদিনই-বা ভালো থাকবে?
আমার কথায় যুবক পুনরায় ক্রন্দন শুরু করল এবং বলল, আমার রব যতদিন চান ততদিন ক্রন্দন করব। আর আমার মুনিব যতদিন চাইবেন ততদিন চোখ ভালো থাকবে, আর যখন চাইবেন তখন চোখের আলো নিভে যাবে। আমার চোখ তো আমার দেহের চেয়ে দামি নয়। অথচ যদি আমি চোখ দিয়ে ক্রন্দন না করি তবে কেয়ামত দিবসে আমার এই দেহ আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। আমি তো ক্রন্দন করি পরকালের স্থায়ী আনন্দ লাভের জন্য। আল্লাহর কসম! কেয়ামত হলো হয়তো চিরস্থায়ী বেদনা ও দুশ্চিন্তার জীবন অথবা চিরস্থায়ী আনন্দের জীবন। আর আমি তো এই চিরকালীন জীবন নিয়েই ভাবি। আমি আমার নফস ও আত্মার ত্রুটি ও দুর্বলতার কথা আল্লাহর নিকট স্বীকার করি। আর আমার সীমাহীন ত্রুটি ও দুর্বলতার কথাও স্বীকার করি।
এ কথা বলে যুবকটি আবার ক্রন্দন করতে শুরু করল এবং ক্রন্দন করতে করতে বেহুঁশ হয়ে গেল।
ইবনু আবিদ দুনিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা জাওযি রাহিমাহুল্লাহ এই প্রসঙ্গে আমাকে একটি কবিতা শুনিয়েছেন। যা নিম্নরূপ:
'আমি ক্রন্দন করি, বস্তুত মৃত্যুর স্মরণই আমাকে ক্রন্দন করায়।
আমি আমার অশ্রুকে বলেছি, তুমি নির্গত হয়ে আমাকে ভাগ্যবান করো, ফলে সে আমাকে ভাগ্যবান করেছে।
আমি যদি পরকালীন দুশ্চিন্তার কথা স্মরণ করে মৃত্যুর আগে ক্রন্দনই না করি, তবে কে আমার জন্য ক্রন্দন করবে?
হে ওই ব্যক্তি! যার মৃত্যুচিন্তা তাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে না, তারা শুনে রেখো, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, সে-ই মৃত্যুর জন্য চিন্তিত হওয়া বেশি উপযুক্ত।
আমি কাপড় পরিধান করব, কিন্তু যুগের বন্ধ্যাত্ব তাকে জীর্ণ করে ছেঁড়া-ফাটা করে দেবে এবং ছিন্নভিন্ন করে দেবে।
আমি কার জন্য সম্পদ ফলদার করছি ও গচ্ছিত রাখছি?
যে থেকে যাবে আর আমি যার থেকে বিদায় গ্রহণ করব—তার জন্য?
আমি কি তার জন্য সম্পদ গচ্ছিত করে যাচ্ছি, যে আমার কবর খনন করবে এবং মাটির নিচে শায়িত করবে? আর আমার থুতনি ও গালের নিচে মাটি রেখে দেবে?'

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 প্রতাপশালী খলিফার পাশে আজ কেউ নেই

📄 প্রতাপশালী খলিফার পাশে আজ কেউ নেই


১২৯. মুহাম্মাদ ইবনে সাইদ দারেমি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, খলিফা সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিক মাঝে-মধ্যেই আয়নায় নিজের মুখ দেখতেন এবং বলতেন, আমি তো এখনো যুবক বাদশাহ!
এভাবে তিনি নিজের যৌবন ও রাজত্বের মোহে বিভোর থাকতেন। একদিন হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলেন এবং সেই জ্বরেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।
জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর এই জ্বর তার গোটা পরিবারে ছড়িয়ে পড়ল। তার সভাসদবর্গও একে একে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসঙ্গী হয়ে পড়ল।
এই অবস্থায় তিনি একদিন তার দাসীকে ডেকে ওজু করিয়ে দিতে বললেন। দাসী এসে তাকে ওজু করিয়ে দিতে লাগলেন। ওজু করাতে গিয়ে হঠাৎ তার হাত থেকে পানির পাত্রটা পড়ে গেল।
খলিফা অবাক হয়ে বললেন, কী হলো তোমার?
দাসী বলল, আমি জ্বরে আক্রান্ত। শরীর খুব দুর্বল।
খলিফা আরেকজন দাসীর নাম ধরে বললেন, তাহলে সে কোথায়?
'সেও জ্বরে পড়ে আছে।' দাসী বলল।
খলিফা আরেকজন দাসের নাম ধরে বললেন, সে কোথায়?
'সেও জ্বরে পড়ে আছে।' দাসী আবার জানাল।
এভাবে খলিফা বিভিন্নজনের নাম নিচ্ছিলেন আর দাসী একে একে সকলেই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী বলে তথ্য দিচ্ছিল।
তখন খলিফা বললেন, সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার জন্য, যিনি তার ভূমিতে এমন খলিফা দান করেছেন, যাকে ওজু করানোর মতোও আশেপাশে কেউ নেই।
এরপর পাশে থাকা মামা খালেদ ইবনে কাকাকে লক্ষ্য করে বললেন: হে ওয়ালিদ! নিজের ওজুর পানি নিজেই কাছে নিয়ে নাও। কেননা এই জীবন কেবলই নিজেকে নিয়ে ভাবার স্থান এবং ক্ষণিকের উপভোগ মাত্র।
জবাবে ওয়ালিদ বললেন, তুমি তোমার নিজের জন্য জীবদ্দশায় সৎকর্ম করো। কেননা যুগ এমন, যা কখনো মানুষকে একত্রিত করে (আর স্বার্থ ফুরালে) বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
এই ঘটনায় আলোচ্য ঘটনায় মানবজাতির এক চরম অসহায় অবস্থার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, দুনিয়াতেই এমন অবস্থা যে, সবাই অসুস্থ হওয়ার কারণে প্রতাপশালী একজন খলিফার সেবা করার মতো কাছে কেউ নেই। প্রতাপশালী একজন খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন, অথচ তাকে ওজুর সামান্য পানি এগিয়ে দেয়ার মতো কেউ নেই! দুনিয়াতেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে পরকালে যখন মহাবিপদ ঘনিয়ে আসবে, প্রত্যেক ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ভয়ে ভীষণ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় নিমজ্জিত থাকবে, তখন কী ভয়াবহ অবস্থা হবে? তখন কে কাকে সাহায্য করবে? এটা স্পষ্ট এবং কুরআনেরও ঘোষণা যে, কেউ কাউকে সাহায্য করবে না। তাই খলিফা নিজের জন্য আফসোস করছেন যে, আজ আমার মতো খলিফার পাশেও কেউ নেই! সবাই স্বার্থের জন্য একত্রিত হয়, স্বার্থ শেষ হয়ে গেলে এবং বিপদ টের পেলে একে একে কেটে পড়ে। তাই একমাত্র উপায় হলো নিজের আমল নিজে করে আল্লাহ তাআলার সামনে হাজির হওয়া। আর এর জন্য প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি, আত্মবিচার এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যথাযথভাবে কাজে লাগানো ও মূল্যায়ন করার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00