📘 আত্মবিচার বিশুদ্ধ জীবনের ভিত্তি > 📄 পলায়নপর আত্মাকে আটকে রাখা

📄 পলায়নপর আত্মাকে আটকে রাখা


২১. আবু উমাইয়া গিফারি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি এক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। শত্রুবাহিনী সম্মুখে চলে এলে বাহিনীর মধ্যে চিৎকার ও চ্যাঁচামেচি শুরু হলো এবং মুসলিম বাহিনী নিজ বাহিনীর মধ্যে দৌড়ে ফিরে আসতে লাগল। আর সেদিন প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসও ছিল। আমার সামনে একজন ব্যক্তিকে দেখলাম তিনি অনঢ় রয়েছেন। আমার অশ্বের মাথা তার অশ্বের একেবারে লেজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যখন অন্যদের মধ্যে প্রচণ্ড ছোটাছুটি চলছিল তিনি তখন তার নিজের আত্মাকে সম্বোধন করে বলছিলেন : হে নফস! এ রকম আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধে তুমি অংশ নিয়েছিলে না? সেদিন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তুমি আমাকে বলেছিলে, বাড়িতে আমার স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবা রয়েছে? চলো ফিরে যাই। সেদিন আমি তোমার কথা মেনে নিয়েছিলাম, তোমার আনুগত্য করে ঘরে ফিরে গিয়েছিলাম। এরপর আরেকটি যুদ্ধে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল। সেদিনও তুমি আমাকে আমার পরিবারের কথা বলে ময়দান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলে। আমি সেদিনও তোমার আনুগত্য করেছিলাম। পূর্বের দুইদিন আমি তোমার আনুগত্য করেছি। কিন্তু আজ তোমাকে আমার অনুগত করব। আজ তোমাকে আমি পালাতে দেব না। আর আমি আজ সম্মুখে থেকে শত্রুর ওপর প্রচণ্ড হামলা করব। তোমাকে পিছপা হতে দেব না।

আবু উমাইয়া গিফারি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তিনি এভাবে প্রতিজ্ঞা করলে আমি নিয়ত করলাম, আমি তার অনুসরণ করব। তিনি কী করেন এবং তার প্রতিজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন করেন, তা দেখার আগ্রহ সৃষ্টি হলো আমার মধ্যে। তাই আমি তার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখলাম।

এরপর প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু হলো। শত্রুবাহিনী মুসলিমবাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমি লক্ষ করে দেখলাম, এই লোকটি সম্মুখ বাহিনীতে রয়েছেন এবং শত্রুর ওপর বীরবিক্রমে আক্রমণ করে চলেছেন। এভাবে যতবার মুসলিম বাহিনীর ওপর শত্রুপক্ষের আক্রমণ হলো, ততবার তিনি সম্মুখে থেকে শত্রুর মোকাবিলা করে বীরবিক্রমে শত্রুকে প্রতিহত করতে থাকলেন। এভাবে লড়তে লড়তে শেষ পর্যন্ত তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং শহিদ হয়ে গেলেন। আমি তার ও তার বাহন গুনে দেখলাম, ষাটটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00