📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 অহেতুক প্রশ্ন করে সীমাহীন অনুশোচনা

📄 অহেতুক প্রশ্ন করে সীমাহীন অনুশোচনা


৫৪. একবার রাবাহ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ আসরের পর আমাদের বাড়িতে এসে আমার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এখন কোথায়। আমরা বললাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আসরের পর ঘুমিয়ে আছেন! এটা কি ঘুমের সময়?

এ কথা জিজ্ঞাসা করে তিনি ফিরে গেলেন। আর আমরা তখনই তার পেছনে পেছনে একজন সংবাদবাহক পাঠালাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে বললাম যে, আমরা পিতাকে ডাকিয়ে দেব কি-না?

সংবাদবাহক ফিরে আসতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেল, এমনকি সূর্যাস্ত হলো। সে সূর্যাস্তের পর ফিরে এলো। আমরা বললাম, তুমি তো অনেক বিলম্বে ফিরে এসেছ। তাকে কি জিজ্ঞাসা করেছিলে?

জবাবে সংবাদবাহক বলল, তিনি তো জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরিস্থিতিতেই ছিলেন না। এখান থেকে বের হয়ে তিনি সোজা একটি কবরস্থানে চলে গেলেন এবং নিজেকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি তাকে কেন এ কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে যে, এটা কি ঘুমের সময়? তোমার কি এই প্রশ্ন করার অধিকার ছিল? একজন ব্যক্তি যে-কোনো সময়েই ঘুমাতে পারে। সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। তোমার তা দেখার ও প্রশ্ন করার অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তবে কেন তুমি বলবে, এখন কি ঘুমের সময়? তুমি কীভাবে জানলে যে, এখন তার ঘুমের সময় নয়? তুমি কেন এমন অনর্থক, অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো? হে আত্মা! তোমার এই অহেতুক কাজের শাস্তি হলো, আমি আগামী এক বছর পর্যন্ত মাটিতে নিদ্রার জন্য কখনো বিছানা করব না। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা চৈতন্য বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। এটা এমন প্রতিজ্ঞা, যা আমি ভঙ্গ করব না। হে আত্মা! তোমার জন্য আফসোস, শত আফসোস! আর কত এমন অহেতুক কাজ করবে? তুমি কি তোমার বোকামি ও মূর্খতা থেকে ফিরে আসবে না?

এ কথা বলে তিনি ভীষণ ক্রন্দন করতে লাগলেন আর তিনি বুঝতেই পারেননি যে, আমি তার পাশেই রয়েছি। ফলে এই অবস্থা দেখে আমি চলে এসেছি, সেই কথাটি জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।

৫৪. একবার রাবাহ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ আসরের পর আমাদের বাড়িতে এসে আমার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এখন কোথায়। আমরা বললাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আসরের পর ঘুমিয়ে আছেন! এটা কি ঘুমের সময়?

এ কথা জিজ্ঞাসা করে তিনি ফিরে গেলেন। আর আমরা তখনই তার পেছনে পেছনে একজন সংবাদবাহক পাঠালাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে বললাম যে, আমরা পিতাকে ডাকিয়ে দেব কি-না?

সংবাদবাহক ফিরে আসতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেল, এমনকি সূর্যাস্ত হলো। সে সূর্যাস্তের পর ফিরে এলো। আমরা বললাম, তুমি তো অনেক বিলম্বে ফিরে এসেছ। তাকে কি জিজ্ঞাসা করেছিলে?

জবাবে সংবাদবাহক বলল, তিনি তো জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরিস্থিতিতেই ছিলেন না। এখান থেকে বের হয়ে তিনি সোজা একটি কবরস্থানে চলে গেলেন এবং নিজেকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি তাকে কেন এ কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে যে, এটা কি ঘুমের সময়? তোমার কি এই প্রশ্ন করার অধিকার ছিল? একজন ব্যক্তি যে-কোনো সময়েই ঘুমাতে পারে। সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। তোমার তা দেখার ও প্রশ্ন করার অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তবে কেন তুমি বলবে, এখন কি ঘুমের সময়? তুমি কীভাবে জানলে যে, এখন তার ঘুমের সময় নয়? তুমি কেন এমন অনর্থক, অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো? হে আত্মা! তোমার এই অহেতুক কাজের শাস্তি হলো, আমি আগামী এক বছর পর্যন্ত মাটিতে নিদ্রার জন্য কখনো বিছানা করব না। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা চৈতন্য বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। এটা এমন প্রতিজ্ঞা, যা আমি ভঙ্গ করব না। হে আত্মা! তোমার জন্য আফসোস, শত আফসোস! আর কত এমন অহেতুক কাজ করবে? তুমি কি তোমার বোকামি ও মূর্খতা থেকে ফিরে আসবে না?

