📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সর্বদা ক্রন্দনই হলো পাপে জর্জরিত লোকের আসল অবস্থা!

📄 সর্বদা ক্রন্দনই হলো পাপে জর্জরিত লোকের আসল অবস্থা!


৯২. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর আত্মীয়। তিনি বলেন, আমি একবার রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর কাছে মসজিদে গিয়ে হাজির হলাম। তিনি তখন ভীষণ কাঁদছিলেন। আরেকদিন তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। তখনও দেখি তিনি কাঁদছেন। আরেকদিন আমি পাহাড়ে আরোহণ করলাম। দেখি তিনি সেখানে বসেও কাঁদছেন। তখন আমি বললাম, আপনি কি যুগ যুগ শুধু পাপ কাজই করেছেন যে, দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ক্রন্দন করেন? তিনি আমার প্রশ্ন শুনে আবার কাঁদলেন এবং বললেন, জাহান্নামে আজাবের ভয়ে আক্রান্ত এবং পাপের ভারে ন্যুজ ব্যক্তির এমনই হালত হওয়া উচিত।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আল্লাহর কাছে নফসের বিভ্রান্তির জন্য প্রার্থনা

📄 আল্লাহর কাছে নফসের বিভ্রান্তির জন্য প্রার্থনা


৯৩. মুহাম্মদ ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ দুআর সময় প্রায়ই বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নফসের কাছে এমন জিনিস চান, যা আমাদের সাধ্যে নেই। তাই আপনি আমাদের নফসকে দান করুন এমন যোগ্যতা, যা দ্বারা আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন। এরপর আপনি আপনার সন্তুষ্টির বিষয় আমাদের কাছ থেকে আদায় করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি সমস্ত বিষয়ে সামর্থ্যবান।
নফস যেহেতু মানুষের সবচেয়ে কঠিন ও সার্বক্ষণিক শত্রু, তাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার কাছেই নফসের ওপর বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা উচিত। এ কারণেই উল্লিখিত বুজুর্গ নিজের নফসের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। অতএব, আমাদেরও এরূপ আমল করা উচিত।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 উমর ইবনু আব্দুল আযিয রহ.-এর ক্রন্দন

📄 উমর ইবনু আব্দুল আযিয রহ.-এর ক্রন্দন


৯৪. আতা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ. মৃত্যুবরণ করার পর আমি একবার তার স্ত্রী ফাতেমা বিনতে আব্দুল মালেকের কাছে গেলাম এবং তাকে বললাম, হে আব্দুল মালেকের কন্যা! আপনি আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ. সম্পর্কে কিছু বলুন।

তিনি বললেন, হ্যাঁ। এটা তার সম্পর্কে কিছু বলার উপযুক্ত সময়। কারণ তিনি যদি জীবিত থাকতেন তাহলে কিছু বলতে পারতাম না।

এরপর তিনি বললেন, উমর ইবনে আব্দুল আযিয রহ. তার সময় ও দেহকে জনগণের জন্য ফারেগ করে নিয়েছিলেন। দিনের সারা দিন তিনি লোকদের জন্য ব্যয় করতেন। সন্ধ্যা নাগাদ রাষ্ট্রীয় সব কাজ শেষ না হলে রাতের বেলায় নিজের উপার্জনে ক্রয়কৃত তেলের বাতি চেয়ে নিয়ে তিনি সেই কাজ শেষ করতেন। এরপর রাতের দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। এরপর হাঁটু গেড়ে বসতেন, দুই হাতের মাঝে মাথা ধরে বসতেন। তখন তার দুই চোখ বেয়ে গালে অবিরাম ধারায় অশ্রু প্রবাহিত হতো। আর তিনি ভীষণ শব্দে চিৎকার করতেন। মাঝেমধ্যে আমি এত ভয় পেয়ে যেতাম যে, মনে হতে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন অথবা তার কলিজা ছিঁড়ে গেছে। এভাবে সারারাত করতে থাকতেন এবং সুবহে সাদিক হয়ে যেত।

এভাবে সারা রাত ক্রন্দন করতেন আর দিন শুরু করতেন রোজা দ্বারা। তখন আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতাম, হে আমিরুল মুমিনিন! গত রাতে আপনি এমন করেছেন কেন?

তিনি জবাবে বলতেন, তোমার জেনে কী হবে? তুমি তোমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকো আর আমাকে আমার মতো ব্যস্ত থাকতে দাও।

আমি বললাম, হয়তো জানতে পেরে আমিও উপদেশ গ্রহণ করতে পারতাম।

তিনি বললেন, তাহলে শোনো। আল্লাহ তাআলা আমাকে গোটা বিশ্বের মুসলমানদের দায়িত্ব দিয়েছেন। নারী-পুরুষ, সাদা-কালো, ছেলে-মেয়ে, শিশু-বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী, ধনী-গরিব, সকলের দায়িত্ব দান করেছেন। কেউ আমার দায়িত্বের অধীন থেকে বাইরে নয়। আমি এসব নাগরিকের অভাবী ব্যক্তিদের কথা মনে করি, ক্ষুধায় কাতর ফকির-মিসকিনের কথা মনে করি, স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন কারাবন্দি লোকগুলোর কথা মনে করি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হরেক কিসিমের অভাবী ও বিপদে পতিত লোকদের কথা স্মরণ করি, তখন নিশ্চিত হই যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে এদের প্রত্যেকের হক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের পক্ষ হয়ে আমার কাছে এসবের জবাব চাইবেন। তখন আমার ভীষণ ভয় হয় যে, হয়তো সেদিন আল্লাহ তাআলার কাছে আমার কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমার কোনো জবাবে সন্তুষ্ট হবেন না।

যখন এসব কথা ভাবি, তখন আমার খুবই ভয় হয়, নিজের অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে, অন্তর ভয়ে কাঁপতে থাকে। আর আমি যতই এসব নিয়ে ভাবি, ততই ভয় ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পায়। সুতরাং তুমি এবার এসব কথা থেকে ইচ্ছা করলে উপদেশ গ্রহণ করো অথবা আমাকে আমার মতো ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে মনোনিবেশ করো।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজেকে হত্যা করা

📄 নিজেকে হত্যা করা


৯৫. ফুজায়েল ইবনে ইয়াজ রাহিমাহুল্লাহ কুরআনের নিম্নের আয়াত: وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ. 'তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংস করো না।'-এর ব্যাখ্যায় বলতেন, তোমরা নিজেদেরকে গাফেল রেখো না। এরপর তিনি বলতেন: 'যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে গাফেল হয়, সে নিজেকেই ধ্বংস ও হত্যা করে।' বস্তুত আমরা প্রতিনিয়ত নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে চলেছি, অথচ দোষারোপ করছি অন্যদেরকে। তাই নিজের ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষতি থেকে বাঁচতে সর্বপ্রথম মূল ও প্রকৃত শত্রু নির্ণয় করতে হবে। আর বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝতে পারেন, নিজের কুপ্রবৃত্তিই হলো মানুষের প্রথম ও প্রধান শত্রু। তাই ঘরের শত্রু ঘরে রেখে বাইরের দুর্বল শত্রুর পিছু ধাওয়া না করে, ঘরের শত্রুকে আগে শায়েস্তা করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00