📄 জাহান্নামের কথা স্মরণে মরণ
৭۷. বুখতারি ইবনে হারেসা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার জনৈক আবেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তার সামনে তখন আগুন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছিল। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তিনি নিজের আত্মাকে তিরস্কার করতে লাগলেন এবং অবিরাম তিরস্কার করতে লাগলেন। এরূপ করতে করতে তিনি জাহান্নামের ভয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করলেন।
এটাই প্রকৃত মুমিনের আলামত। কেননা আল্লাহ তাআলার আজাবের বিষয় দেখে ভয় করা, নেয়ামত দেখে প্রফুল্ল হওয়া এবং ভালো কাজে উৎসাহবোধ করা ঈমান তরতাজা থাকার আলামত। আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করার আদেশ করেছেন। গবেষণা করার অর্থই তো হলো আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে অবগত হয়ে তাঁর কুদরতের কদমে লুটে পড়া, অতীতের ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করা। এই বুজুর্গ সঠিক পথেই পরিচালিত হয়েছেন। দুনিয়ার সাধারণ আগুনের মধ্যেও কোনো মানুষের সামান্য সময় অতিবাহিত করাই যেখানে অসম্ভব, সেখানে জাহান্নামের আগুনে মানুষ বাস করবে কীভাবে? দুনিয়ার আগুনকে তিন হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করার পর যে ভয়ংকর রূপ ও ভয়াবহ দাহ্য ক্ষমতা অর্জন করেছে, সেটাই হলো জাহান্নামের আগুন! সেটা কত শত কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রাযুক্ত হতে পারে তা কোনো মানুষের পক্ষে অনুমান করা অসম্ভব। তাই বুজুর্গানে কেরাম যখন দুনিয়ার আগুনের সামনে দাঁড়াতেন তখন পরকালের জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহ চিত্র তাদের সামনে ভেসে উঠত। এতে তারা প্রকম্পিত হয়ে উঠতেন, নিজের কসুর ও পাপের কথা মনে করে শিউরে উঠতেন। পরিণামে কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করতেন। এই ভয় নিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের আর জাহান্নামের ভয় কীসে?
📄 মুমিন জাগতিক সম্মান বা লাঞ্ছনা কোনটার পরোয়া করে না
৭৮. হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়ায় একজন অস্থায়ী মুসাফিরের মতো। সে দুনিয়ার সম্মান অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতাও করবে না, আবার অসম্মানিত হলে তাতেও কোনো পরোয়াও করবে না। মানুষের অবস্থা এক রকম হবে। আর তার নিজের আরেক অবস্থা থাকবে। মানুষ তার থেকে নিরাপদ থাকবে আর তার আত্মাকে সে ইবাদতে ব্যস্ত রাখবে।
📄 বৃদ্ধ ও যুবক দেখলে নিজেকে দুইভাবে তুলনা করা
৭৯. সাহল ইবনে আসলাম আদাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বকর ইবনে আব্দুল্লাহ মুজানি রাহিমাহুল্লাহ কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখলে বলতেন: هَذَا خَيْرٌ مِنِّي هَذَا عَبَدَ اللَّهَ قَبْلِي. 'ইনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি আমার আগেই ইবাদত-বন্দেগি করে আমার ওপর অগ্রগামী হয়েছেন।' আর কোনো যুবক মানুষকে দেখলে বলতেন: هَذَا خَيْرٌ مِنِّي ارْتَكَبْتُ مِنَ الذُّنُوبِ أَكْثَرَ مِمَّا ارْتَكَبَ. 'ইনি আমার চেয়ে উত্তম। তিনি যতটুকু পাপ করেছেন, আমি তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ পাপ করেছি। কেননা আমার মতো পাপ করার সময় ও সুযোগই তিনি পাননি।'
📄 নিদ্রা জাগরণের পর জীবনের হিসাব
৮۰. ইবরাহিম ইবনে আদহাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আতা সুলামি রাহিমাহুল্লাহ নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর বলতেন, হে আতা! তুমি ধ্বংসের প্রান্তরে। তুমি ধ্বংসের প্রান্তরে। তোমাকে জন্মদাতা পিতাও ধ্বংসের প্রান্তরে এবং তোমার মাতাও ধ্বংসের প্রান্তরে। অর্থাৎ নিদ্রাগমন করা মৃত্যুর সমতুল্য। সুতরাং কেমন যেন নতুন জীবন লাভ করা হয় নিদ্রার পর। আর মৃত্যুর পর মানুষ নতুন জীবন লাভ ও অধিকহারে নেك আমল করার বাসনা করে। তাই তিনি জাগ্রত হওয়ার পর নিজেকে মৃতদের কাতারের একজন শামিল করে ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করতেন।