📄 যৌবনকালের এক ক্রুটির জন্য সারা জীবন অনুশোচনা
৫১. আবু সিনান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমর ইবনে মুররা রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি নিজেকে চক্ষুষ্মান দেখতে পছন্দ করি না। কেননা চোখ ভালো থাকলে এর ক্ষতি অনেক। চোখে জ্যোতি আছে বলেই তো আমি যৌবনকালে একবার কুদৃষ্টি দিয়েছিলাম!
কী বিস্ময়কর অনুশোচনা! জীবনে একবার মাত্র কুপাত্রে দৃষ্টি দিয়েছিলেন বলে সারা জীবন আফসোস করেছেন এবং চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ারই কামনা করেছেন। তিনি মনে করেছেন, জীবনে একটিবারও খারাপ জায়গায় দৃষ্টি দেয়ার চেয়ে সারা জীবন অন্ধ থাকা ভালো, চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যাওয়া উত্তম!
৫১. আবু সিনান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমর ইবনে মুররা রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি নিজেকে চক্ষুষ্মান দেখতে পছন্দ করি না। কেননা চোখ ভালো থাকলে এর ক্ষতি অনেক। চোখে জ্যোতি আছে বলেই তো আমি যৌবনকালে একবার কুদৃষ্টি দিয়েছিলাম!
কী বিস্ময়কর অনুশোচনা! জীবনে একবার মাত্র কুপাত্রে দৃষ্টি দিয়েছিলেন বলে সারা জীবন আফসোস করেছেন এবং চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ারই কামনা করেছেন। তিনি মনে করেছেন, জীবনে একটিবারও খারাপ জায়গায় দৃষ্টি দেয়ার চেয়ে সারা জীবন অন্ধ থাকা ভালো, চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যাওয়া উত্তম!
📄 নারীর প্রতি দৃষ্টি পতিত হওয়ায় ঠান্ডা পানি পান না করার প্রতিজ্ঞা
৫২. মালেক ইবনে দুগাইম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে আমার খালা জুবাবা বিনতে মায়মুন আতাকিয়া রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমি আবু দুগাইমকে দেখেছি, একবার তিনি ঘরের ছাদ থেকে ঠান্ডা পানির পাত্র নামালেন, যা তার জন্যই ঠান্ডা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই ঠান্ডা পানি ঢেলে ফেলে দিলেন এবং আরেকটি পাত্র থেকে গরম পানি নিয়ে পান করলেন। আমি তাকে বললাম, আমার পিতামাতা উৎসর্গিত হোক। আপনি এরূপ করলেন কেন? নিজেই ঠান্ডা পানি এনে তা ঢেলে ফেলে দিলেন, এরপর গরম পানি পান করলেন কেন?
জবাবে তিনি বললেন, একবার একজন নারীর প্রতি আমার হঠাৎ দৃষ্টি পড়েছিল। তখন আমি পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন আর ঠান্ডা পানি পান করব না। আমার সেই প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ায় আমি এমন করেছি।
একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে তিনি এভাবেই নিজের জীবনকে বঞ্চিত রেখেছিলেন, জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আর কখনো ঠান্ডা পানি পান করেননি।
৫২. মালেক ইবনে দুগাইম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে আমার খালা জুবাবা বিনতে মায়মুন আতাকিয়া রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমি আবু দুগাইমকে দেখেছি, একবার তিনি ঘরের ছাদ থেকে ঠান্ডা পানির পাত্র নামালেন, যা তার জন্যই ঠান্ডা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই ঠান্ডা পানি ঢেলে ফেলে দিলেন এবং আরেকটি পাত্র থেকে গরম পানি নিয়ে পান করলেন। আমি তাকে বললাম, আমার পিতামাতা উৎসর্গিত হোক। আপনি এরূপ করলেন কেন? নিজেই ঠান্ডা পানি এনে তা ঢেলে ফেলে দিলেন, এরপর গরম পানি পান করলেন কেন?
