📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সব হালাল বস্তুই গ্রহণ করা ঠিক নয়

📄 সব হালাল বস্তুই গ্রহণ করা ঠিক নয়


১১৪. উবাদা ইবনে কুলাইব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার ভাইয়ের কাছে একটি উপদেশ লিখে পাঠালেন। তিনি লিখলেন, আম্মা বা'দ, যে হালাল বস্তু মানুষকে হারামের নিকটবর্তী করে এবং আল্লাহ ও তোমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তুমি সেই হালাল বস্তুও পরিত্যাগ করার চেষ্টা করবে। কেননা যে ব্যক্তি পৃথিবীর সকল হালাল বস্তুই নির্বিঘ্নে গ্রহণ করে, তার অন্তর হারাম বস্তু গ্রহণের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 কামনা-বাসনা সৃষ্টির আশঙ্কায় বৈধ বস্তুও পরিত্যাগ করা

📄 কামনা-বাসনা সৃষ্টির আশঙ্কায় বৈধ বস্তুও পরিত্যাগ করা


১১৫. আবু শায়বা জুবায়দি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি আমার নফস নিয়ে আশঙ্কা করি। আবার আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার আশা রাখি। আর আমি সেই সব বৈধ বস্তুও পরিত্যাগ করা উত্তম মনে করি, যেসব বস্তু আমার অন্তরে কামনা-বাসনা ও উচ্চাভিলাস সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 অন্যের প্রতি কোমল নিজের প্রতি নিষ্ঠুর!

📄 অন্যের প্রতি কোমল নিজের প্রতি নিষ্ঠুর!


১১৬. ইয়াজিদ আর-রাকাশি রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে মানবসন্তান! তোমরা মানুষের প্রতি কোমল ও হৃদয়বান, কিন্তু নিজের প্রতি নিষ্ঠুর। তোমার কাছে তোমার আপনজনদের কারও মৃত্যুসংবাদ এলে তুমি ক্রন্দন করো, কিন্তু প্রতিদিন তোমরা এমন এমন কাজ করে তোমাদের নফসকে ধ্বংস করো ও মেরে ফেলো, যার কারণে নফসের মৃত্যুতে ক্রন্দন করা উচিত, কিন্তু তোমরা ক্রন্দন করো না। সুতরাং তুমি অন্যের প্রতি কোমল, তার মৃত্যুতে ক্রন্দন। করো বটে, কিন্তু নিজের প্রতিই নিষ্ঠুর, নিজের ধ্বংস হওয়াতেও ক্রন্দন করো না!
ইবনে আবিদ দুনিয়া রাহিমাহুল্লাহ এই মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, জনৈক কবি এ ধরনের ক্ষেত্রেই একটি চমৎকার কাব্য রচনা করেছেন। যথা:
فَيَبْكِي عَلَى مَيَّتٍ وَيَغْفِلُ نَفْسَهُ ... كَأَنَّ بِكَفَّيْهِ أَمَانًا مِنَ الرَّدَى
وَمَا الْمَيِّتُ الْمَقْبُورُ فِي صَدْرِ يَوْمِهِ ... أَحَقَّ بِأَنْ يَبْكِيَهُ مِنْ مَيِّتٍ غَدًا
'সে অন্যের মৃত্যুতে ক্রন্দন করে কিন্তু নিজের ব্যাপারে উদাসীন। যেন তার হাতের মুষ্টিতেই ধ্বংস থেকে মুক্তির নিরাপত্তা সনদ রয়েছে!'
দিনের শুরুভাগে যে মৃতকে কবরে শয়ন করানো হয়েছে, সে অধিক ক্রন্দনের যোগ্য নয়, অধিক ক্রন্দনের যোগ্য তো সেই ব্যক্তি, যাকে আগামীকাল দাফন করা হবে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সবচেয়ে বড়ো শাসক ও সুলতান কে?

📄 সবচেয়ে বড়ো শাসক ও সুলতান কে?


১১৭. সাইদ ইবনে সাখর দারেমি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জনৈক ব্যক্তিকে বলা হলো, আহনাফ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ কেমন ছিলেন, তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। জবাবে তিনি বললেন: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَعْظَمَ سُلْطَانًا عَلَى نَفْسِهِ مِنْهُ.
'নিজ আত্মার ওপর রাজত্বকারী তার চেয়ে বড়ো কোনো শাসক আমি আর কাউকে কখনো দেখিনি।'
অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ হবে শাসক, আর তার আত্মা বা নফস হবে তার অধীনস্ত প্রজা। একজন কঠোর ও সুশৃঙ্খল শাসক যেমন তার প্রজাদেরকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তেমনইভাবে সেই ব্যক্তি তার নফসের জন্য সবচেয়ে সফল শাসক, যিনি তার নফস ও প্রবৃত্তিকে কঠোরভাবে দমন করে নিজের অধীন করে রাখেন, নিজেকে প্রবৃত্তির অনুগামী হতে দেন না। আর আহনাফ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন এই ধরনের সবচেয়ে সফল ও কঠোর শাসক। আমি তার চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণকারী আর কাউকে দেখিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00