📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আত্মাকে শায়েস্তা করতে প্রতিদিন ১০০০ রাকাত নফল আদায়

📄 আত্মাকে শায়েস্তা করতে প্রতিদিন ১০০০ রাকাত নফল আদায়


৯৯. মুআল্লা ইবনে জিয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমের ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ নিজের ওপর প্রতিদিন এক হাজার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা আবশ্যক করে নিয়েছিলেন। যখন আসর নামাজ আদায় করে বসতেন তখন দেখা যেত, দীর্ঘ কিয়ামের ফলে তার দুই পা ফুলে গেছে। তখন তিনি নিজেকে সম্বোধন করে বলতেন: 'হে আত্মা! তুমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছ, এ জন্যই সৃষ্ট হয়েছ, আর অচিরেই এই কষ্ট দূর হয়ে যাবে।'
তিনি নিজেকে সম্বোধন করে আরও বলতেন, হে সমস্ত অকল্যাণের উৎপত্তিস্থল! ওঠো, আমার রবের ইজ্জতের কসম, আমি তোমাকে উটের মতো হাঁকাব। ইবাদতে তোমাকে ব্যতিব্যস্ত রাখবই। তারপর ভূমিকে বৃষ্টির পানি থেকে বঞ্চিত রাখার কারণে যেভাবে শুষ্ক হয়ে যায়, আমি তোমাকে সেভাবেই শুষ্ক রাখার চেষ্টা করব। এরপর তোমাকে ভাজি করব, যেভাবে গরম চুলায় গমকে ভাজা হয়।
এরপর তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং বলতেন: اللَّهُمَّ إِنَّ النَّارَ قَدْ مَنَعَتْنِي مِنَ النَّوْمِ فَاغْفِرْ لِي. 'হে আল্লাহ! জাহান্নামের আগুন আমাকে নিদ্রা গমনে বাধা দেয়, আপনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।'
নেককার পূর্বসূরিগণ ও আমাদের মাঝে পার্থক্য এখানেই। আমরা মৃত্যুর পর সবকিছু নিজেদের চোখে দেখার পর সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করার অপেক্ষায় আছি। জাহান্নাম কত ভয়াবহ হবে আর জান্নাত কতটা সুখের জায়গা হবে, সে ব্যাপারে ভাসা ভাসা কিছু ধারণা পোষণ করি, আর মৃত্যুর পর পরকালে গিয়ে সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানার অপেক্ষায় আছি। অথচ আমাদের পূর্ববর্তী নেককারগণ দুনিয়াতে বসেই জান্নাত-জাহান্নামের প্রকৃত রূপ যেন অনুভব করতে পারতেন। তাই জাহান্নামের আগুন যেন দুনিয়াতেই তাদেরকে স্পর্শ করত, ফলে পাপকাজ থেকে দূরে থাকতেন। জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবনে যেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলার সঙ্গে দিদার লাভ করছেন, জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত ভোগ করছেন, স্বচ্ছ ঝরনাধারার মধ্যে অবগাহন করছেন- এসবও অনুভব করতে পারতেন। বস্তুত ঈমানের দৃঢ়তা, শক্তি ও অটলতার কারণে তারা পরকালীন জীবনের স্বাদ ও অনুভূতি দুনিয়াতে বসেই হাসিল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তারা দুআয় বলতে পারতেন, হে প্রভু! জাহান্নামের আগুন আমার নিদ্রা কেড়ে নিয়েছে, কবরের নিঃসঙ্গতা আমার বিশ্বাসের সুখ ছিনিয়ে নিয়েছে। আপনার সাক্ষাৎ লাভের বাসনা আমার যাবতীয় সুখ-সম্ভোগের বাসনা অর্থহীন করে দিয়েছে। তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে আপনার ক্ষমা ও সাক্ষাৎ দান করে ধন্য করুন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আমরা যে জন্য সৃষ্ট হয়েছি

📄 আমরা যে জন্য সৃষ্ট হয়েছি


১০০. আব্দুল্লাহ ইবনে গালেব রাহিমাহুল্লাহ চাশতের নামাজ পড়তেন একশ রাকাত। এরপর নিজের আত্মাকে সম্বোধন করে বলতেন: لِهَذَا خُلِقْنَا وَبِهَذَا أُمِرْنَا وَيُوشِكُ. 'আমাদেরকে এই কারণেই সৃষ্টি করা হয়েছে, আমাদেরকে এই কাজেরই আদেশ করা হয়েছে।'

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজের সম্মান বৃদ্ধির অভিনব চেষ্টা

📄 নিজের সম্মান বৃদ্ধির অভিনব চেষ্টা


১০১. ইসমাইল ইবনে উমাইয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ রাহিমাহুল্লাহ অধিক পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন এবং নিয়মিত রোজা রাখতেন। এতে তার চেহারা হলুদবর্ণ হয়ে যেত। আলকামা রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, আপনি নিজেকে এত কষ্ট দেন কেন? জবাবে আসওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বললেন, এটি একটি সাধনার ক্ষেত্র। তোমরাও চেষ্টা-সাধনা অব্যাহত রাখো। তিনি আরও বলতেন, ব্যক্তির সম্মান হলো ইবাদত-বন্দেগিতে। তাই আমি ব্যক্তি-মর্যাদা বৃদ্ধিরই চেষ্টা করছি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 কিয়ামত দিবসে দণ্ডায়মান থাকতে হবে ৫০ হাজার বছর

📄 কিয়ামত দিবসে দণ্ডায়মান থাকতে হবে ৫০ হাজার বছর


১০২. উসমান ইবনে জায়েদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কুরজ আল-জুরজানি রাহিমাহুল্লাহ ইবাদত-বন্দেগিতে অত্যধিক পরিমাণ ব্যস্ত থাকতেন। কেউ একজন তাকে এত ইবাদত করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, কেয়ামত দিবসে মানুষকে কতদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, পঞ্চাশ হাজার বছর।
তিনি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, তোমার জানামতে পৃথিবীর বয়স কত হবে?
লোকটি জবাবে বললেন, সাত হাজার বছর।
তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেউ সাত বছর ইবাদত করেই কি কেয়ামত দিবসের পঞ্চাশ হাজার বছর দণ্ডায়মান থাকা থেকে নিরাপদ হয়ে গেল?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00