📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 বিপদাপদ দ্বারা আত্মার শাসন

📄 বিপদাপদ দ্বারা আত্মার শাসন


১২০. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি বিপদাপদ ও দুর্ভিক্ষের দিনগুলো না আসত, তবে কেউ কখনো নিজেদের নফসকে শাসন ও পরাস্ত করত না। বরং তাকে নিজের মতো করে ছেড়ে দিয়ে তার কামনা-বাসনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করত।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আত্মার দুর্বলতা ও সবলতা

📄 আত্মার দুর্বলতা ও সবলতা


১২১. কাতাদা রাযি. বলতেন, আত্মাকে যখন তুমি প্রশিক্ষণ দেবে তখন তার চেয়ে অনুগত আর কিছু দেখবে না। আর যখন প্রশিক্ষণ ছাড়া তাকে নিজের মতো চলতে দেবে, তখন (তোমার আদেশ পালনে) তার মতো দুর্বল ও অবাধ্য আর কাউকে দেখবে না।
প্রতিটি বস্তু থেকে উপকৃত হতে হলে তাকে গড়িয়ে নিতে হয়, দক্ষ করে গড়ে তুলতে হয় এবং প্রশিক্ষিত করে নিতে হয়। আর মানবজাতির সবচেয়ে বড়ো বাহন হলো তার নিজের প্রাণ ও প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি থেকে উপকৃত হতে চাইলে তাকে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করে তোলার বিকল্প নেই। নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করা ছাড়া কখনই এর দ্বারা পরকালীন সাফল্য অর্জন করা কঠিন। এ কারণেই কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ যার যার নফসকে পরকালীন কল্যাণে নিয়োগ করার সুবিধার্থে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সন্তানের বিরামহীন ইবাদত-বন্দেগিতে মায়ের দুশ্চিন্তা

📄 সন্তানের বিরামহীন ইবাদত-বন্দেগিতে মায়ের দুশ্চিন্তা


১২২. মুহাম্মাদ ইবনে কাব কুরাজি রাহিমাহুল্লাহর মা তাকে একদিন বললেন, হে পুত্র! তোমার নিষ্কলঙ্ক বাল্যকাল ও নিষ্কলঙ্ক যৌবনকাল আমার সামনে স্পষ্ট। যদি তোমার জীবনের নিষ্কলঙ্কতা আমার সামনে স্পষ্ট না থাকত তবে আমি মনে করতাম, হয়তো তুমি ধ্বংসকারী কোনো পাপ করেছ। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও তুমি দিন-রাত প্রতিনিয়ত ইবাদতে লিপ্ত থাকো এবং অনবরত ক্রন্দন করতে থাকো কেন?
জবাবে মুহাম্মদ ইবনে কাব রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হে আম্মাজান! আমি কীভাবে নিশ্চিত হব যে, আমি ভুলক্রমে কোনো অন্যায় করিনি এবং আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে অবগত নন? আর তিনি সে কারণে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না এবং তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে বলবেন না যে, তুমি আমার রহমত থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে যাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করব না?
তা ছাড়া কুরআনের বিস্ময়কর সব বিষয় আমাকে এমনভাবে চিন্তায় নিমগ্ন করে যে, রাত শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবু আমার দুশ্চিন্তা শেষ হয় না। এভাবে আমি আমার রাত-দিন অতিবাহিত করতে বাধ্য হই।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 হাসান ইবনে আলী রাযি.-এর নিজ নফসের মূল্যায়ন

📄 হাসান ইবনে আলী রাযি.-এর নিজ নফসের মূল্যায়ন


১২৩. রাকাবা ইবনে মাসকালা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হাসান ইবনে আলী রাযি.-এর সামনে মৃত্যু হাজির হলে তিনি বললেন, আমার বিছানাপত্র বাইরের আঙিনায় বের করে দাও।
আদেশ মোতাবেক বিছানাপত্র ঘরের বাইরে আঙিনায় বের করে দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সোপর্দ করছি। আর আমার নফসের চেয়ে অন্য কারও দ্বারা বেশি বিপদে পতিত হইনি। হে আল্লাহ! আমার কবরে রহমত বর্ষণ করুন, কবরের একাকিত্বকে আপনার রহমত দ্বারা দূর করে দিন, আমার পদস্খলনগুলোকে ক্ষমা করে দিন, হে আরহামার রাহিমিন!
এমন মনীষীগণ যদি নিজেদের ব্যাপারে এতটা কঠোর হন এবং সর্বোচ্চ বিনয়ী হয়ে আল্লাহ তাআলার ক্ষমাভিক্ষা করেন, তবে আমাদের মতো অতি সাধারণ ও গোনাহগারদের কী পরিমাণ অনুশোচনা, বিনয় ও একাগ্রতা পোষণ করা উচিত? এই প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছেই পেশ করা উচিত এবং নিজেদের জীবনের মূল্যায়ন নিজেদেরই করা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00