📄 সন্তানের ক্রন্দনে মায়ের দুশ্চিন্তা
৯০. জায়েদা ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মানসুর ইবনে মুতামির রাহিমাহুল্লাহকে যতবার দেখতাম ততবার মনে হতো, তিনি কোনো ভয়াবহ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি। আর তার মা তাকে বলতেন, হে পুত্র! তুমি তোমার নফসের সঙ্গে এত কঠোরতা কেন করো? সারা রাত ক্রন্দন করো, বিন্দুমাত্র অবসর হও না। হে বৎস! তোমার এই কাণ্ড দেখে কেউ ভাববে, তুমি বড়ো পাপ করেছ, হয়তো কাউকে হত্যা করেছ।
জবাবে মানসুর রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে আম্মাজান! আমি নিজে তো জানি আমি জীবনে কী করেছি।
📄 কবর দেখে নফসকে শাসন ও ক্রন্দন
৯১. হারেস ইবনে সাইদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন রাবাহ আল-কায়সি রাহিমাহুল্লাহ আমার হাত ধরে বললেন, হে হারেস! আসো আমরা আমাদের বিগত সময়ের কৃত পাপের জন্য ক্রন্দন করি। কেননা আমরা বড্ড খারাপ অবস্থায় আমাদের জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি।
এ কথা বলে তিনি আমার হাত ধরে কবরস্থানে নিয়ে গেলেন এবং কবর দেখেই চিৎকার করে বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
আমি তখন তার মাথার কাছে বসে পড়লাম এবং আমিও কাঁদতে শুরু করলাম। তিনি অনেকক্ষণ পর হুঁশ ফিরে পেলেন এবং আমাকে কাঁদতে দেখে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনার অবস্থা দেখে কাঁদছি। তিনি জবাবে বললেন, হায় আফসোস! হে হারেস! নিজের জন্য ক্রন্দন করো।
এরপর তিনি বললেন, হে আমার নফস! হে আমার নফস! এ কথা বলতে বলতে আবার বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
📄 সর্বদা ক্রন্দনই হলো পাপে জর্জরিত লোকের আসল অবস্থা!
৯২. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর আত্মীয়। তিনি বলেন, আমি একবার রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর কাছে মসজিদে গিয়ে হাজির হলাম। তিনি তখন ভীষণ কাঁদছিলেন। আরেকদিন তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। তখনও দেখি তিনি কাঁদছেন। আরেকদিন আমি পাহাড়ে আরোহণ করলাম। দেখি তিনি সেখানে বসেও কাঁদছেন। তখন আমি বললাম, আপনি কি যুগ যুগ শুধু পাপ কাজই করেছেন যে, দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ক্রন্দন করেন? তিনি আমার প্রশ্ন শুনে আবার কাঁদলেন এবং বললেন, জাহান্নামে আজাবের ভয়ে আক্রান্ত এবং পাপের ভারে ন্যুজ ব্যক্তির এমনই হালত হওয়া উচিত।
📄 আল্লাহর কাছে নফসের বিভ্রান্তির জন্য প্রার্থনা
৯৩. মুহাম্মদ ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ দুআর সময় প্রায়ই বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নফসের কাছে এমন জিনিস চান, যা আমাদের সাধ্যে নেই। তাই আপনি আমাদের নফসকে দান করুন এমন যোগ্যতা, যা দ্বারা আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন। এরপর আপনি আপনার সন্তুষ্টির বিষয় আমাদের কাছ থেকে আদায় করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি সমস্ত বিষয়ে সামর্থ্যবান।
নফস যেহেতু মানুষের সবচেয়ে কঠিন ও সার্বক্ষণিক শত্রু, তাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার কাছেই নফসের ওপর বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা উচিত। এ কারণেই উল্লিখিত বুজুর্গ নিজের নফসের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। অতএব, আমাদেরও এরূপ আমল করা উচিত।