📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুর সময় যা করলেন

📄 সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুর সময় যা করলেন


৩০. আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহর মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে এলো তখন তিনি জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, আমার সামনে দুজন ব্যক্তিকে হাজির করো। নির্দেশ মোতাবেক তার সামনে আবুল আশহাব এবং হাম্মাদ ইবনে সালামা রাহিমাহুল্লাহকে হাজির করা হলো। হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, হে আবু সুফিয়ান! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আল্লাহর আজাব থেকে নিরাপদ, কেননা আপনি আল্লাহকে ভয় করতেন এবং তাঁর কাছে প্রতিদানের আশা করতেন। তিনি জবাবে বললেন, আমার মতো ব্যক্তি কি আল্লাহ তাআলার আজাব থেকে নিরাপদ ভাবতে পারে? আবু সালামা রাহিমাহুল্লাহ জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এটাই কামনা করি যে, তিনি আপনাকে নাজাত দেবেন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 পাপী যুবকের মসজিদে প্রবেশে সংকট এবং সুসংবাদ

📄 পাপী যুবকের মসজিদে প্রবেশে সংকট এবং সুসংবাদ


৩১. মালেক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বনি ইসরাইলের কিছু লোক তাদের ঈদের দিন মসজিদে সমবেত হয়েছিল। এই সময় জনৈক যুবক এসে মসজিদের দরজার সামনে দাঁড়ালো এবং মসজিদের বাইরে থেকেই বলতে লাগল, হে লোকসকল! আমি এমন এমন পাপী ব্যক্তি। আমার মতো পাপী ব্যক্তির জন্য তোমাদের সঙ্গে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়। এভাবে সেই যুবক নিজের আত্মাকে দোষারোপ ও তাচ্ছিল্য করে যেতে লাগল। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের নবীর কাছে ওহি পাঠালেন যে, এই যুবক সিদ্দিকগণের একজন।

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 তওয়াসুফরত একজন নারীর অনুশোচনা

📄 তওয়াসুফরত একজন নারীর অনুশোচনা


৩২. উহাইব ইবনে ওয়ারদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জনৈক নারী একবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে এসে বলতে লাগলেন, হে রব! দুনিয়ার সমস্ত স্বাদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, ফলাফল (পরিণতি) বাকি রয়ে গেছে। হে প্রভু! আপনার ইজ্জত ও সম্মানের দোহাই! আপনি হলেন আরহামুর রাহিমিন। হে রব! আমার পাপের শাস্তি আগুন বৈ কিছু নয়। আপনি আমাকে এই আগুন থেকে রক্ষা করুন।

তখন তার সঙ্গী একজন নারী তাকে বললেন, হে বোন! তুমি তো আজ তোমার রবের ঘরে প্রবেশ করেছ। তাই তোমার এত দুশ্চিন্তা কেন? জবাবে তিনি তার দুই পায়ের দিকে ইশারা করে বললেন, আমার এই দুই পা দ্বারা পবিত্র ঘর তাওয়াফ করা তো দূরের কথা, তাওয়াফের এই পবিত্র স্থানে প্রবেশেরই যোগ্য নয়। কেননা আমি জানি আমার দুই পা কোথায় কোথায় বিচরণ করেছে এবং কোথায় কোথায় গমন করেছে। সুতরাং আমি কীভাবে নিজেকে আমার রবের আজাব থেকে নিরাপদ ও মুক্ত মনে করতে পারি?

📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 বাধকে বললেন, অন্যখানে জীবিকা তালাশ করো

📄 বাধকে বললেন, অন্যখানে জীবিকা তালাশ করো


৩৩. জাফর ইবনে জায়েদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা একবার কাবুলের উদ্দেশ্যে জিহাদে বের হয়ে পড়লাম। বাহিনীতে সিলাহ ইবনে আশইয়াম নামের একজন সৈন্য ছিলেন। লোকজন এশার নামাজের সময় অবতরণ করলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। সেই সেনাটিও নামাজ পড়লেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি তার আমল প্রত্যক্ষ করব। তাই তার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখলাম। আমি খেয়াল করলাম, তিনি লোকদের অবচেতন হওয়ার অপেক্ষা করছেন।

এরপর যখন লোকদের চোখে নিদ্রা ঢলে পড়ল তখন তিনি লাফ দিয়ে উঠে পড়লেন এবং পাশের একটি পানির নালার কাছে গিয়ে হাজির হলেন। আমিও লুকিয়ে লুকিয়ে তার পেছনে পেছনে গেলাম। আমি দেখলাম, তিনি ওজু করলেন এবং পাশের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া শুরু করলেন। তিনি নামাজে এত নিমগ্ন হয়ে পড়লেন যে, তার মধ্যে কোনো নাড়াচাড়াই পরিলক্ষিত হলো না। এই সময়ে হঠাৎ একটি বাঘ এসে একেবারে তার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। আমি এই দৃশ্য দেখে একটি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর তিনি কিয়াম আদায় করে সেজদায় চলে গেলেন। আমি ভয় পেলাম, এখনই বুঝি বাঘটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। বাঘটি তার ওপর আক্রমণ করল না। যুবকটি খুব শান্ত-সুষ্ঠুভাবে নামাজ শেষ করে বললেন, হে বাঘ! তুমি অন্য কোথাও তোমার জীবিকা তালাশ করো।

তার কথায় বাঘটি সম্মতির লেজ নাড়াল এবং মুখ ঘুরিয়ে পাহাড়ের দিকে ফিরে গেল। আর যাওয়ার সময় এত জোরে গর্জন করল যে, মনে হলো তার গর্জনে পাহাড় টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

এরপর তিনি আবার নামাজে দাঁড়ালেন। খুব ধীরস্থিরে নামাজ আদায় করতে থাকলেন। এভাবে সুবহে সাদিক হয়ে গেল। সুবহে সাদিক হওয়ার প্রাক্কালে তিনি এত সুন্দর ও চমৎকার বাক্যে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন যে, আমি জীবনে এত সুন্দর প্রশংসাবাক্য আর কখনো শুনিনি।

এরপর তিনি দুআ করে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে আপনি জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। ব্যস, এতটুকুই আমার প্রার্থনা। আমি আপনার কাছে জান্নাতের দুআ করার সাহস রাখি না। আমার মতো ব্যক্তি কি আপনার জান্নাতের যোগ্য হতে পারে?'

এরপর যখন প্রভাতের আলো ফোটার লক্ষণ প্রকাশ পেল তখন তিনি নিজ বাহিনীতে চুপিসারে ফিরে এলেন এবং এমনভাবে সকলের সঙ্গে মিশে গেলেন, যেন এতক্ষণ আরামদায়ক বিছানায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন! অথচ আমি নামাজ না পড়েই এত ক্লান্ত ছিলাম যে, নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলাম না, বার বার ক্লান্তির কোলে ঢলে পড়ছিলাম!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00