জবাবে তিনি বললেন, একবার একজন নারীর প্রতি আমার হঠাৎ দৃষ্টি পড়েছিল। তখন আমি পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন আর ঠান্ডা পানি পান করব না। আমার সেই প্রতিজ্ঞার কথা মনে পড়ায় আমি এমন করেছি।
একটি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে তিনি এভাবেই নিজের জীবনকে বঞ্চিত রেখেছিলেন, জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলোতে আর কখনো ঠান্ডা পানি পান করেননি।
📄 অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসার শাস্তি হিসেবে পূর্ণ রোজা রাখার প্রতিজ্ঞা
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মুসলমানের ইসলামের একটি অনন্য সৌন্দর্য হলো, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা না বলা, ফালতু বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে না ভাবা। আমাদের সালফে সালেহিনগণ কীভাবে এর ওপর আমল করতেন, তার কিছু নমুনা লক্ষ করুন।
৫৩. একবার বিখ্যাত বুজুর্গ হাইয়ান ইবনে আবু সিনান রাহিমাহুল্লাহ একটি প্রাসাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হঠাৎ সেই প্রাসাদটির প্রতি তার দৃষ্টি পতিত হলে তিনি বললেন, এই প্রাসাদটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে? প্রশ্নটি করার পরই তার সম্বিৎ ফিরে এলো। তিনি ভাবলেন, একটা অনর্থক প্রশ্নের অবতারণা করেছেন তিনি। তাই নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, হে নফস! তুমি এমন নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছ? তোমার এই অহেতুক জিজ্ঞাসার কাফফারা হিসেবে আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আগামী পূর্ণ এক বছর রোজা পালন করব।
এই প্রতিজ্ঞা করার পর তিনি সেই বছর একটা রোজা পালন করলেন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মুসলমানের ইসলামের একটি অনন্য সৌন্দর্য হলো, অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা না বলা, ফালতু বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে না ভাবা। আমাদের সালফে সালেহিনগণ কীভাবে এর ওপর আমল করতেন, তার কিছু নমুনা লক্ষ করুন।
৫৩. একবার বিখ্যাত বুজুর্গ হাইয়ান ইবনে আবু সিনান রাহিমাহুল্লাহ একটি প্রাসাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। হঠাৎ সেই প্রাসাদটির প্রতি তার দৃষ্টি পতিত হলে তিনি বললেন, এই প্রাসাদটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে? প্রশ্নটি করার পরই তার সম্বিৎ ফিরে এলো। তিনি ভাবলেন, একটা অনর্থক প্রশ্নের অবতারণা করেছেন তিনি। তাই নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, হে নফস! তুমি এমন নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছ? তোমার এই অহেতুক জিজ্ঞাসার কাফফারা হিসেবে আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আগামী পূর্ণ এক বছর রোজা পালন করব।
এই প্রতিজ্ঞা করার পর তিনি সেই বছর একটা রোজা পালন করলেন।
📄 অহেতুক প্রশ্ন করে সীমাহীন অনুশোচনা
৫৪. একবার রাবাহ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ আসরের পর আমাদের বাড়িতে এসে আমার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এখন কোথায়। আমরা বললাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আসরের পর ঘুমিয়ে আছেন! এটা কি ঘুমের সময়?
এ কথা জিজ্ঞাসা করে তিনি ফিরে গেলেন। আর আমরা তখনই তার পেছনে পেছনে একজন সংবাদবাহক পাঠালাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে বললাম যে, আমরা পিতাকে ডাকিয়ে দেব কি-না?
সংবাদবাহক ফিরে আসতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেল, এমনকি সূর্যাস্ত হলো। সে সূর্যাস্তের পর ফিরে এলো। আমরা বললাম, তুমি তো অনেক বিলম্বে ফিরে এসেছ। তাকে কি জিজ্ঞাসা করেছিলে?
