📄 আমল কবুল না হওয়ার ভয় ও আশঙ্কা
৮۲. আব্দুল আযিয রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি বুজুর্গানে কেরামকে দেখেছি, তারা নেك আমলে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতেন। যখন সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখে আমলের সর্বোচ্চ মাকামে পৌঁছতেন, তখন তাদের অন্তরে এমন ভয় ও দুশ্চিন্তা সওয়ার হতো যে, না জানি তা কবুল হবে, না প্রত্যাখ্যাত হবে। এভাবে তারা সদা নিজের আমলকে পর্যবেক্ষণে রাখতেন এবং সদা আত্ম-অনুশোচনায় ভুগতেন।
আর এটাই সুপথে পরিচালিত হওয়ার উত্তম মাধ্যম। নিজেকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া জীবন পরিচালিত করলে এই জীবন হবে কেবলই গ্লানিকর ও ব্যর্থতায় ঘেরা।
📄 ঈমান, আমল ও নফসের দৃষ্টান্ত
৮۳. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ঈমান হলো সেনাপতির মতো, আর আমল ড্রাইভারের মতো। আর মানুষের আত্মা এই দুয়ের মাঝে পলায়নপর। যদি সেনাপতি নেতৃত্ব দেয় কিন্তু ড্রাইভার বাহন না চালায় তবে কোনো কাজে আসবে না। আর যদি ড্রাইভার বাহন চালায় কিন্তু সেনাপতি নেতৃত্ব না দেয় তবু কোনো কাজে আসবে না। আর যদি উভয়ে যার যার কাজ করে তবে আত্মা তখন ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক আনুগত্য করবে এবং তখন আমল পবিত্র হবে।
📄 সৌভাগ্যের দিন বনাম দুর্ভাগ্যের দিন
৮৪. আবুদ দারদা রাযি. বলেন, যখন একজন কোনো প্রভাতে উপনীত হয়, তখন তার সামনে দুটি বিষয় হাজির হয়। তার কুপ্রবৃত্তি এবং তার আমল। যদি তার আমল তার কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হয়, তবে সেই দিনটি তার জন্য নিকৃষ্ট দিন। আর যদি কুপ্রবৃত্তি তার আমলের অনুগামী হয় তবে সেই দিনটি তার জন্য পরম সৌভাগ্যের দিন।
📄 কুপ্রবৃত্তি মানুষের কর্ম ও জ্ঞানের ওপর প্রবল হয়
৮৫. আবু ফাতেমা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আতা সুলামি রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, আমাদের নিকট এই সংবাদ এসেছে যে, মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও কামনা তার আমল ও জ্ঞানবুদ্ধির ওপর প্রবল হয়ে থাকে।
এর দ্বারা বোঝা গেল, কুপ্রবৃত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। তাই শক্তিশালী এই শত্রুকে দমন ও অনুগত করতে হলে প্রচেষ্টা ও যুদ্ধও শক্তিশালী হতে হবে, সহজে কিংবা হাল্কা শক্তি ব্যয় করে নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে বশীভূত করা যাবে না।