📄 সবচেয়ে দামি মানুষ কারা?
৭১. উসমান ইবনে জায়েদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়া রাহিমাহুল্লাহকে বলা হলো, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দামি কারা? তিনি জবাবে বললেন, সেই ব্যক্তি, গোটা দুনিয়ার কোনো কিছুই যার জন্য ক্ষতিকর বলে মনে হয় না।
📄 আল্লাহর ক্ষমা লাভ হলেও নফসের শাসন নিরর্থক নয়
৭২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুতাররিফ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, হে ভাইয়েরা! আমলের ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টারত হও। কেননা তোমরা যেমনটা ধারণা করছ যে, এমনিতেই আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা পাওয়া যাবে, তাহলেও সমস্যা নেই, আমলের দ্বারা জান্নাতে দারাজাত বুলন্দ হবে। আর যদি আমরা আল্লাহর কঠোরতার যে ভয় করছি সেটাই যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আমাদেরকে এটা বলতে হবে না যে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে আবারও দুনিয়ায় পাঠান, আমরা বে-আমল ছিলাম, এবার গিয়ে আমল করে আসব। বরং তখন বলব, আমরা আমল তো করেছিলাম, কিন্তু আমল আমাদের উপকারে আসেনি।
📄 আত্মশাসনের দুটি উপকারিতা
৭৩. বিখ্যাত বুজুর্গ জিয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, চেষ্টা করো এবং ভয় করো। আমরা আল্লাহর রহমতের যে আশা করি, বিষয়টি যদি এমনই হয়, তাহলে তো আমাদের আমল বৃথা যাবে না। বরং আমল আমাদের মর্যাদার কারণ হবে। আর যদি রহমত থেকে বঞ্চিতও হই, তথা আমল না করার আক্ষেপ তো করতে হলো না!
📄 আমলের চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি
৭৪. সুফিয়ান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমের ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আল্লাহর কসম, আমরা আমলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেই যাব। যদি নাজাত পেয়ে যাই, তবে তো তা আল্লাহ তাআলার রহমতেই পাব। আর যদি (আল্লাহ না করুন) এর ব্যতিক্রম হয়, তথাপি নফসের শাসন থেকে আমি পিছপা হব না।
۷۵. আহমদ ইবনে আব্বাস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বসরার আবদে কায়সের জনৈক ব্যক্তির প্রশংসা করতেন এ কারণে যে, তিনি কবিতার মাধ্যমে বলতেন:
'আমি আমার আত্মার বিনিময়ে আমার প্রভুর সঙ্গে সওদা করি।
সৃষ্টিজগতে আত্মার বিনিময়ে আল্লাহ ছাড়া মূল্য দেয়ার কেউ নেই।
আমি যদি আত্মাকে দুনিয়ার কোনো বস্তুর মোকাবিলায় সওদা করি তা হবে এমন নির্বুদ্ধিতা, যার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।
যদি দুনিয়ার কোনো বস্তু অর্জনের জন্য আমার প্রাণ চলে যায় তবে তো আমার প্রাণও যায়, আর মূল্যও হাতছাড়া হয়ে যায়।'