📄 আরাফার ময়দানে নিজের কারণে অন্যদের দুআ কবুল না হওয়ার আশঙ্কায় অনুশোচনা
২৫. মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ আরাফার ময়দানে দুআ করে বলতেন, হে আল্লাহ! আমি একার কারণে সকল মানুষকে বঞ্চিত করবেন না।
অর্থাৎ নিজেকে এতটাই ক্ষুদ্র বলে মনে করতেন যে, নিজের কারণে অন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে চিন্তা করতেন। এভাবে নিজেকে মানবসমাজের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অধম মনে করতেন।
২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে বকর মুজানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি যখন আরাফার ময়দানে লাখ লাখ মানুষকে আল্লাহর কাছে দুআরত অবস্থায় দেখতে পাই, তখন মনে হয় আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের দুআই কবুল করতেন, যদি আমি তাদের মাঝে না থাকতাম! ভয় হয়, আমার কারণে না জানি তারা তাদের প্রার্থিত বিষয় থেকে বঞ্চিত হয়!
📄 নেককারদের কথা স্মরণ করে নিজের ত্রুটির কারণে ঘৃণাবোধ
২৭. মালিক ইবনে দিনার রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বুজুর্গানে কেরামের কথা মনে করি। মনে করে নিজের জন্য আফসোস, দুঃখ ও ঘৃণা হয়।
📄 সালফে সালেহিনদের সঙ্গে নিজের আমলের তুলনা
২৮. আবু আইয়ুব সিখতিয়ানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার সামনে যখন সালেহিনদের আলোচনা করা হয়, তখন আমি নিজেকে তাদের থেকে বহুদূরের বাসিন্দা বলে মনে করি। তখন নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হয়। নিজেকে তাদের কাতারে শামিল ভাবার দুঃসাহস হয় না।
📄 ভালো মানুষদের কাতারে শামিল না হওয়ার ভয়ে ক্রন্দন
২৯. সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ও বুজুর্গানে কেরামের একজন। তিনি বলেন, আমি একদিন হাদিস বর্ণনা করতে বসলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন সাইদ ইবনে সায়েব তায়েফি রাহিমাহুল্লাহ। আমি হাদিস বর্ণনা করা শুরু করলে সাঈদ কান্না শুরু করে দিলেন। তার কান্নার আধিক্যে আমি তাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু সাঈদ! আমি যখন নেককার লোকদের কথা ও তাদের আমলের কথা বলি, তখন আপনি কাঁদেন কেন?
তিনি জবাবে বললেন, হে আবু সুফিয়ান! যখন ভালো মানুষের ফজিলত ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করেন, তখন আমি দেখতে পাই যে, আমি তাদের কাতারে গণ্য নই। তখন কেন কাঁদব না? তার কথা শুনে সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। এটাই কান্নার উপযুক্ত কারণ।