এ কথা বলে তিনি ভীষণ ক্রন্দন করতে লাগলেন আর তিনি বুঝতেই পারেননি যে, আমি তার পাশেই রয়েছি। ফলে এই অবস্থা দেখে আমি চলে এসেছি, সেই কথাটি জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 তাহাজ্জুদ পড়তে না পারার শাস্তি নির্ধারণ

📄 তাহাজ্জুদ পড়তে না পারার শাস্তি নির্ধারণ


৫৫. মুনকাদির ইবনে মহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, হজরত তামিম দারি রাযি. একদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে সেই রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারলেন না। জাগ্রত হলেন ফজর নামাজের আগে। সেই দুঃখে এবং এক রাতের তাহাজ্জুদ ছুটে যাওয়ার কাফফারা হিসেবে তিনি পূর্ণ এক বছর সারা রাত তাহাজ্জুদ আদায় করলেন, এক রাতেও ঘুমালেন না।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সফর থেকে ফিরে তাহাজ্জুদ পড়তে না পারার অনুশোচনা

📄 সফর থেকে ফিরে তাহাজ্জুদ পড়তে না পারার অনুশোচনা


৫৬. তালক ইবনে মুআবিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাদের একজন পরিচিত ব্যক্তির নাম ছিল হিন্দ ইবনে আওফ। তিনি কোনো এক সফর থেকে গভীর রাতে ঘরে ফিরে এলেন। স্বামীকে ক্লান্ত-শ্রান্ত মনে করে স্ত্রী দ্রুত বিছানা পেতে দিলেন। সেই সময়টা ছিল তার তাহাজ্জুদের সময়। অন্যান্য সাধারণ সময়ে তিনি রাতের এই প্রহরে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। কিন্তু সেই রাতে সফরের ক্লান্তি থাকায় তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারলেন না। সে রাতে তাহাজ্জুদ ছুটে যাওয়ায় নিজের আত্মাকে ভীষণ ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করলেন এবং এর কাফফারা হিসেবে তিনি কসম করলেন, আর কোনোদিন তিনি বিছানায় ঘুমাবেন না!

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজের সংশোধনের জন্য উত্তপ্ত বালুতে গড়াগড়ি

📄 নিজের সংশোধনের জন্য উত্তপ্ত বালুতে গড়াগড়ি


৫৭. তালহা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একদিন এক সাহাবি দেহ থেকে কাপড় খুলে ফেললেন এবং উত্তপ্ত বালুর মধ্যে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন। আর নিজেকে ভর্ৎসনা করে বলতে লাগলেন, হে খারাপ আত্মা! এই উত্তপ্ত বালুর তাপের স্বাদ গ্রহণ করো। আর মনে রেখো, জাহান্নামের তাপ এর চেয়ে কোটি গুণ বেশি কষ্টদায়ক। তুমি তো রাতের বেলা মৃত প্রাণীর মতো ঘুমাও আর দিনের বেলায় বেকার সময় অতিবাহিত করো! তিনি এ রকম করতেই থাকলেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই অবস্থায় দেখে ফেললেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমার আত্মা আমার ওপর প্রবল হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি যা করেছ তার কি বিকল্প ছিল না? যাইহোক, আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য আসমানের সব ক'টি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং তিনি ফেরেশতাদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গর্ব করেছেন।

এরপর নবীজি সাহাবাগণকে বললেন, তোমরা তোমাদের এই ভাই থেকে পাথেয় সংগ্রহ করো। তখন সাহাবাগণ একেকজন বললেন, হে ব্যক্তি! আমার জন্য দুআ করো। আরেকজনও অনুরূপ বলল, আমার জন্য দুআ করো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি নির্দিষ্ট কারও জন্য নয়, বরং সকলের জন্য ব্যাপকভাবে দুআ করো।

নবীজির আদেশে তখন তিনি দুআ করলেন, হে আল্লাহ! তাকওয়াকে তাদের সকলের পাথেয় বানিয়ে দিন, তাদের সকলের চিন্তাকে হেদায়াতের ওপর একত্রিত করে দিন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দুআয় বললেন, হে আল্লাহ! আপনি তাকে সঠিক পথ দেখান, হে আল্লাহ! জান্নাতকে সকলের ঠিকানা বানিয়ে দিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00