📄 নেককারদের কথা স্মরণ করে নিজের ত্রুটির কারণে ঘৃণাবোধ
২৭. মালিক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বুজুর্গানে কেরামের কথা মনে করি। মনে করে নিজের জন্য আফসোস, দুঃখ ও ঘৃণা হয়।
📄 সালফে সালেহিনদের সঙ্গে নিজের আমলের তুলনা
২৮. আবু আইয়ুব সিখতিয়ানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার সামনে যখন সালেহিনদের আলোচনা করা হয়, তখন আমি নিজেকে তাদের থেকে বহুদূরের বাসিন্দা বলে মনে করি। তখন নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হয়। নিজেকে তাদের কাতারে শামিল ভাবার দুঃসাহস হয় না।
📄 ভালো মানুষদের কাতারে শামিল না হওয়ার ভয়ে ক্রন্দন
২৯. সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ও বুজুর্গানে কেরামের একজন। তিনি বলেন, আমি একদিন হাদিস বর্ণনা করতে বসলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন সাইদ ইবনে সায়েব তায়েফি রাহিমাহুল্লাহ। আমি হাদিস বর্ণনা করা শুরু করলে সাঈদ কান্না শুরু করে দিলেন। তার কান্নার আধিক্যে আমি তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু সাঈদ! আমি যখন নেককার লোকদের কথা ও তাদের আমলের কথা বলি, তখন আপনি কাঁদেন কেন?
তিনি জবাবে বললেন, হে আবু সুফিয়ান! যখন ভালো মানুষের ফজিলত ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করেন, তখন আমি দেখতে পাই যে, আমি তাদের কাতারে গণ্য নই। তখন কেন কাঁদব না? তার কথা শুনে সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। এটাই কান্নার উপযুক্ত কারণ।
📄 সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুর সময় যা করলেন
৩০. আব্দুল্লাহ ইবনে দাউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহর মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে এলো তখন তিনি জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, আমার সামনে দুজন ব্যক্তিকে হাজির করো। নির্দেশ মোতাবেক তার সামনে আবুল আশহাব এবং হাম্মাদ ইবনে সালামা রাহিমাহুল্লাহকে হাজির করা হলো। হাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, হে আবু সুফিয়ান! আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আপনি আল্লাহর আজাব থেকে নিরাপদ, কেননা আপনি আল্লাহকে ভয় করতেন এবং তাঁর কাছে প্রতিদানের আশা করতেন। তিনি জবাবে বললেন, আমার মতো ব্যক্তি কি আল্লাহ তাআলার আজাব থেকে নিরাপদ ভাবতে পারে? আবু সালামা রাহিমাহুল্লাহ জবাবে বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এটাই কামনা করি যে, তিনি আপনাকে নাজাত দেবেন।