জবাবে সংবাদবাহক বলল, তিনি তো জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরিস্থিতিতেই ছিলেন না। এখান থেকে বের হয়ে তিনি সোজা একটি কবরস্থানে চলে গেলেন এবং নিজেকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি তাকে কেন এ কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে যে, এটা কি ঘুমের সময়? তোমার কি এই প্রশ্ন করার অধিকার ছিল? একজন ব্যক্তি যে-কোনো সময়েই ঘুমাতে পারে। সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। তোমার তা দেখার ও প্রশ্ন করার অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তবে কেন তুমি বলবে, এখন কি ঘুমের সময়? তুমি কীভাবে জানলে যে, এখন তার ঘুমের সময় নয়? তুমি কেন এমন অনর্থক, অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো? হে আত্মা! তোমার এই অহেতুক কাজের শাস্তি হলো, আমি আগামী এক বছর পর্যন্ত মাটিতে নিদ্রার জন্য কখনো বিছানা করব না। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা চৈতন্য বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। এটা এমন প্রতিজ্ঞা, যা আমি ভঙ্গ করব না। হে আত্মা! তোমার জন্য আফসোস, শত আফসোস! আর কত এমন অহেতুক কাজ করবে? তুমি কি তোমার বোকামি ও মূর্খতা থেকে ফিরে আসবে না?
এ কথা বলে তিনি ভীষণ ক্রন্দন করতে লাগলেন আর তিনি বুঝতেই পারেননি যে, আমি তার পাশেই রয়েছি। ফলে এই অবস্থা দেখে আমি চলে এসেছি, সেই কথাটি জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।
৫৪. একবার রাবাহ ইবনে কায়েস রাহিমাহুল্লাহ আসরের পর আমাদের বাড়িতে এসে আমার পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তিনি এখন কোথায়। আমরা বললাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, আসরের পর ঘুমিয়ে আছেন! এটা কি ঘুমের সময়?
এ কথা জিজ্ঞাসা করে তিনি ফিরে গেলেন। আর আমরা তখনই তার পেছনে পেছনে একজন সংবাদবাহক পাঠালাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করতে বললাম যে, আমরা পিতাকে ডাকিয়ে দেব কি-না?
সংবাদবাহক ফিরে আসতে অনেক বিলম্ব হয়ে গেল, এমনকি সূর্যাস্ত হলো। সে সূর্যাস্তের পর ফিরে এলো। আমরা বললাম, তুমি তো অনেক বিলম্বে ফিরে এসেছ। তাকে কি জিজ্ঞাসা করেছিলে?
জবাবে সংবাদবাহক বলল, তিনি তো জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরিস্থিতিতেই ছিলেন না। এখান থেকে বের হয়ে তিনি সোজা একটি কবরস্থানে চলে গেলেন এবং নিজেকে তিরস্কার করে বলতে লাগলেন, তুমি তাকে কেন এ কথা জিজ্ঞাসা করতে গেলে যে, এটা কি ঘুমের সময়? তোমার কি এই প্রশ্ন করার অধিকার ছিল? একজন ব্যক্তি যে-কোনো সময়েই ঘুমাতে পারে। সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। তোমার তা দেখার ও প্রশ্ন করার অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তবে কেন তুমি বলবে, এখন কি ঘুমের সময়? তুমি কীভাবে জানলে যে, এখন তার ঘুমের সময় নয়? তুমি কেন এমন অনর্থক, অহেতুক ও নিষ্প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো? হে আত্মা! তোমার এই অহেতুক কাজের শাস্তি হলো, আমি আগামী এক বছর পর্যন্ত মাটিতে নিদ্রার জন্য কখনো বিছানা করব না। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা চৈতন্য বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটা ভিন্ন কথা। এটা এমন প্রতিজ্ঞা, যা আমি ভঙ্গ করব না। হে আত্মা! তোমার জন্য আফসোস, শত আফসোস! আর কত এমন অহেতুক কাজ করবে? তুমি কি তোমার বোকামি ও মূর্খতা থেকে ফিরে আসবে না?
এ কথা বলে তিনি ভীষণ ক্রন্দন করতে লাগলেন আর তিনি বুঝতেই পারেননি যে, আমি তার পাশেই রয়েছি। ফলে এই অবস্থা দেখে আমি চলে এসেছি, সেই কথাটি জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।