📄 নিজেকে হত্যা করা
৯৫. ফুজায়েল ইবনে ইয়াজ রাহিমাহুল্লাহ কুরআনের নিম্নের আয়াত: وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ. 'তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংস করো না।'-এর ব্যাখ্যায় বলতেন, তোমরা নিজেদেরকে গাফেল রেখো না। এরপর তিনি বলতেন: 'যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে গাফেল হয়, সে নিজেকেই ধ্বংস ও হত্যা করে।' বস্তুত আমরা প্রতিনিয়ত নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে চলেছি, অথচ দোষারোপ করছি অন্যদেরকে। তাই নিজের ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষতি থেকে বাঁচতে সর্বপ্রথম মূল ও প্রকৃত শত্রু নির্ণয় করতে হবে। আর বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝতে পারেন, নিজের কুপ্রবৃত্তিই হলো মানুষের প্রথম ও প্রধান শত্রু। তাই ঘরের শত্রু ঘরে রেখে বাইরের দুর্বল শত্রুর পিছু ধাওয়া না করে, ঘরের শত্রুকে আগে শায়েস্তা করতে হবে।
📄 জিয়াজুনের ক্ষতি করা থেকে বাঁচুন
৯৬. সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, সালফে সালেহিনদের কোনো একজন তার বন্ধুবান্ধবদের কারও সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করে বললেন, হে ভাই! আল্লাহকে ভয় করো এবং যাকে তুমি মহব্বত করো যদি তার ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে চাও, তবে বিরত থাকো।
একজন ব্যক্তি তাকে বললেন, কেউ কি নিজের মহব্বতের মানুষের ক্ষতি করে? এটা তো কল্পনাতীত ব্যাপার!
তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ। তোমার প্রাণ হলো তোমার সবচেয়ে প্রিয় সত্তা। তুমি যদি আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করো, তবে তুমি তোমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিরই সর্বনাশ ও ক্ষতি করলে। সুতরাং এভাবে মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করে থাকে।
📄 সম্মানিত ও নিকৃষ্ট আত্মা
৯৭. ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আগের যুগে লোকদের মধ্যে এরূপ একটি কথার প্রচলন ছিল : 'আল্লাহর আনুগত্যকারী আত্মার চেয়ে সম্মানিত প্রিয় আর কোনো আত্মা নেই এবং আল্লাহর নাফরমানি করার মতো নিকৃষ্ট আত্মার চেয়ে আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট আর কোনো আত্মা নেই।'
📄 আত্মাকে নিবৃত্ত রাখাতেই প্রকৃত সৌন্দর্য
৯৮. শাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. জনৈক নারীকে নিম্নের কাব্যিক কথাগুলো বলতে শুনলেন : 'আমার আত্মা আমাকে আনন্দ ও সুস্বাদু বস্তুর দিকে আহ্বান করে। আমি বলি, তুমি তাড়াহুড়ো করেছ। আমি তোমার আহ্বানে কখনো সাড়া দেব না।'
উমর রাযি. তাকে পরে বললেন, তোমাকে তোমার প্রিয় বস্তু গ্রহণে কীসে বাধা দিয়েছিল?
মহিলা জবাবে বললেন, লজ্জা এবং নিজের সম্মানের চিন্তা।
খলিফা উমর রাযি. বললেন, লজ্জার কয়েক প্রকার সৌন্দর্য রয়েছে। যে ব্যক্তি লজ্জাবোধ রাখে, সে নিজেকে আড়ালে রাখে, যে আড়ালে রাখে সে তাকওয়া অর্জন করে আর যে তাকওয়া অর্জন করে সে জাহান্নাম থেকে বাঁচে।
অর্থাৎ লজ্জাবোধ ও আত্মাকে দমন করার মধ্যে রয়েছে মুসলমানের প্রকৃত সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যই মানুষকে চিরস্থায়ী কল্যাণের দিকে রাস্তা দেখায়। অপরদিকে যারা নিজেদের নফসের বাঁধন আলগা করে দেয়, তাদের আত্মা তাদেরকে কুপথে পরিচালিত করে এবং তারা নির্লজ্জ হয়ে যায়। তখন যে-কোনো ধরনের পাপাচারে লিপ্ত হওয়া সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়ে দাঁড়ায়।