📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 শয়তান যখন মুমিনকে দেখে পালায়

📄 শয়তান যখন মুমিনকে দেখে পালায়


১১৯. আবুল হাজ্জাজ মাহদি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, যে ব্যক্তি তার কুপ্রবৃত্তিকে তার পায়ের নিচে পিষ্ট ও পদদলিত করতে সক্ষম হবে, শয়তান তার ছায়া দেখে ভয়ে পালিয়ে যাবে।
এই বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, শয়তান সরাসরি মানুষকে ক্ষতি করতে পারে না, ক্ষতি করে নফসের সহযোগিতা গ্রহণ করে। কেননা শয়তান সর্বপ্রথম মানুষের নফসের ওপর তার কুমন্ত্রণার জাল বিস্তার করে। আর নফস শয়তান দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। এ কারণে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলে শয়তানের চাল ও চক্রান্ত থেকেও সহজে বাঁচা সম্ভব।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 বিপদাপদ দ্বারা আত্মার শাসন

📄 বিপদাপদ দ্বারা আত্মার শাসন


১২০. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি বিপদাপদ ও দুর্ভিক্ষের দিনগুলো না আসত, তবে কেউ কখনো নিজেদের নফসকে শাসন ও পরাস্ত করত না। বরং তাকে নিজের মতো করে ছেড়ে দিয়ে তার কামনা-বাসনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করত।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আত্মার দুর্বলতা ও সবলতা

📄 আত্মার দুর্বলতা ও সবলতা


১২১. কাতাদা রাযি. বলতেন, আত্মাকে যখন তুমি প্রশিক্ষণ দেবে তখন তার চেয়ে অনুগত আর কিছু দেখবে না। আর যখন প্রশিক্ষণ ছাড়া তাকে নিজের মতো চলতে দেবে, তখন (তোমার আদেশ পালনে) তার মতো দুর্বল ও অবাধ্য আর কাউকে দেখবে না।
প্রতিটি বস্তু থেকে উপকৃত হতে হলে তাকে গড়িয়ে নিতে হয়, দক্ষ করে গড়ে তুলতে হয় এবং প্রশিক্ষিত করে নিতে হয়। আর মানবজাতির সবচেয়ে বড়ো বাহন হলো তার নিজের প্রাণ ও প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি থেকে উপকৃত হতে চাইলে তাকে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করে তোলার বিকল্প নেই। নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করা ছাড়া কখনই এর দ্বারা পরকালীন সাফল্য অর্জন করা কঠিন। এ কারণেই কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ যার যার নফসকে পরকালীন কল্যাণে নিয়োগ করার সুবিধার্থে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সন্তানের বিরামহীন ইবাদত-বন্দেগিতে মায়ের দুশ্চিন্তা

📄 সন্তানের বিরামহীন ইবাদত-বন্দেগিতে মায়ের দুশ্চিন্তা


১২২. মুহাম্মাদ ইবনে কাব কুরাজি রাহিমাহুল্লাহর মা তাকে একদিন বললেন, হে পুত্র! তোমার নিষ্কলঙ্ক বাল্যকাল ও নিষ্কলঙ্ক যৌবনকাল আমার সামনে স্পষ্ট। যদি তোমার জীবনের নিষ্কলঙ্কতা আমার সামনে স্পষ্ট না থাকত তবে আমি মনে করতাম, হয়তো তুমি ধ্বংসকারী কোনো পাপ করেছ। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও তুমি দিন-রাত প্রতিনিয়ত ইবাদতে লিপ্ত থাকো এবং অনবরত ক্রন্দন করতে থাকো কেন?
জবাবে মুহাম্মদ ইবনে কাব রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হে আম্মাজান! আমি কীভাবে নিশ্চিত হব যে, আমি ভুলক্রমে কোনো অন্যায় করিনি এবং আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে অবগত নন? আর তিনি সে কারণে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না এবং তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে বলবেন না যে, তুমি আমার রহমত থেকে বিতাড়িত হয়ে চলে যাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করব না?
তা ছাড়া কুরআনের বিস্ময়কর সব বিষয় আমাকে এমনভাবে চিন্তায় নিমগ্ন করে যে, রাত শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবু আমার দুশ্চিন্তা শেষ হয় না। এভাবে আমি আমার রাত-দিন অতিবাহিত করতে বাধ্য হই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00