📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 কোনো মানুষই দুনিয়ায় নিশ্চিত নয়

📄 কোনো মানুষই দুনিয়ায় নিশ্চিত নয়


৮۱. আবু আইয়ুব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন আমাকে মালেক রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হে আবু আইয়ুব! তুমি তোমার আত্মাকে ভয় করো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করো। কেননা আমি দুনিয়ায় মুমিনের দুশ্চিন্তার পরিসমাপ্তি দেখি না। আল্লাহর কসম! কোনো মুমিন পরকালে হাসিখুশি নিয়ে উঠতে পারবে না। মুমিনের জীবনে দুটি বিষয় উপস্থিত। দুনিয়ার পেরেশানি ও পরকালের হতভাগ্যতা।
আমি তখন বললাম, আব্বাজান! মুমিন কেন হাসিমুখে নিয়ে পরকালে উঠতে পারবে না?
তিনি আমার প্রশ্নে অবাক হয়ে বললেন, কত মানুষ এমন হবে, যে মনে করবে যে, সে ভালো আমল নিয়ে উঠেছে, সে নৈকট্যের অধিকারী হয়েছে, সৎকর্ম করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
সুতরাং আত্মতৃপ্তি অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে, পক্ষান্তরে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিচার মঙ্গলের দিকে পরিচালিত করে এবং নেককাজে অনুপ্রাণিত করে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 আমল কবুল না হওয়ার ভয় ও আশঙ্কা

📄 আমল কবুল না হওয়ার ভয় ও আশঙ্কা


৮۲. আব্দুল আযিয রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি বুজুর্গানে কেরামকে দেখেছি, তারা নেك আমলে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতেন। যখন সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখে আমলের সর্বোচ্চ মাকামে পৌঁছতেন, তখন তাদের অন্তরে এমন ভয় ও দুশ্চিন্তা সওয়ার হতো যে, না জানি তা কবুল হবে, না প্রত্যাখ্যাত হবে। এভাবে তারা সদা নিজের আমলকে পর্যবেক্ষণে রাখতেন এবং সদা আত্ম-অনুশোচনায় ভুগতেন।
আর এটাই সুপথে পরিচালিত হওয়ার উত্তম মাধ্যম। নিজেকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া জীবন পরিচালিত করলে এই জীবন হবে কেবলই গ্লানিকর ও ব্যর্থতায় ঘেরা।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 ঈমান, আমল ও নফসের দৃষ্টান্ত

📄 ঈমান, আমল ও নফসের দৃষ্টান্ত


৮۳. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ঈমান হলো সেনাপতির মতো, আর আমল ড্রাইভারের মতো। আর মানুষের আত্মা এই দুয়ের মাঝে পলায়নপর। যদি সেনাপতি নেতৃত্ব দেয় কিন্তু ড্রাইভার বাহন না চালায় তবে কোনো কাজে আসবে না। আর যদি ড্রাইভার বাহন চালায় কিন্তু সেনাপতি নেতৃত্ব না দেয় তবু কোনো কাজে আসবে না। আর যদি উভয়ে যার যার কাজ করে তবে আত্মা তখন ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক আনুগত্য করবে এবং তখন আমল পবিত্র হবে।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সৌভাগ্যের দিন বনাম দুর্ভাগ্যের দিন

📄 সৌভাগ্যের দিন বনাম দুর্ভাগ্যের দিন


৮৪. আবুদ দারদা রাযি. বলেন, যখন একজন কোনো প্রভাতে উপনীত হয়, তখন তার সামনে দুটি বিষয় হাজির হয়। তার কুপ্রবৃত্তি এবং তার আমল। যদি তার আমল তার কুপ্রবৃত্তির অনুগামী হয়, তবে সেই দিনটি তার জন্য নিকৃষ্ট দিন। আর যদি কুপ্রবৃত্তি তার আমলের অনুগামী হয় তবে সেই দিনটি তার জন্য পরম সৌভাগ্যের দিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00