📄 আল্লাহর ক্ষমা লাভ হলেও নফসের শাসন নিরর্থক নয়
৭২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুতাররিফ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে ভাইয়েরা! আমলের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টারত হও। কেননা তোমরা যেমনটা ধারণা করছ যে, এমনিতেই আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা পাওয়া যাবে, তাহলেও সমস্যা নেই, আমলের দ্বারা জান্নাতে দারাজাত বুলন্দ হবে। আর যদি আমরা আল্লাহর কঠোরতার যে ভয় করছি সেটাই যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আমাদেরকে এটা বলতে হবে না যে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে আবারও দুনিয়ায় পাঠান, আমরা বে-আমল ছিলাম, এবার গিয়ে আমল করে আসব। বরং তখন বলব, আমরা আমল তো করেছিলাম, কিন্তু আমল আমাদের উপকারে আসেনি।
📄 আত্মশাসনের দুটি উপকারিতা
৭৩. বিখ্যাত বুজুর্গ জিয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, চেষ্টা করো এবং ভয় করো। আমরা আল্লাহর রহমতের যে আশা করি, বিষয়টি যদি এমনই হয়, তাহলে তো আমাদের আমল বৃথা যাবে না। বরং আমল আমাদের মর্যাদার কারণ হবে। আর যদি রহমত থেকে বঞ্চিতও হই, তথা আমল না করার আক্ষেপ তো করতে হলো না!
📄 আমলের চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি
৭৪. সুফিয়ান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমের ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আল্লাহর কসম, আমরা আমলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেই যাব। যদি নাজাত পেয়ে যাই, তবে তো তা আল্লাহ তাআলার রহমতেই পাব। আর যদি (আল্লাহ না করুন) এর ব্যতিক্রম হয়, তথাপি নফসের শাসন থেকে আমি পিছপা হব না।
۷۵. আহমদ ইবনে আব্বাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বসরার আবদে কায়সের জনৈক ব্যক্তির প্রশংসা করতেন এ কারণে যে, তিনি কবিতার মাধ্যমে বলতেন:
'আমি আমার আত্মার বিনিময়ে আমার প্রভুর সঙ্গে সওদা করি।
সৃষ্টিজগতে আত্মার বিনিময়ে আল্লাহ ছাড়া মূল্য দেয়ার কেউ নেই।
আমি যদি আত্মাকে দুনিয়ার কোনো বস্তুর মোকাবিলায় সওদা করি তা হবে এমন নির্বুদ্ধিতা, যার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।
যদি দুনিয়ার কোনো বস্তু অর্জনের জন্য আমার প্রাণ চলে যায় তবে তো আমার প্রাণও যায়, আর মূল্যও হাতছাড়া হয়ে যায়।'
📄 জীবনের পাই পাই হিসাব
৭۶. তাওবা ইবনে সামতাহ নামক বুজুর্গ রিক্কা নগরীতে বসবাস করতেন। তিনি নফসের প্রতি কঠোর একজন ব্যক্তি ছিলেন। জীবনের পাই পাই হিসাব করতেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ষাট বছর। তিনি ষাট বছরকে দিন দ্বারা ভাগ করে দেখলেন, বয়স হয়েছে ২১৯১৫ দিন! তিনি এই হিসাব করে চিৎকার দিয়ে উঠলেন এবং বললেন, হায় আফসোস! এতগুলো দিন অতিবাহিত হলো, তুমি তোমার রবের সঙ্গে ২১৯১৫টি পাপ নিয়ে সাক্ষাৎ করলে! প্রতিদিন তুমি দশটি করে পাপে লিপ্ত হলে!
এভাবে পাপের কথাগুলো স্মরণ করে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। এরপর আর জ্ঞান ফিরে পেলেন না, মৃত্যুবরণ করলেন। তখন অদৃশ্য থেকে একটি আওয়াজ ভেসে এলো, হে জান্নাতুল ফিরদাউসের দিকে যাত্রাকারী! তোমার যাত্রা শুভ হোক।
ইমাম গাজালি রাহিমাহুল্লাহ এই ঘটনা উল্লেখ করার পর লেখেন, এভাবেই প্রতিটি মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব করা প্রয়োজন। পাপের জন্য প্রতি মুহূর্ত অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের হিসাব করা উচিত। যদি মানুষের প্রতিটি পাপের মোকাবিলায় তার ঘরে একটি করে ক্ষুদে কণা নিক্ষেপ করা হতো, তাহলে তার ঘর অতি অল্প সময়েই ভরাট হয়ে যেত। কিন্তু মানুষ এভাবে নিজেদের পাপের হিসাব করে না। পাপ সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন। অথচ মানুষ তার নিজের পাপের হিসাব না করলেও সঙ্গে থাকা দুই ফেরেশতা ঠিকই হিসাব করে রাখছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَحْصَاهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ.
'আল্লাহ তাআলা বান্দাদের পাপ সংরক্ষণ করে রাখেন। কিন্তু তারা নিজেরা ভুলে যায়।'
টিকাঃ
২৯. সুরা মুজাদালাহ: ৬।