📄 কিয়ামত দিবসে দণ্ডায়মান থাকতে হবে ৫০ হাজার বছর
১০২. উসমান ইবনে জায়েদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কুরজ আল-জুরজানি রাহিমাহুল্লাহ ইবাদত-বন্দেগিতে অত্যধিক পরিমাণ ব্যস্ত থাকতেন। কেউ একজন তাকে এত ইবাদত করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত দিবসে মানুষকে কতদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, পঞ্চাশ হাজার বছর।
তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, তোমার জানামতে পৃথিবীর বয়স কত হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, সাত হাজার বছর।
তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেউ সাত বছর ইবাদত করেই কি কেয়ামত দিবসের পঞ্চাশ হাজার বছর দণ্ডায়মান থাকা থেকে নিরাপদ হয়ে গেল?
📄 অন্যের পাপকে ভয় করে অথচ নিজের ব্যাপারে উদাসীন
১০৩. মুহাম্মদ ইবনে জুফার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হজরত রবি ইবনে খায়সাম রাহিমাহুল্লাহর কাছে জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো। তিনি তখন বললেন:
مَا أَنَا عَنْ نَفْسِي بِرَاضٍ فَأَنْفَرِغُ مِنْهَا إِلَى ذَمِّ غَيْرِهَا إِنَّ الْعِبَادَ خَافُوا اللَّهَ عَلَى ذُنُوبِ غَيْرِهِمْ وَأَمِنُوهُ عَلَى ذُنُوبِ أَنْفُسِهِمْ.
'আমি নিজের ব্যাপারেই সন্তুষ্ট নই। সুতরাং নিজের চিন্তা না করে অন্যকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ কোথায়? আফসোস, আল্লাহর বান্দাগণ অন্যের পাপকে ভয় করে, অন্যের পাপের সমালোচনা করে, অথচ নিজের পাপের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে এবং নিজেকে পাপে জড়িত হওয়া ও আল্লাহর আজাবে পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে!'
📄 নিজেকে নিয়ে ক্রন্দন করা উচিত
১০৪. জাকারিয়া ইবনে আবু খালেদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমি জনৈক বুজুর্গকে তার ইবাদতগাহে এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলাম :
لِنَفْسِي أَبْكِي لَسْتُ أَبْكِي لِغَيْرِهَا لِنَفْسِي فِي نَفْسِي عَنِ النَّاسِ شَاغِلُ
'আমি নিজের নফসের জন্য ক্রন্দন করি, আমি অন্যের নফসের জন্য ক্রন্দন করি না।'
আমি মানুষকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার চেয়ে নিজেকে নিয়েই সদা ব্যস্ত থাকি।
জীবনে সাফল্য লাভের প্রধান চাবিকাঠিই হলো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা, নিজের দোষত্রুটি অনুসন্ধান করা ও অন্যের দোষত্রুটির ব্যাপারে অন্ধ হয়ে যাওয়া। যে যত নিজের দোষত্রুটির অনুসন্ধানী হবে, তার জীবন তত স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও বিশুদ্ধ হবে। এর বিপরীত যারা অন্যের দোষ নিয়ে পড়ে থাকবে, সে নিজের দোষ দেখা ও তা থেকে মুক্তি লাভের পথই খুঁজে পাবে না। ফলে না পারবে অন্যকে সংশোধন করতে, না পারবে নিজের জীবনকে পরিশুদ্ধ করতে। ফলে সে এক অন্ধকার জীবনে নিক্ষিপ্ত হবে। আর যখন দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করবে তখন চোখের সামনে পাহাড় পরিমাণ পাপরাশি দেখতে পাবে। তখন নিজেকে শোধরানোর জন্য আল্লাহর নিকট সময় প্রার্থনা করবে, কিন্তু সেই সময় আল্লাহ তাআলা কাউকেই দেন না। তাই জীবনের সন্ধ্যাবেলায় ভালো কিছু করার প্রত্যাশা না করে, জীবনের ভরদুপুরে ভালো কাজ করা চাই। আর ভালো কাজের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের দোষ-ত্রুটি ও অপূর্ণতা নিরূপণ করে আত্মশুদ্ধিতে নিমগ্ন হওয়া ও পরের দোষত্রুটি অনুসন্ধান থেকে নিবৃত্ত হওয়া।
📄 নিজের নফসকে সন্তুষ্ট করাতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি
১০৫. ইবনে আবু শুমায়লা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জনৈক ব্যক্তি খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান রাহিমাহুল্লাহর দরবারে উপস্থিত হলেন, যিনি তুখোর মেধাবী ও আরবি সাহিত্যের পণ্ডিত বলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। খলিফা তাকে বললেন, কিছু বলো।
জবাবে তিনি বললেন, কোন বিষয়ে কথা বলব? আমি জানি, বক্তা যে বিষয়েই কথা বলুক না কেন, এর দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে, প্রতিটি কথার হিসাব দিতে হবে। একমাত্র সেই কথা ব্যতীত, যা আল্লাহ তাআলার জন্য বলা হয়েছে।
তার কথা শুনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান কাঁদলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। লোকেরা তো কেবল অপরকে উপদেশই দিতে জানে।
লোকটি বললেন: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ لِلنَّاسِ فِي الْقِيَامَةِ جَوْلَةً لَا يَنْجُو مِنْ غُصَصِ مَرَارَتِهَا وَمُعَايَنَةِ الرَّدَى فِيهَا إِلَّا مَنْ أَرْضَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِسَخَطِ نَفْسِهِ.
'হে আমিরুল মুমিনিন! কেয়ামত দিবসে মানুষের ভীষণ ছোটাছুটি করতে থাকবে। সেদিনের ভয়াবহ দুশ্চিন্তা ও ক্ষতি থেকে একমাত্র তারাই রক্ষা পাবেন, যারা নিজেদের নফসকে অসন্তুষ্ট করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন।'
কথাগুলো শুনে খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান রাহিমাহুল্লাহ আবার ক্রন্দন করলেন এবং বললেন: لَا جَرَمَ لَأَجْعَلَنَّ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ مِثَالًا نُصْبَ عَيْنَيَّ مَا عِشْتُ أَبَدًا. 'তোমার এই কথাগুলো আমি আমার জীবদ্দশা পর্যন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে চোখের মণিকোঠায় লিখে রাখব।'