📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 শিক্ষণীয় জীবনের দৃষ্টান্ত

📄 শিক্ষণীয় জীবনের দৃষ্টান্ত


৮৯. হাকাম ইবনে আবান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে জামরাদ আজরাক আদানি রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন আবেদ ও বুজুর্গ ব্যক্তি। তিনি সর্বদা নিজের আত্মাকে নিয়ে পেরেশানিতে থাকতেন এবং নিজেকে তিরস্কার করতেন। তিনি কবিতা আকারে বলতেন:
'হায়, লাগাতার ও বিরামহীন পাপের কারণে আমার ধ্বংস! যদি আমার হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ আমাকে ডাকেন, তখন কী হবে? ধ্বংস এবং চরম স্থায়ী ক্ষতি হবে, হায়! যদি আমি দুনিয়াতেই আমার নফস থেকে আমার অংশ বুঝে নিতাম!'

অর্থাৎ নফসকে অনুগত ও দলিত করে তার থেকে ইবাদত আদায় করা, আল্লাহ তাআলার হক আদায় করা এবং শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ করাই হলো নফস থেকে মানুষের অধিকার করার নাম। উক্ত বুজুর্গ তার এই কবিতায় এ কথাই বলেছেন যে, দুনিয়ায় যদি আমরা নফস থেকে আমাদের পাওনা গ্রহণ না করি, তবে কেয়ামত দিবসে আমাদেরকে স্থায়ী ও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সন্তানের ক্রন্দনে মায়ের দুশ্চিন্তা

📄 সন্তানের ক্রন্দনে মায়ের দুশ্চিন্তা


৯০. জায়েদা ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মানসুর ইবনে মুতামির রাহিমাহুল্লাহকে যতবার দেখতাম ততবার মনে হতো, তিনি কোনো ভয়াবহ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি। আর তার মা তাকে বলতেন, হে পুত্র! তুমি তোমার নফসের সঙ্গে এত কঠোরতা কেন করো? সারা রাত ক্রন্দন করো, বিন্দুমাত্র অবসর হও না। হে বৎস! তোমার এই কাণ্ড দেখে কেউ ভাববে, তুমি বড়ো পাপ করেছ, হয়তো কাউকে হত্যা করেছ।

জবাবে মানসুর রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে আম্মাজান! আমি নিজে তো জানি আমি জীবনে কী করেছি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 কবর দেখে নফসকে শাসন ও ক্রন্দন

📄 কবর দেখে নফসকে শাসন ও ক্রন্দন


৯১. হারেস ইবনে সাইদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন রাবাহ আল-কায়সি রাহিমাহুল্লাহ আমার হাত ধরে বললেন, হে হারেস! আসো আমরা আমাদের বিগত সময়ের কৃত পাপের জন্য ক্রন্দন করি। কেননা আমরা বড্ড খারাপ অবস্থায় আমাদের জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি।
এ কথা বলে তিনি আমার হাত ধরে কবরস্থানে নিয়ে গেলেন এবং কবর দেখেই চিৎকার করে বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
আমি তখন তার মাথার কাছে বসে পড়লাম এবং আমিও কাঁদতে শুরু করলাম। তিনি অনেকক্ষণ পর হুঁশ ফিরে পেলেন এবং আমাকে কাঁদতে দেখে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনার অবস্থা দেখে কাঁদছি। তিনি জবাবে বললেন, হায় আফসোস! হে হারেস! নিজের জন্য ক্রন্দন করো।
এরপর তিনি বললেন, হে আমার নফস! হে আমার নফস! এ কথা বলতে বলতে আবার বেহুঁশ হয়ে গেলেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সর্বদা ক্রন্দনই হলো পাপে জর্জরিত লোকের আসল অবস্থা!

📄 সর্বদা ক্রন্দনই হলো পাপে জর্জরিত লোকের আসল অবস্থা!


৯২. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর আত্মীয়। তিনি বলেন, আমি একবার রাবাহ রাহিমাহুল্লাহর কাছে মসজিদে গিয়ে হাজির হলাম। তিনি তখন ভীষণ কাঁদছিলেন। আরেকদিন তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। তখনও দেখি তিনি কাঁদছেন। আরেকদিন আমি পাহাড়ে আরোহণ করলাম। দেখি তিনি সেখানে বসেও কাঁদছেন। তখন আমি বললাম, আপনি কি যুগ যুগ শুধু পাপ কাজই করেছেন যে, দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ক্রন্দন করেন? তিনি আমার প্রশ্ন শুনে আবার কাঁদলেন এবং বললেন, জাহান্নামে আজাবের ভয়ে আক্রান্ত এবং পাপের ভারে ন্যুজ ব্যক্তির এমনই হালত হওয়া উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00