📄 আমরা যে জন্য সৃষ্ট হয়েছি
১০০. আব্দুল্লাহ ইবনে গালেব রাহিমাহুল্লাহ চাশতের নামাজ পড়তেন একশ রাকাত। এরপর নিজের আত্মাকে সম্বোধন করে বলতেন: لِهَذَا خُلِقْنَا وَبِهَذَا أُمِرْنَا وَيُوشِكُ. 'আমাদেরকে এই কারণেই সৃষ্টি করা হয়েছে, আমাদেরকে এই কাজেরই আদেশ করা হয়েছে।'
📄 নিজের সম্মান বৃদ্ধির অভিনব চেষ্টা
১০১. ইসমাইল ইবনে উমাইয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ রাহিমাহুল্লাহ অধিক পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন এবং নিয়মিত রোজা রাখতেন। এতে তার চেহারা হলুদবর্ণ হয়ে যেত। আলকামা রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, আপনি নিজেকে এত কষ্ট দেন কেন? জবাবে আসওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বললেন, এটি একটি সাধনার ক্ষেত্র। তোমরাও চেষ্টা-সাধনা অব্যাহত রাখো। তিনি আরও বলতেন, ব্যক্তির সম্মান হলো ইবাদত-বন্দেগিতে। তাই আমি ব্যক্তি-মর্যাদা বৃদ্ধিরই চেষ্টা করছি।
📄 কিয়ামত দিবসে দণ্ডায়মান থাকতে হবে ৫০ হাজার বছর
১০২. উসমান ইবনে জায়েদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কুরজ আল-জুরজানি রাহিমাহুল্লাহ ইবাদত-বন্দেগিতে অত্যধিক পরিমাণ ব্যস্ত থাকতেন। কেউ একজন তাকে এত ইবাদত করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত দিবসে মানুষকে কতদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, পঞ্চাশ হাজার বছর।
তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, তোমার জানামতে পৃথিবীর বয়স কত হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, সাত হাজার বছর।
তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেউ সাত বছর ইবাদত করেই কি কেয়ামত দিবসের পঞ্চাশ হাজার বছর দণ্ডায়মান থাকা থেকে নিরাপদ হয়ে গেল?
📄 অন্যের পাপকে ভয় করে অথচ নিজের ব্যাপারে উদাসীন
১০৩. মুহাম্মদ ইবনে জুফার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হজরত রবি ইবনে খায়সাম রাহিমাহুল্লাহর কাছে জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো। তিনি তখন বললেন:
مَا أَنَا عَنْ نَفْسِي بِرَاضٍ فَأَنْفَرِغُ مِنْهَا إِلَى ذَمِّ غَيْرِهَا إِنَّ الْعِبَادَ خَافُوا اللَّهَ عَلَى ذُنُوبِ غَيْرِهِمْ وَأَمِنُوهُ عَلَى ذُنُوبِ أَنْفُسِهِمْ.
'আমি নিজের ব্যাপারেই সন্তুষ্ট নই। সুতরাং নিজের চিন্তা না করে অন্যকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ কোথায়? আফসোস, আল্লাহর বান্দাগণ অন্যের পাপকে ভয় করে, অন্যের পাপের সমালোচনা করে, অথচ নিজের পাপের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন থাকে এবং নিজেকে পাপে জড়িত হওয়া ও আল্লাহর আজাবে পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে!'