📄 লোকের প্রশংসায় কী আসে যায়, যদি জাহান্নামেই যেতে হয়?
৩৫. ইউনুস ইবনে উবায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, মানুষ আমাকে যতই বড়ো এবং বুজুর্গ বলে মনে করে, এসবের কোনোটাই কাজে আসবে না, যদি আমার হাত ও পা একত্রে বেঁধে আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।
প্রকৃত জ্ঞানীগণ কখনই নিজের বর্তমান পদ-পদবির অহমিকায় লিপ্ত থাকেন না। বর্তমানে কোন অবস্থানে অধিষ্ঠিত আছেন, সেটার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন না। কেননা দুনিয়ার পদ-পদবি সবই ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একজন ব্যক্তিকে যদি পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করে, কিন্তু পরকালে সে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ব্যর্থ হয়, তবে দুনিয়ার যাবতীয় पद-पदবি ও উপার্জিত সম্মান ব্যর্থ ও নিষ্ফল বলে প্রমাণিত হবে। এ কারণেই সালফে সালেহিনগণ সর্বদা পরকালের মর্যাদা ও সম্মানের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন, দুনিয়ার পদ-পদবি ও ইজ্জত-সম্মানকে বড়ো করে দেখতেন না এবং এটাকে সফলতার মাপকাঠি বলেও মনে করতেন না।
📄 মৃত্যুর পর আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?
৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন তিনি লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে ভাইয়েরা! আমাকে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? ওই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, হয়তো জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছ, নতুবা আল্লাহর ক্ষমার দিকে।
📄 পাপের যদি দুর্গন্ধ থাকত!
৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি পাপের দুর্গন্ধ থাকত, তবে কোনো ব্যক্তি আমার কাছেই বসতে ও ঘেঁষতে পারত না।
📄 তোমার মায়ের মূল্য মাত্র দুইশ দিরহাম!
৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ জাররাদ বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ একদিন তার ছেলেকে দেখলেন, সে সবার সামনে তার দুই হাত ওপরে তুলে আছে। তখন তিনি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি নিজেকে বড়ো মনে করো না। আফসোস, তুমি কি জানো, তুমি কে? তোমার মাকে আমি দুইশ দিরহামে ক্রয় করেছিলাম। আর তোমার পিতা? তোমার পিতা তো কোটি কোটি মানুষের মধ্যে সামান্য মর্যাদাও রাখে না। সুতরাং তোমার অহংকার প্রদর্শনের কী আছে?
৩৯. আবু জাফর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বসরা নগরীর জনৈক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল, যেন একজন ঘোষক আসমান থেকে এ কথার ঘোষণা করছে যে, বসরার সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি।