📄 মুমিন জাগতিক সম্মান বা লাঞ্ছনা কোনটার পরোয়া করে না
৭৮. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়ায় একজন অস্থায়ী মুসাফিরের মতো। সে দুনিয়ার সম্মান অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতাও করবে না, আবার অসম্মানিত হলে তাতেও কোনো পরোয়াও করবে না। মানুষের অবস্থা এক রকম হবে। আর তার নিজের আরেক অবস্থা থাকবে। মানুষ তার থেকে নিরাপদ থাকবে আর তার আত্মাকে সে ইবাদতে ব্যস্ত রাখবে।
📄 বৃদ্ধ ও যুবক দেখলে নিজেকে দুইভাবে তুলনা করা
৭৯. সাহল ইবনে আসলাম আদাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বকর ইবনে আব্দুল্লাহ মুজানি রাহিমাহুল্লাহ কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখলে বলতেন: هَذَا خَيْرٌ مِنِّي هَذَا عَبَدَ اللَّهَ قَبْلِي. 'ইনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি আমার আগেই ইবাদত-বন্দেগি করে আমার ওপর অগ্রগামী হয়েছেন।' আর কোনো যুবক মানুষকে দেখলে বলতেন: هَذَا خَيْرٌ مِنِّي ارْتَكَبْتُ مِنَ الذُّنُوبِ أَكْثَرَ مِمَّا ارْتَكَبَ. 'ইনি আমার চেয়ে উত্তম। তিনি যতটুকু পাপ করেছেন, আমি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ পাপ করেছি। কেননা আমার মতো পাপ করার সময় ও সুযোগই তিনি পাননি।'
📄 নিদ্রা জাগরণের পর জীবনের হিসাব
৮۰. ইবরাহিম ইবনে আদহাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আতা সুলামি রাহিমাহুল্লাহ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর বলতেন, হে আতা! তুমি ধ্বংসের প্রান্তরে। তুমি ধ্বংসের প্রান্তরে। তোমাকে জন্মদাতা পিতাও ধ্বংসের প্রান্তরে এবং তোমার মাতাও ধ্বংসের প্রান্তরে। অর্থাৎ নিদ্রাগমন করা মৃত্যুর সমতুল্য। সুতরাং কেমন যেন নতুন জীবন লাভ করা হয় নিদ্রার পর। আর মৃত্যুর পর মানুষ নতুন জীবন লাভ ও অধিকহারে নেك আমল করার বাসনা করে। তাই তিনি জাগ্রত হওয়ার পর নিজেকে মৃতদের কাতারের একজন শামিল করে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করতেন।
📄 কোনো মানুষই দুনিয়ায় নিশ্চিত নয়
৮۱. আবু আইয়ুব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন আমাকে মালেক রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হে আবু আইয়ুব! তুমি তোমার আত্মাকে ভয় করো, তাকে নিয়ন্ত্রণ করো। কেননা আমি দুনিয়ায় মুমিনের দুশ্চিন্তার পরিসমাপ্তি দেখি না। আল্লাহর কসম! কোনো মুমিন পরকালে হাসিখুশি নিয়ে উঠতে পারবে না। মুমিনের জীবনে দুটি বিষয় উপস্থিত। দুনিয়ার পেরেশানি ও পরকালের হতভাগ্যতা।
আমি তখন বললাম, আব্বাজান! মুমিন কেন হাসিমুখে নিয়ে পরকালে উঠতে পারবে না?
তিনি আমার প্রশ্নে অবাক হয়ে বললেন, কত মানুষ এমন হবে, যে মনে করবে যে, সে ভালো আমল নিয়ে উঠেছে, সে নৈকট্যের অধিকারী হয়েছে, সৎকর্ম করে জান্নাতের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
সুতরাং আত্মতৃপ্তি অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে, পক্ষান্তরে আত্মসমালোচনা ও আত্মবিচার মঙ্গলের দিকে পরিচালিত করে এবং নেককাজে অনুপ্রাণিত করে।