📄 আবু বকর সিদ্দিক রাযি.-এর নিজ আত্মার প্রতি কঠোরতা
২২. আবু বকর সিদ্দিক রাযি. বলতেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ওয়াস্তে নিজের নফসের প্রতি কঠোরতা করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ক্রোধ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।
📄 দুনিয়ায় নিজ আত্মার সঙ্গে কঠোরতার সুফল
২৩. আবুদ দারদা রাযি. বলতেন, কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ফকিহ হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর জন্য মানুষের সঙ্গে প্রয়োজনে শত্রুতা করবে। আর মানুষের সঙ্গে যতটুকু শত্রুতা করবে তার চেয়ে শতগুণ বেশি নিজের নফসের সঙ্গে শত্রুতা করবে।
📄 নিজের পাপের কথা স্মরণ করে লোকদের সঙ্গে চলাফেরায় লজ্জাবোধ করা
২৪. মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, আমি যা করেছি তা যদি আমি স্মরণ না করতাম, তবে লোকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতাম।
অর্থাৎ তিনি বলতেন, আমি অতীতে যা করেছি, সেসব বিষয়ে যদি বেপরোয়া হতাম, সেসব কাজের জন্য যদি আমার লজ্জাবোধ না থাকত, তবে আমি ঘরে আত্মগোপন করে থাকতাম না, বরং সকলের সঙ্গে মিশতাম, একসঙ্গে চলাফেরা করতাম। কিন্তু আমার পাপ আমাকে সকলের সঙ্গে মিশতে বাধা দেয়, সংকোচ সৃষ্টি করে। তাই যথাসম্ভব আমি মানুষের সান্নিধ্য এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি এবং নির্জনে থাকি।
📄 আরাফার ময়দানে নিজের কারণে অন্যদের দুআ কবুল না হওয়ার আশঙ্কায় অনুশোচনা
২৫. মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ আরাফার ময়দানে দুআ করে বলতেন, হে আল্লাহ! আমি একার কারণে সকল মানুষকে বঞ্চিত করবেন না।
অর্থাৎ নিজেকে এতটাই ক্ষুদ্র বলে মনে করতেন যে, নিজের কারণে অন্য কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে চিন্তা করতেন। এভাবে নিজেকে মানবসমাজের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও অধম মনে করতেন।
২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে বকর মুজানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি যখন আরাফার ময়দানে লাখ লাখ মানুষকে আল্লাহর কাছে দুআরত অবস্থায় দেখতে পাই, তখন মনে হয় আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের দুআই কবুল করতেন, যদি আমি তাদের মাঝে না থাকতাম! ভয় হয়, আমার কারণে না জানি তারা তাদের প্রার্থিত বিষয় থেকে বঞ্চিত হয়!