📄 ইফতারের মাত্র একদিন খেজুর খাওয়ার কারণে অনুশোচনা
১১৮. ওয়ালিদ ইবনে উকবা বলেন, দাউদ তাঈ রাহিমাহুল্লাহ নিয়মিত নফল রোজা রাখতেন। তার জন্য ষাটটি রুটি বানানো হতো। কিন্তু তিনি সেখান থেকে মাত্র দুটি রুটি নিয়ে কিছু লবণ ও পানি দিয়ে ইফতার করতেন। একদিন ইফতারের সময় তিনি ইফতার সামগ্রীর দিকে তাকালেন। তখন তার দাসী তার কাছেই ছিল। সে এই দৃশ্য দেখে ভাবল, তিনি হয়তো অন্য কিছু দিয়ে আজ ইফতার করতে চাচ্ছেন। তাই সে উঠে গিয়ে পেয়ালায় করে কিছু খেজুর এনে তার সামনে পেশ করল। তিনি সেই খেজুর খেয়ে ইফতার করলেন।
পরের দিন আবার রোজা রাখলেন। রোজা শেষে যখন ইফতার করতে বসলেন, তখন তিনি আগের মতোই রুটি, লবণ ও পানি নিয়ে বসলেন। আর সে সময় তিনি নিজের আত্মাকে সম্বোধন করে বলছিলেন, হে আত্মা! গতকাল তুমি ইফতারে সুস্বাদু খেজুর ভক্ষণ করার আগ্রহ করেছিলে, আমি তোমার বাসনা পূর্ণ করেছি, আজ তুমি আবার খেজুর খেতে চাও? তোমাকে সেই সুযোগ দেয়া হবে না! দাউদ আলাইহিস সালাম সাওমে দাহর করতেন। অর্থাৎ নিয়মিত (একদিন করে বাদ দিয়ে) একটানা রোজা রাখতেন। কই, তিনি তো যতদিন দুনিয়ায় ছিলেন ততদিন খেজুর ভক্ষণ করেননি? তাহলে তুমি প্রতিদিন খেজুর ভক্ষণের আগ্রহ পোষণ করো কেন?
📄 শয়তান যখন মুমিনকে দেখে পালায়
১১৯. আবুল হাজ্জাজ মাহদি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, যে ব্যক্তি তার কুপ্রবৃত্তিকে তার পায়ের নিচে পিষ্ট ও পদদলিত করতে সক্ষম হবে, শয়তান তার ছায়া দেখে ভয়ে পালিয়ে যাবে।
এই বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, শয়তান সরাসরি মানুষকে ক্ষতি করতে পারে না, ক্ষতি করে নফসের সহযোগিতা গ্রহণ করে। কেননা শয়তান সর্বপ্রথম মানুষের নফসের ওপর তার কুমন্ত্রণার জাল বিস্তার করে। আর নফস শয়তান দ্বারা প্ররোচিত হয়ে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। এ কারণে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলে শয়তানের চাল ও চক্রান্ত থেকেও সহজে বাঁচা সম্ভব।
📄 বিপদাপদ দ্বারা আত্মার শাসন
১২০. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি বিপদাপদ ও দুর্ভিক্ষের দিনগুলো না আসত, তবে কেউ কখনো নিজেদের নফসকে শাসন ও পরাস্ত করত না। বরং তাকে নিজের মতো করে ছেড়ে দিয়ে তার কামনা-বাসনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করত।
📄 আত্মার দুর্বলতা ও সবলতা
১২১. কাতাদা রাযি. বলতেন, আত্মাকে যখন তুমি প্রশিক্ষণ দেবে তখন তার চেয়ে অনুগত আর কিছু দেখবে না। আর যখন প্রশিক্ষণ ছাড়া তাকে নিজের মতো চলতে দেবে, তখন (তোমার আদেশ পালনে) তার মতো দুর্বল ও অবাধ্য আর কাউকে দেখবে না।
প্রতিটি বস্তু থেকে উপকৃত হতে হলে তাকে গড়িয়ে নিতে হয়, দক্ষ করে গড়ে তুলতে হয় এবং প্রশিক্ষিত করে নিতে হয়। আর মানবজাতির সবচেয়ে বড়ো বাহন হলো তার নিজের প্রাণ ও প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তি থেকে উপকৃত হতে চাইলে তাকে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করে তোলার বিকল্প নেই। নিজের আত্মাকে শুদ্ধ করা ছাড়া কখনই এর দ্বারা পরকালীন সাফল্য অর্জন করা কঠিন। এ কারণেই কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ যার যার নফসকে পরকালীন কল্যাণে নিয়োগ করার সুবিধার্থে প্রশিক্ষিত ও দীক্ষিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।