📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 যুবকের ক্রন্দনে সকলের ক্রন্দন

📄 যুবকের ক্রন্দনে সকলের ক্রন্দন


৮৮. বাহিম আল-ইজলি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাদের সঙ্গে একবার বনু মুররার একজন যুবক সমুদ্রপথের যাত্রায় জাহাজে সওয়ার হলো। সে ছিল গ্রামের বাসিন্দা। যুবকটি দিন-রাতের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করত। জাহাজের বাসিন্দারা তার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে বলল, হে যুবক! নিজের নফসের ওপর তো একটু রহম করো! জবাবে যুবক বলল, আগামী দিন আমাকে যে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়াতে হবে এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, এ থেকে বাঁচার জন্য তো আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ক্রন্দন করা উচিত। বর্ণনাকারী বলেন, যুবকের কথা শ্রবণ করে জাহাজের প্রতিটি ব্যক্তি ক্রন্দন শুরু করে দিল।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 শিক্ষণীয় জীবনের দৃষ্টান্ত

📄 শিক্ষণীয় জীবনের দৃষ্টান্ত


৮৯. হাকাম ইবনে আবান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে জামরাদ আজরাক আদানি রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন আবেদ ও বুজুর্গ ব্যক্তি। তিনি সর্বদা নিজের আত্মাকে নিয়ে পেরেশানিতে থাকতেন এবং নিজেকে তিরস্কার করতেন। তিনি কবিতা আকারে বলতেন:
'হায়, লাগাতার ও বিরামহীন পাপের কারণে আমার ধ্বংস! যদি আমার হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ আমাকে ডাকেন, তখন কী হবে? ধ্বংস এবং চরম স্থায়ী ক্ষতি হবে, হায়! যদি আমি দুনিয়াতেই আমার নফস থেকে আমার অংশ বুঝে নিতাম!'

অর্থাৎ নফসকে অনুগত ও দলিত করে তার থেকে ইবাদত আদায় করা, আল্লাহ তাআলার হক আদায় করা এবং শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ করাই হলো নফস থেকে মানুষের অধিকার করার নাম। উক্ত বুজুর্গ তার এই কবিতায় এ কথাই বলেছেন যে, দুনিয়ায় যদি আমরা নফস থেকে আমাদের পাওনা গ্রহণ না করি, তবে কেয়ামত দিবসে আমাদেরকে স্থায়ী ও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সন্তানের ক্রন্দনে মায়ের দুশ্চিন্তা

📄 সন্তানের ক্রন্দনে মায়ের দুশ্চিন্তা


৯০. জায়েদা ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মানসুর ইবনে মুতামির রাহিমাহুল্লাহকে যতবার দেখতাম ততবার মনে হতো, তিনি কোনো ভয়াবহ বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি। আর তার মা তাকে বলতেন, হে পুত্র! তুমি তোমার নফসের সঙ্গে এত কঠোরতা কেন করো? সারা রাত ক্রন্দন করো, বিন্দুমাত্র অবসর হও না। হে বৎস! তোমার এই কাণ্ড দেখে কেউ ভাববে, তুমি বড়ো পাপ করেছ, হয়তো কাউকে হত্যা করেছ।

জবাবে মানসুর রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে আম্মাজান! আমি নিজে তো জানি আমি জীবনে কী করেছি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 কবর দেখে নফসকে শাসন ও ক্রন্দন

📄 কবর দেখে নফসকে শাসন ও ক্রন্দন


৯১. হারেস ইবনে সাইদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন রাবাহ আল-কায়সি রাহিমাহুল্লাহ আমার হাত ধরে বললেন, হে হারেস! আসো আমরা আমাদের বিগত সময়ের কৃত পাপের জন্য ক্রন্দন করি। কেননা আমরা বড্ড খারাপ অবস্থায় আমাদের জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি।
এ কথা বলে তিনি আমার হাত ধরে কবরস্থানে নিয়ে গেলেন এবং কবর দেখেই চিৎকার করে বেহুঁশ হয়ে গেলেন।
আমি তখন তার মাথার কাছে বসে পড়লাম এবং আমিও কাঁদতে শুরু করলাম। তিনি অনেকক্ষণ পর হুঁশ ফিরে পেলেন এবং আমাকে কাঁদতে দেখে বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আপনার অবস্থা দেখে কাঁদছি। তিনি জবাবে বললেন, হায় আফসোস! হে হারেস! নিজের জন্য ক্রন্দন করো।
এরপর তিনি বললেন, হে আমার নফস! হে আমার নফস! এ কথা বলতে বলতে আবার বেহুঁশ হয়ে গেলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00