📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 বাধকে বললেন, অন্যখানে জীবিকা তালাশ করো

📄 বাধকে বললেন, অন্যখানে জীবিকা তালাশ করো


৩৩. জাফর ইবনে জায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা একবার কাবুলের উদ্দেশ্যে জিহাদে বের হয়ে পড়লাম। বাহিনীতে সিলাহ ইবনে আশইয়াম নামের একজন সৈন্য ছিলেন। লোকজন এশার নামাজের সময় অবতরণ করলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। সেই সেনাটিও নামাজ পড়লেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি তার আমল প্রত্যক্ষ করব। তাই তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখলাম। আমি খেয়াল করলাম, তিনি লোকদের অবচেতন হওয়ার অপেক্ষা করছেন।

এরপর যখন লোকদের চোখে নিদ্রা ঢলে পড়ল তখন তিনি লাফ দিয়ে উঠে পড়লেন এবং পাশের একটি পানির নালার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে তার পেছনে পেছনে গেলাম। আমি দেখলাম, তিনি ওজু করলেন এবং পাশের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া শুরু করলেন। তিনি নামাজে এত নিমগ্ন হয়ে পড়লেন যে, তার মধ্যে কোনো নাড়াচাড়াই পরিলক্ষিত হলো না। এই সময়ে হঠাৎ একটি বাঘ এসে একেবারে তার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। আমি এই দৃশ্য দেখে একটি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর তিনি কিয়াম আদায় করে সেজদায় চলে গেলেন। আমি ভয় পেলাম, এখনই বুঝি বাঘটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। বাঘটি তার ওপর আক্রমণ করল না। যুবকটি খুব শান্ত-সুষ্ঠুভাবে নামাজ শেষ করে বললেন, হে বাঘ! তুমি অন্য কোথাও তোমার জীবিকা তালাশ করো।

তার কথায় বাঘটি সম্মতির লেজ নাড়াল এবং মুখ ঘুরিয়ে পাহাড়ের দিকে ফিরে গেল। আর যাওয়ার সময় এত জোরে গর্জন করল যে, মনে হলো তার গর্জনে পাহাড় টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

এরপর তিনি আবার নামাজে দাঁড়ালেন। খুব ধীরস্থিরে নামাজ আদায় করতে থাকলেন। এভাবে সুবহে সাদিক হয়ে গেল। সুবহে সাদিক হওয়ার প্রাক্কালে তিনি এত সুন্দর ও চমৎকার বাক্যে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন যে, আমি জীবনে এত সুন্দর প্রশংসাবাক্য আর কখনো শুনিনি।

এরপর তিনি দুআ করে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে আপনি জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। ব্যস, এতটুকুই আমার প্রার্থনা। আমি আপনার কাছে জান্নাতের দুআ করার সাহস রাখি না। আমার মতো ব্যক্তি কি আপনার জান্নাতের যোগ্য হতে পারে?'

এরপর যখন প্রভাতের আলো ফোটার লক্ষণ প্রকাশ পেল তখন তিনি নিজ বাহিনীতে চুপিসারে ফিরে এলেন এবং এমনভাবে সকলের সঙ্গে মিশে গেলেন, যেন এতক্ষণ আরামদায়ক বিছানায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন! অথচ আমি নামাজ না পড়েই এত ক্লান্ত ছিলাম যে, নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলাম না, বার বার ক্লান্তির কোলে ঢলে পড়ছিলাম!

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 নিজের মধ্যে ভালো গুণের অস্তিত্ব না দেখা

📄 নিজের মধ্যে ভালো গুণের অস্তিত্ব না দেখা


৩৪. ইউনুস ইবনে উবায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি নেককার ও সালফে সালেহিনগণের একশটি ভালো গুণ গণনা করে দেখলাম, আমার মধ্যে এর একটিও উপস্থিত নেই!

এটা আসলে তার চরম বিনয়ের বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত বুজুর্গানে কেরাম এতটাই বিনয়ী হন যে, নিজেদেরকে সর্বদা সবচেয়ে অধম ও নিকৃষ্ট বলে বিশ্বাস করেন। তাই তো তিনিও তাদের মতোই একজন বুজুর্গ হওয়া সত্ত্বেও শুধু বিনয় ও নিজের আত্মাকে দমিয়ে রাখতে বলছেন, আমার মধ্যে একশ গুণের একটি ভালো গুণও খুঁজে পেলাম না।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 লোকের প্রশংসায় কী আসে যায়, যদি জাহান্নামেই যেতে হয়?

📄 লোকের প্রশংসায় কী আসে যায়, যদি জাহান্নামেই যেতে হয়?


৩৫. ইউনুস ইবনে উবায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, একবার মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, মানুষ আমাকে যতই বড়ো এবং বুজুর্গ বলে মনে করে, এসবের কোনোটাই কাজে আসবে না, যদি আমার হাত ও পা একত্রে বেঁধে আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।

প্রকৃত জ্ঞানীগণ কখনই নিজের বর্তমান পদ-পদবির অহমিকায় লিপ্ত থাকেন না। বর্তমানে কোন অবস্থানে অধিষ্ঠিত আছেন, সেটার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন না। কেননা দুনিয়ার পদ-পদবি সবই ক্ষণস্থায়ী। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একজন ব্যক্তিকে যদি পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করে, কিন্তু পরকালে সে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ব্যর্থ হয়, তবে দুনিয়ার যাবতীয় पद-पदবি ও উপার্জিত সম্মান ব্যর্থ ও নিষ্ফল বলে প্রমাণিত হবে। এ কারণেই সালফে সালেহিনগণ সর্বদা পরকালের মর্যাদা ও সম্মানের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন, দুনিয়ার পদ-পদবি ও ইজ্জত-সম্মানকে বড়ো করে দেখতেন না এবং এটাকে সফলতার মাপকাঠি বলেও মনে করতেন না।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 মৃত্যুর পর আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

📄 মৃত্যুর পর আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?


৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি রাহিমাহুল্লাহ যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন তিনি লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে ভাইয়েরা! আমাকে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? ওই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, হয়তো জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাচ্ছ, নতুবা আল্লাহর ক্ষমার দিকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00